০২:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরের ঝিকরগাছায় বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ছয়জনের মৃত্যু

সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
  • প্রকাশ : ১২:২৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২০
  • / 38

মোঃ নজরুল ইসলাম,যশোর 
যশোরের ঝিকরগাছায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ছয়জনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরো চারজন। মৃত্যুর কারণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর বিরুদ্ধে লুকোচুরির অভিযোগও পাওয়া গেছে।
মৃতরা হলেন উপজেলার রাজাপুর গ্রামের আবুল গাজীর ছেলে হাবিল গাজী (৬০), বর্ণি গ্রামের সুরোত আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৪০), হাজীরআলী গ্রামের মৃত গহর আলীর ছেলে আসমত আলী (৫০), পুরন্দরপুর গ্রামের মৃত ফকির ধোপার ছেলে হামিদুর রহমান (৫৫), রাজাপুর গ্রামের আলফাজের ছেলে নুর ইসলাম খোকা (৫৫) ও ঋষিপাড়ার মৃত রশিক লালের ছেলে নারায়ন (৫৫)।
ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে কাউরিয়া ঋষি পাড়ার মৃত সন্নাসী দাশের ছেলে রিপন দাস (৪০) ও নীল কুমারের ছেলে কিশোর দাস (৩২)। সকালে হাসপাতাল থেকে পালিয়েছে হাজিরআলী গ্রামের মৃত আবুল কালামের ছেলে সেলিম হোসেন (৩৪)।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন কিশোর দাস জানান, সোমবার সকালে তিনি রাজাপুর গ্রামের হাবিল গাজীর কাছ থেকে সাড়ে ৩ শ টাকায় এক বোতল অ্যালকোহল কিনে বাড়িতে এসে চাচি দুখিনি দাস ও সে পান করে। তার কিছুক্ষণ পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। পূর্বেও সে তার বাড়ি থেকে নেশাদ্রব্য কিনেছে বলে জানায়। 
গুরুতর অসুস্থ নাফিজ হোসেন নামে আরেকজন জানিয়েছেন, সোমবার সকালে রাজাপুর গ্রামের জলিল সর্দারের ছেলে মিন্টুর নিকট থেকে অ্যালকোহল কিনে সে, নুর ইসলাম খোকা, নারায়ণ ও হামিদুর পান করে। বাড়িতে আসার কিছুক্ষণের মধ্যে তিনিসহ সকলেই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুর ইসলাম খোকা, হামিদুর ও নারায়ণ মারা যায়। ওই দিন গভীর রাতে তাদেরকে দাফন করা হয়। পরের দিন মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাবিল গাজী, ফারুক হোসেন ও আসমত আলী মারা যায়। 
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. রাশিদুল আলম জানিয়েছেন, সোমবার চারজন বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করে হাসপাতালে ভর্তি হন। একজনের অবস্থা অবনতি হলে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। আর একজন আজ সকালে হাসপাতাল থেকে পালিয়েছে।
থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, মৃতরা সকলেই কমবেশি বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করেছিল বলে খবর শোনা গেছে। তবে তাদের পরিবার বিষয়টি লুকিয়ে রেখেছিল। তিনি আরো জানান, মৃতবরণকারী হাবিল গাজী কিছুদিন আগে মাদক সস্ত্রীক আটক হয়েছিল। তার নামে একাধিক মামলা আছে। কিন্তু মৃত ব্যক্তিদের সকলকে হাসপাতাল থেকে হৃদরোগে মৃত্যু দেখিয়ে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

যশোরের ঝিকরগাছায় বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ছয়জনের মৃত্যু

প্রকাশ : ১২:২৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২০

মোঃ নজরুল ইসলাম,যশোর 
যশোরের ঝিকরগাছায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ছয়জনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরো চারজন। মৃত্যুর কারণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর বিরুদ্ধে লুকোচুরির অভিযোগও পাওয়া গেছে।
মৃতরা হলেন উপজেলার রাজাপুর গ্রামের আবুল গাজীর ছেলে হাবিল গাজী (৬০), বর্ণি গ্রামের সুরোত আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৪০), হাজীরআলী গ্রামের মৃত গহর আলীর ছেলে আসমত আলী (৫০), পুরন্দরপুর গ্রামের মৃত ফকির ধোপার ছেলে হামিদুর রহমান (৫৫), রাজাপুর গ্রামের আলফাজের ছেলে নুর ইসলাম খোকা (৫৫) ও ঋষিপাড়ার মৃত রশিক লালের ছেলে নারায়ন (৫৫)।
ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে কাউরিয়া ঋষি পাড়ার মৃত সন্নাসী দাশের ছেলে রিপন দাস (৪০) ও নীল কুমারের ছেলে কিশোর দাস (৩২)। সকালে হাসপাতাল থেকে পালিয়েছে হাজিরআলী গ্রামের মৃত আবুল কালামের ছেলে সেলিম হোসেন (৩৪)।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন কিশোর দাস জানান, সোমবার সকালে তিনি রাজাপুর গ্রামের হাবিল গাজীর কাছ থেকে সাড়ে ৩ শ টাকায় এক বোতল অ্যালকোহল কিনে বাড়িতে এসে চাচি দুখিনি দাস ও সে পান করে। তার কিছুক্ষণ পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। পূর্বেও সে তার বাড়ি থেকে নেশাদ্রব্য কিনেছে বলে জানায়। 
গুরুতর অসুস্থ নাফিজ হোসেন নামে আরেকজন জানিয়েছেন, সোমবার সকালে রাজাপুর গ্রামের জলিল সর্দারের ছেলে মিন্টুর নিকট থেকে অ্যালকোহল কিনে সে, নুর ইসলাম খোকা, নারায়ণ ও হামিদুর পান করে। বাড়িতে আসার কিছুক্ষণের মধ্যে তিনিসহ সকলেই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুর ইসলাম খোকা, হামিদুর ও নারায়ণ মারা যায়। ওই দিন গভীর রাতে তাদেরকে দাফন করা হয়। পরের দিন মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাবিল গাজী, ফারুক হোসেন ও আসমত আলী মারা যায়। 
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. রাশিদুল আলম জানিয়েছেন, সোমবার চারজন বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করে হাসপাতালে ভর্তি হন। একজনের অবস্থা অবনতি হলে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। আর একজন আজ সকালে হাসপাতাল থেকে পালিয়েছে।
থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, মৃতরা সকলেই কমবেশি বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করেছিল বলে খবর শোনা গেছে। তবে তাদের পরিবার বিষয়টি লুকিয়ে রেখেছিল। তিনি আরো জানান, মৃতবরণকারী হাবিল গাজী কিছুদিন আগে মাদক সস্ত্রীক আটক হয়েছিল। তার নামে একাধিক মামলা আছে। কিন্তু মৃত ব্যক্তিদের সকলকে হাসপাতাল থেকে হৃদরোগে মৃত্যু দেখিয়ে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।