১২:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আম্পানের আঘাতে খোলা আকাশের নিচে বেনাপোলে হাজারো মানুষ
সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
- প্রকাশ : ১১:৫১:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২০
- / 44
নজরুল ইসলাম,বেনাপোল(যশোর)
সুপার সাইক্লোন আম্পান করোনা পরিস্থিতির মধ্যে অধিক শক্তিশালী হয়ে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে জনজীবন। বাড়িঘর উড়িয়ে করেছে নিরাশ্রয়। বেনাপোল পৌরসভাসহ শার্শা উপজেলায় হাজার হাজার মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এখনো আসেনি সাহায্যের কোনো ত্রাণসামগ্রী। বিশেষ করে বস্তিবাসী খোলা আকাশের নিচে ট্রেন লাইনে রাত কাটাচ্ছেন। রোদ বৃষ্টি বয়ে চলেছে তাদের শরীরের উপর দিয়ে।
ঈদের আনন্দও তাদের ধুলোয় মিশে গিয়েছে। একদিকে করোনা আতঙ্কে কর্মহীন মানুষ ঘরবন্দি হয়ে আছে। অন্যদিকে আম্পানের মতো এত বড় ঝড় বয়ে যাওয়ায় মানুষ হতাশ হয়ে পড়েছে। বেনাপোল ভবেরবেড় রেলের বস্তিতে বসবাসরত মানুষের ঘরবাড়ি উড়িয়ে বাড়িহারা করেছে হাজার হাজার মানুষের। সেই সাথে শাহিন নামে একজনের প্রাণও কেড়ে নিয়েছে।
এসব খবরে বেনাপোল পৌরমেয়র জরুরি ভিত্তিতে সেখানে ঈদ উপহারসামগ্রী ও খাদ্যসামগ্রী পাঠিয়েছিল। কিন্তু এসব মানুষের খাদ্যের পাশাপাশি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে গৃহ নির্মাণের। হাতে টাকা নেই, করোনার জন্য কাজ নেই। ছোট ছেলেমেয়ে ও বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে পড়েছে বিপাকে এসব পরিবারের গৃহকর্তারা।
এসব মানুষের পালিত হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলও হয়ে পড়েছে বাসস্থান শূন্য। এসব পশুপাখিও খাদের অভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ঝড় আম্পানের আঘাতে বেনাপোল পৌরসভার প্রতিটি গ্রামসহ শার্শা উপজেলা ও ১৮২টি গ্রামে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে হাজার কোটি টাকার উপরে। এই উপজেলার প্রায় গ্রামে আছে গরুর খামার। আছে আম চাষ। শত শত বিঘা আম ও লেবু চাষিদের লেবু পড়ে গাছতলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কেউ নেই এসব কাঁচা আম নেওয়ার। বাজারেও নেই কাঁচা আমের চাহিদা। গরু, আম ও লেবু চাষি পুটখালী গ্রামের নাসির উদ্দিন বলেন, আমার প্রায় কোটি টাকার উপরে ক্ষতি হয়েছে। ৩০ বিঘা জমির আম, ৮ বিঘা জমির লেবু ও ৬টি গরুর খামার ঝড়ে ভেঙে দুমড়ে মুচড়ে গেছে। কয়েকটি গরুর পা ভেঙে গেছে। সব মিলিয়ে কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।
বেনাপোল পৌরসভার ভবেরবেড় গ্রামের খায়রুন নাহার, সুফিয়া বেগম, পিক্কা খান, রাবেয়া বেগম তরিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের ঘরে কিছু নেই। সরকারি ট্রেন লাইনের পাশে ছোট ছোট ঘর বেঁধে আমরা বসবাস করি পরিবার পরিজন নিয়ে। ঝড়ে ঘরের সাথে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও উড়িয়ে নিয়ে এলোমেলো করে ফেলেছে। আমরা এখন ট্রেন লাইনের উপর রাত কাটাচ্ছি। বৃষ্টি-রোদ সব কিছু আমাদের গায়ের উপর দিয়ে বয়ে গেছে।
আওয়ামী লীগ নেতা আছাদুজ্জামান আছাদ সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে তাদের নাম ও ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে গেছে বলে তারা জানান। তবে এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জ্যোন্সাকে কোন খোঁজ নিতে দেখা যায়নি বলে তারা জানান।
ছলিমন নামে ভবেরবেড় বস্তির একজন ভিক্ষুক বলেন, আমাদের থাকার জায়গার ব্যবস্থা করে দিলে আমরা খুশি। আমরা খুব কষ্টে দিন যাপন করছি।











