০১:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবহেলিত কৃষি পণ্য হিসেবে এখনো টিকে আছে পান

সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
  • প্রকাশ : ০৬:০৬:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২০
  • / 40

মোঃ সাহাব উদ্দিন,কক্সবাজার
কোন সরকারি প্রণোদনা ও সহায়তার ধার না ধারে স্থানীয় কৃষকের নিজস্ব উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় পান উৎপাদন করে আজ জাতীয় অর্থনীতিতে  উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান “ইত্যাদি” র ২০১৭ সালের এক অনুসারে মহেশখালীতে সপ্তাহে ১৮ কোটি টাকার মত পান বেচাকেনা হয়। এটা কোন গবেষণাধর্মী রিপোর্ট না, তবে এর বেশি হবে কম না। সময় অনেক গড়িয়েছে এখন পানের উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পেয়েছে সাপ্তাহিক বেচাকেনায় পূর্বের হিসাবকে দুই-তিন গুণ বেশি ছাড়িয়ে যাবে নিঃসন্দেহে। 
এতদঅঞ্চলের পাহাড়ী মৃত্তিকা সহায়ক বিকল্প কৃষি ফসল উদ্ভাবিত না হওয়ায় কৃষক জীবন জিবিকার তাগিদে দিন দিন পান উৎপাদনের দিকে ঝুকে পড়তেছে। কিন্তু উৎপাদিত ফসলের (পান) ন্যায্য মূল্য নিয়ে কৃষকের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে, অভিযোগ রয়েছে এক শ্রেণীর দালাল, ফড়িয়ার বিরুদ্ধে, যারা কৃষকের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নিজেদের ফায়দা লুটে নেয়। যার কারনে কৃষকরা হয় ক্ষতিগ্রস্ত। তাদের কারনে পানের দাম কমতে কমতে বর্তমানে এমন পর্যায়ে নেমেছে লাভ তো দুরের কথা কৃষকের উৎপাদন খরচ তোলা দায় হয়ে পড়েছে। 
পান নিয়ে নীতিনির্ধারক মহলে ও এক প্রকার উদাসীনতা পরিলক্ষিত। নব্বই র দশকে এনিয়ে ব্যাপক আন্দোলন হয়েছিল, দাবী উঠেছিল পান বোর্ড গঠন করা, পানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষককে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের জন্য। রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারক মহলের তেমন সহযোগিতা না পাওয়ায় দাবীগুলো আর বাস্তবায়িত হয় নাই।
মহেশখালীর মিষ্টি পানের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে। এত চাহিদা থাকার সত্বেও অতি মুনাফলোভি কিছু ব্যাবসায়ী ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে কৃষকেরা আজ অসহায়। তাদের কারসাজিতে পানের বাজার (দাম) উঠানামা করে। তাদের হাতে কৃষকের নিয়তি। দালাল মুক্ত বিকল্প বাজার চিন্তা করার সময় এসেছে। সারাবিশ্ব পন্য বিপণনে অনলাইন র দিকে ঝুকে পড়তেছে। স্থানীয় উদ্যমী তরুণেরা চাইলে এগিয়ে আসতে পারে। ইতিমধ্যে অনলাইনে অর্গানিক শুটকির স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে ব্যাপক বাজার সৃষ্টি হয়েছে। 

Please Share This Post in Your Social Media

অবহেলিত কৃষি পণ্য হিসেবে এখনো টিকে আছে পান

প্রকাশ : ০৬:০৬:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২০

মোঃ সাহাব উদ্দিন,কক্সবাজার
কোন সরকারি প্রণোদনা ও সহায়তার ধার না ধারে স্থানীয় কৃষকের নিজস্ব উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় পান উৎপাদন করে আজ জাতীয় অর্থনীতিতে  উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান “ইত্যাদি” র ২০১৭ সালের এক অনুসারে মহেশখালীতে সপ্তাহে ১৮ কোটি টাকার মত পান বেচাকেনা হয়। এটা কোন গবেষণাধর্মী রিপোর্ট না, তবে এর বেশি হবে কম না। সময় অনেক গড়িয়েছে এখন পানের উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পেয়েছে সাপ্তাহিক বেচাকেনায় পূর্বের হিসাবকে দুই-তিন গুণ বেশি ছাড়িয়ে যাবে নিঃসন্দেহে। 
এতদঅঞ্চলের পাহাড়ী মৃত্তিকা সহায়ক বিকল্প কৃষি ফসল উদ্ভাবিত না হওয়ায় কৃষক জীবন জিবিকার তাগিদে দিন দিন পান উৎপাদনের দিকে ঝুকে পড়তেছে। কিন্তু উৎপাদিত ফসলের (পান) ন্যায্য মূল্য নিয়ে কৃষকের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে, অভিযোগ রয়েছে এক শ্রেণীর দালাল, ফড়িয়ার বিরুদ্ধে, যারা কৃষকের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নিজেদের ফায়দা লুটে নেয়। যার কারনে কৃষকরা হয় ক্ষতিগ্রস্ত। তাদের কারনে পানের দাম কমতে কমতে বর্তমানে এমন পর্যায়ে নেমেছে লাভ তো দুরের কথা কৃষকের উৎপাদন খরচ তোলা দায় হয়ে পড়েছে। 
পান নিয়ে নীতিনির্ধারক মহলে ও এক প্রকার উদাসীনতা পরিলক্ষিত। নব্বই র দশকে এনিয়ে ব্যাপক আন্দোলন হয়েছিল, দাবী উঠেছিল পান বোর্ড গঠন করা, পানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষককে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের জন্য। রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারক মহলের তেমন সহযোগিতা না পাওয়ায় দাবীগুলো আর বাস্তবায়িত হয় নাই।
মহেশখালীর মিষ্টি পানের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে। এত চাহিদা থাকার সত্বেও অতি মুনাফলোভি কিছু ব্যাবসায়ী ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে কৃষকেরা আজ অসহায়। তাদের কারসাজিতে পানের বাজার (দাম) উঠানামা করে। তাদের হাতে কৃষকের নিয়তি। দালাল মুক্ত বিকল্প বাজার চিন্তা করার সময় এসেছে। সারাবিশ্ব পন্য বিপণনে অনলাইন র দিকে ঝুকে পড়তেছে। স্থানীয় উদ্যমী তরুণেরা চাইলে এগিয়ে আসতে পারে। ইতিমধ্যে অনলাইনে অর্গানিক শুটকির স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে ব্যাপক বাজার সৃষ্টি হয়েছে।