মোঃ কামরুল হাসান কাজল কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রাম পৌরসভার হরিকেশ মোড়ে ছুরিকাঘাতে রোস্তম আলী তোতা (৮০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জলিল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তে নেওয়াকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের মর্গে স্বজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে।
আজ শুক্রবার (১৮সেপ্টেম্বর )সকাল আনুমানিক ৯ঃ৩০ ঘটিকার দিকে হরিকেশ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রোস্তম আলী তোতা হরিকেশ কানিপাড়া এলাকার মৃত আলী মুন্সির ছেলে। আটক জলিল পার্শ্ববর্তী চর হরিকেশ এলাকার হাসান আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, জলিল মাদক সেবন করেন বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। তাকে মাদক সেবন থেকে বিরত থাকা এবং চুল বড় না রাখার জন্য রোস্তম আলী তোতা দীর্ঘদিন ধরে উপদেশ দিয়ে আসছিলেন।
স্থানীয়রা বলেন, ঘটনার সময় রোস্তম আলী হরিকেশ মোড়ে চা পান করছিলেন। এ সময় জলিল রিক্সা থেকে ছুরি এনে তার পেটে আঘাত করেন। পরে জলিল ছুরি নিয়ে প্রকাশ্যে হেঁটে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে বেধে রাখেন। একপর্যায়ে তাকে মারধরও করা হয়। পরে খবর পেয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জলিলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
গুরুতর আহত রোস্তম আলীকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দা আজহার আলী বলেন, দিবালোকে একজন মানুষকে ছুরি দিয়ে হত্যা করা হলো। জলিল সবসময় নেশাগ্রস্ত থাকে বলে আমরা জানি। এলাকায় মাদকের কেনাবেচা বন্ধ করতে বলা কি অপরাধ।
নিহতের লাশ কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের মর্গে নেওয়ার পর সেখানে স্বজন ও এলাকাবাসীর ভিড় জমে। তারা লাশের ময়নাতদন্ত না করার দাবি জানান। একপর্যায়ে লাশ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং মর্গের তালা ভাঙ্গার চেষ্টা করা হলে সেখানে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান পিপিএম, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেনসহ পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ স্বজনদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নেওয়া হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়রা জলিলকে আটক করার পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এদিকে রোস্তম আলী মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং একই সঙ্গে এলাকায় মাদক নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আলম হোসেন
Copyright © 2026 অন্যায়ের প্রতিবাদ. All rights reserved.