আক্কাস আলী খানররাজবাড়ী প্রতিনিধি,
‘কৃষক কার্ড থাকলে হাতে, সেবা মিলবে সাথে সাথে’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে কৃষি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সরকারি কৃষি সেবা, উপকরণ, প্রণোদনা, প্রশিক্ষণ, সেচসহ বিভিন্ন সুবিধা পর্যায়ক্রমে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোঃ শহিদুল ইসলাম, বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ হোসেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা গোলাম রসুল, উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম শওকত সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার ভূঁইয়াসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, কৃষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কৃষকদের সরকারি কৃষি সেবা সহজে ও দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কৃষি কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কৃষি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি সুবিধা ও সেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের তথ্যভিত্তিক সেবা প্রদান, কৃষি উপকরণ ও সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং কৃষকদের সঙ্গে কৃষি বিভাগের কার্যকর যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার রতন কুমার ঘোষ জানান, প্রথম ধাপে উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আড়কান্দি ব্লকের ১ হাজার ৯৬০ জন কৃষক কৃষি কার্ড পাবেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৭০৮ জন কৃষক সরকারিভাবে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে অনুদান বা প্রণোদনা সহায়তা পাবেন।
তিনি বলেন, ০ থেকে ২৪৯ শতাংশ জমির মালিক ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের এ সুবিধার আওতায় আনা হচ্ছে। তবে তুলনামূলক বেশি জমির মালিক ও মাঝারি কৃষকরা এ ধাপের সুবিধার আওতায় থাকছেন না।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা ও ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, কৃষিযন্ত্র, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি প্রশিক্ষণ এবং ফসলের রোগবালাই ও আবহাওয়া-সংক্রান্ত তথ্যসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের তথ্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আসবে। ফলে প্রকৃত কৃষক শনাক্তকরণ, সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং কৃষি বিভাগের সঙ্গে কৃষকদের সরাসরি যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার রতন কুমার ঘোষ আরও জানান, প্রথম ধাপের কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের পর পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম চালু করার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আলম হোসেন
Copyright © 2026 অন্যায়ের প্রতিবাদ. All rights reserved.