
জেলা প্রতিনিধি-গোপালগঞ্জ।
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সদস্য সচিব ফাতেমা খাতুনের বিরুদ্ধে পিএইচডি সংক্রান্ত তথ্য জালিয়াতি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটি ব্যবস্থা নিলে তা মেনে নেয়ার কথা জানিয়েছেন অভিযুক্ত শিক্ষক ফাতেমা খাতুন।
প্রাপ্ত নথি ও সূত্রে জানা গেছে, ফাতেমা খাতুন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি ফেলোশিপ ট্রাস্টের আওতায় পিএইচডি গবেষণার জন্য শিক্ষা ছুটিতে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি গত ২২ আগস্ট ২০২৪ তারিখে কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়াই এবং ট্রাস্টকে অবহিত না করে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি দেশে অবস্থান করলেও গত মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত নিয়মিতভাবে বৈদেশিক হারে ‘লিভিং অ্যালাউন্স’ বিল গ্রহণ করে গেছেন, যা আইনত দণ্ডনীয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্টের গত ২৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের এক চিঠিতে জানানো হয়, অনুমতি ছাড়া দেশে অবস্থান করে অবৈধভাবে ৫ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন ওই শিক্ষিকা। উক্ত অর্থ গত ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিলেও ফাতেমা খাতুন তার পিএইচডি সনদের কপি, সুপারভাইজারের প্রত্যয়নপত্র এবং ফেলোশিপ ট্রাস্টের ছাড়পত্র জমা দেননি।
এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বারবার চিঠি দিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও তিনি কোনো সদুত্তর দেননি। এই পরিস্থিতিতে গত ০৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে ৫ সদস্যের একটি ‘সত্যানুসন্ধান কমিটি’ গঠন করা হয়। ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ড. মো. কামরুজ্জামানকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে পিএইচডি জালিয়াতি বা সরকারি অর্থ আত্মসাতের মতো অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুন জানান, আমার ডিগ্রি এখনো সম্পন্ন হয়নি, তবুও আমি ফেলোশিপ ট্রাস্টের অর্থ ফেরত দিয়েছি। যদিও আমি মৌখিকভাবে তাদেরকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম।
তদন্ত কমিটির বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুইবার আমাকে শোকজ দেয়, কিন্তু আমি লিখিত জবাব না দিলেও মৌখিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করি। যদিও আমার উচিত ছিল বিশ্ববিদ্যালয়কে সার্বিক বিষয়ে অবহিত করা। এখন তদন্ত কমিটি যদি আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়, আমি তা মেনে নিব। রেজিস্ট্রার ও তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ম. এনামুজ্জামান বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আলম হোসেন
Copyright © 2026 অন্যায়ের প্রতিবাদ. All rights reserved.