মোঃ কামরুল হাসান কাজল কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে রাজমাল্লীরহাট সিদ্দিকীয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায় চারটি পদে নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় আন্দোলনকারীদের চাপে মাদ্রাসাটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান পদ থেকে ইস্তফাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন বলে জানা গেছে।
আজ রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নে অবস্থিত মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সচেতন নাগরিক এর ব্যানারে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা মাদ্রাসার ল্যাব সহকারী, নৈশপ্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার দাবি জানান। একই সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজন এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার মানবণ্টনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশের দাবি তোলেন তারা।
মানববন্ধনে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য মাইদুল ইসলাম, বিদ্যুৎসাহী সদস্য দুলাল সরকার, প্রাক্তন ছাত্র সালমান ফারসিসহ স্থানীয়রা বক্তব্য দেন। এলাকাবাসীর পক্ষে কর্মসূচির আয়োজন করেন প্রাক্তন ছাত্র সালমান ফারসি।
পরে বিক্ষোভকারীরা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ থেকে মোখলেছুর রহমানের ইস্তফার দাবি জানিয়ে তার কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে বিক্ষোভকারীদের চাপের মুখে তিনি ইস্তফাপত্র লিখে তাতে স্বাক্ষর করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
ইস্তফাপত্রে উল্লেখ করেন, তিনি এর আগে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ থেকে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছিলেন, তবে তা মঞ্জুর করা হয়নি। বর্তমানে স্থানীয় লোকজন তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে পদত্যাগপত্র দাবি করায় তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সদ্য ইস্তফাপত্র দেওয়া শিক্ষক মোখলেছুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাদ্রাসার সভাপতি নুর আমিন গাজী বলেন, নিয়োগ এখনো হয়নি। মাদ্রাসায় প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপাল নেই। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এর আগে ইস্তফাপত্র দিয়েছিলেন, তবে কমিটি তা গ্রহণ করেনি। অনেক বিষয়েই কমিটির পক্ষ থেকে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
চারটি পদে নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়োগ হয়নি, শুধু বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ২৭ জন আবেদন করেছেন। এখনো ডিজির প্রতিনিধি নিয়োগ পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ দেননি।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ওপর হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে সভাপতি বলেন, শুনেছি আজ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাকে দুবার ঘুষি মারা হয়েছে। পাশাপাশি দাড়িয়ে থেকে তার কাছ থেকে ইস্তফাপত্র নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে আগামীকাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উভয় পক্ষকে ডেকেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আলম হোসেন
Copyright © 2026 অন্যায়ের প্রতিবাদ. All rights reserved.