১২:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহেশখালীর মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে পেন্টাওশান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
  • প্রকাশ : ১০:১১:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২০
  • / 45



মোঃ সাহাব উদ্দিন,কক্সবাজার
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত স্থানীয় শ্রমিকদের দফায় দফায় চাকরীচ্যুত করায় বিভিন্ন পরিবারের মাঝে চলছে বুক ফাটা আর্তনাদ। কিন্তু কার কথা কে শুনে।
 চাকরী হারা লোকজনের অভিযোগ পেন্টাশন কোম্পানিতে কর্মরত এডমিন অফিসার মোহাম্মদ শাহরিয়ার এর নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট এসব কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। করোনা মহামারীতে দেশে চলছে লকডাউন। 
এ কারণে দেশ আজ বিপদগ্রস্ত। কিন্তু এ ক্লান্তিকালে স্থানীয়দের চাকরীচ্যুত করা অর্থের বিনিময়ে বহিরাগতরা চাকরী করার সুযোগ পাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানিয় চাকরিচ্যুত লোকজনের।
তাদের অভিযোগ এ সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে দিচ্ছেন পেন্টাশনের এডমিন অফিসার মোহাম্মদ শাহরিয়া। উপজেলার কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পেন্টাশনে কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহরিয়ার বিরুদ্ধে অহরহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। 
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ- চাকরির আড়ালে নিজস্ব লোকজনের নামে প্রতিষ্ঠান খুলে নিজেই ঠিকাদারি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন । ঘুষের বিনিময়ে চাকরি দিচ্ছেন বহিরাগতদের। 
এছাড়া স্থানিয়দের চাকরিচ্যুত করে তার নিকটতম আত্মীয় স্বজন ও বহিরাগত লোকজনদের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করে চাকরি দিচ্ছেন। 
এতে স্থানিয় শ্রমিক ও অন্য ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভের ধানা বেঁধেছে। মহেশখালী উপজেলায় বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে মাতারবাড়ী এলাকা। ঘনবসতিপূর্ণ এ এলাকায় দুটি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প হচ্ছে। 
জাপানি সংস্থা জাইকার অর্থায়নে নির্মাণাধীন একটি প্রকল্পে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের মূল দায়িত্বে রয়েছে ১২টি আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এসব প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করছে ৩০টির বেশি সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিক ও স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পেন্টাশনের লিমিটেডের (এডমিন) অফিসার মোহাম্মদ শাহারিয়া দুর্নীতিতে জড়িত। 
তার নেতৃত্বে প্রকল্পে গড়ে তুলেছেন একটি অঘোষিত সিন্ডিকেট। নিজেদের লোকজনের নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খুলে বাগিয়ে নিচ্ছেন কাজ ও কোটি কোটি টাকা। ফলে স্থানীয় ঠিকাদাররা কোনো কাজ পাচ্ছেন না।
এছাড়া ও ইতিমধ্যে তিনি স্থানিয় শতাধিক চাকরিরত (কমন লেবারদের) গণহারে চাঁটাই করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মাতারবাড়ী সাইট পাড়ার বাসিন্দা আলী হোছাইন,মগডেইল গ্রামের আয়াত উল্লাহ,আসিফ ইকবাল,তৈয়ব ও অন্যান্য চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা বলেন, বিনা কারণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাঙালীর অফিসার পেন্টাশনের এডমিন শাহরিয়ার নেতৃত্বে আমাদেরকে চাঁটাই করা হয়েছে। 
প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পে স্থানিয়দের চাঁটাই করে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে বহিরাগতদের চাকরি দিয়ে সীমাহীন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন পেন্টাশনে এ কর্মকর্তা। অধিকতর প্রকাশ্য ও গোপণে তদন্ত করলে তার ব্যাপারে বেরিয়ে আসবে অজানা তথ্য।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, উক্ত প্রকল্পে জিও হারবাল কোম্পনীর ৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শ্রমিকদের টাকা নিয়ে চাঁটাই করলে স্থানিয় চেয়ারম্যান অভিযোক্ত এসব কর্মকর্তাদের ডেকে এনে শ্রমিকদের প্রায় ৯ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে দেওয়ার নজিরও রয়েছে। 
এছাড়া এডমিন অফিসার শাহরিয়া বিদেশীদে কর্মকর্তাদের কাছে মাতারবাড়ী লোকজনের ব্যাপারে ভূল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছেন বলে চাকরিচ্যুত শ্রমিক ও স্থানিয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। 
জানাগেছে, অভিযোক্ত বাঙ্গালি অফিসার শাহরিয়া পেন্টাশনে লিমিটেডে এডমিন পদে কর্মরর্ত থাকলেও তার ঘনিষ্টজনের নামে এস.এম,শ্যামলিমা ও ইনোগেশন নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্টান খুলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাগেছে। 
তার ব্যবসার ধরণ হচ্ছে ক্যাটারীণ ও কফি আইটেম।
মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য বার বার দাবী জানিয়ে আসলে ও তাতে সফলতা দেখা যাচ্ছে না। কোন কারণ ছাড়া চাঁটাই করা হচ্ছে স্থানিয় শ্রমজীবী মানুষদের। 
মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির এমডি মোহাম্মদ আযাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

মহেশখালীর মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে পেন্টাওশান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশ : ১০:১১:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২০



মোঃ সাহাব উদ্দিন,কক্সবাজার
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত স্থানীয় শ্রমিকদের দফায় দফায় চাকরীচ্যুত করায় বিভিন্ন পরিবারের মাঝে চলছে বুক ফাটা আর্তনাদ। কিন্তু কার কথা কে শুনে।
 চাকরী হারা লোকজনের অভিযোগ পেন্টাশন কোম্পানিতে কর্মরত এডমিন অফিসার মোহাম্মদ শাহরিয়ার এর নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট এসব কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। করোনা মহামারীতে দেশে চলছে লকডাউন। 
এ কারণে দেশ আজ বিপদগ্রস্ত। কিন্তু এ ক্লান্তিকালে স্থানীয়দের চাকরীচ্যুত করা অর্থের বিনিময়ে বহিরাগতরা চাকরী করার সুযোগ পাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানিয় চাকরিচ্যুত লোকজনের।
তাদের অভিযোগ এ সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে দিচ্ছেন পেন্টাশনের এডমিন অফিসার মোহাম্মদ শাহরিয়া। উপজেলার কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পেন্টাশনে কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহরিয়ার বিরুদ্ধে অহরহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। 
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ- চাকরির আড়ালে নিজস্ব লোকজনের নামে প্রতিষ্ঠান খুলে নিজেই ঠিকাদারি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন । ঘুষের বিনিময়ে চাকরি দিচ্ছেন বহিরাগতদের। 
এছাড়া স্থানিয়দের চাকরিচ্যুত করে তার নিকটতম আত্মীয় স্বজন ও বহিরাগত লোকজনদের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করে চাকরি দিচ্ছেন। 
এতে স্থানিয় শ্রমিক ও অন্য ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভের ধানা বেঁধেছে। মহেশখালী উপজেলায় বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে মাতারবাড়ী এলাকা। ঘনবসতিপূর্ণ এ এলাকায় দুটি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প হচ্ছে। 
জাপানি সংস্থা জাইকার অর্থায়নে নির্মাণাধীন একটি প্রকল্পে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের মূল দায়িত্বে রয়েছে ১২টি আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এসব প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করছে ৩০টির বেশি সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিক ও স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পেন্টাশনের লিমিটেডের (এডমিন) অফিসার মোহাম্মদ শাহারিয়া দুর্নীতিতে জড়িত। 
তার নেতৃত্বে প্রকল্পে গড়ে তুলেছেন একটি অঘোষিত সিন্ডিকেট। নিজেদের লোকজনের নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খুলে বাগিয়ে নিচ্ছেন কাজ ও কোটি কোটি টাকা। ফলে স্থানীয় ঠিকাদাররা কোনো কাজ পাচ্ছেন না।
এছাড়া ও ইতিমধ্যে তিনি স্থানিয় শতাধিক চাকরিরত (কমন লেবারদের) গণহারে চাঁটাই করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মাতারবাড়ী সাইট পাড়ার বাসিন্দা আলী হোছাইন,মগডেইল গ্রামের আয়াত উল্লাহ,আসিফ ইকবাল,তৈয়ব ও অন্যান্য চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা বলেন, বিনা কারণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাঙালীর অফিসার পেন্টাশনের এডমিন শাহরিয়ার নেতৃত্বে আমাদেরকে চাঁটাই করা হয়েছে। 
প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পে স্থানিয়দের চাঁটাই করে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে বহিরাগতদের চাকরি দিয়ে সীমাহীন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন পেন্টাশনে এ কর্মকর্তা। অধিকতর প্রকাশ্য ও গোপণে তদন্ত করলে তার ব্যাপারে বেরিয়ে আসবে অজানা তথ্য।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, উক্ত প্রকল্পে জিও হারবাল কোম্পনীর ৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শ্রমিকদের টাকা নিয়ে চাঁটাই করলে স্থানিয় চেয়ারম্যান অভিযোক্ত এসব কর্মকর্তাদের ডেকে এনে শ্রমিকদের প্রায় ৯ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে দেওয়ার নজিরও রয়েছে। 
এছাড়া এডমিন অফিসার শাহরিয়া বিদেশীদে কর্মকর্তাদের কাছে মাতারবাড়ী লোকজনের ব্যাপারে ভূল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছেন বলে চাকরিচ্যুত শ্রমিক ও স্থানিয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। 
জানাগেছে, অভিযোক্ত বাঙ্গালি অফিসার শাহরিয়া পেন্টাশনে লিমিটেডে এডমিন পদে কর্মরর্ত থাকলেও তার ঘনিষ্টজনের নামে এস.এম,শ্যামলিমা ও ইনোগেশন নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্টান খুলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাগেছে। 
তার ব্যবসার ধরণ হচ্ছে ক্যাটারীণ ও কফি আইটেম।
মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য বার বার দাবী জানিয়ে আসলে ও তাতে সফলতা দেখা যাচ্ছে না। কোন কারণ ছাড়া চাঁটাই করা হচ্ছে স্থানিয় শ্রমজীবী মানুষদের। 
মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির এমডি মোহাম্মদ আযাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।