নিজস্ব প্রতিবেদক:
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিছুদিন পর থেকেই রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা যেন পরিণত হয়েছে ‘মিনি ক্যাসিনো’ জোনে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে অন্তত তিনটি স্থানে নিয়মিত বসছে জুয়ার আসর, যেখানে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে লাখ লাখ টাকার লেনদেন।


সরেজমিনে জানা যায়, ভাটারা থানাধীন নয়ানগর কমিশনার রোডে আন-নাজাত মাদ্রাসার বিপরীতে, বসুমতি এলাকায় একটি স্কুলসংলগ্ন দোকানের পাশে এবং কুড়িল বিশ্বরোডের একটি বাড়ির নিচতলায় গড়ে উঠেছে এসব অবৈধ জুয়ার আসর। স্থানীয় ভাষায় এগুলো ‘কাইট’ বা ‘আন্ডার-বাহার’ নামে পরিচিত।
সূত্র জানায়, প্রতিটি আসরে দৈনিক ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকার লেনদেন হয়। এর পাশাপাশি গড়ে উঠেছে মাদকের জমজমাট ‘সাইড বিজনেস’। ফলে জুয়া ও মাদকের এই যৌথ কারবারে জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, এমনকি উঠতি বয়সী কিশোর-যুবকরাও।
রাজনৈতিক ছত্রছায়ার অভিযোগ
স্থানীয়দের দাবি, এসব জুয়ার আসর পরিচালনায় ক্ষমতাসীন ও বিরোধী—উভয় দলের স্থানীয় কিছু নেতার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাদের মধ্যে ‘ক্যাসিনো আমান’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি এবং আরও কয়েকজন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠয়ের পাশে জুয়ার আসর, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা
বিশেষ করে বসুমতি এলাকায় আবুল খালেক মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে ‘কানা পলাশ’ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, স্কুলের পাশে এ ধরনের কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে।
নয়ানগরে জমজমাট ‘আন্ডার-বাহার’ জুয়ার আসর
নয়ানগরের ৩৪৯ নম্বর হোল্ডিংয়ের একটি তিনতলা ভবনের নিচতলায় প্রতিদিন বসছে ‘আন্ডার-বাহার’ জুয়ার আসর। গভীর রাত পর্যন্ত চলে লেনদেন, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে রহস্যজনক যাতায়াত ও সন্দেহজনক কার্যক্রম।
কুড়িল বিশ্বরোডেও একই চিত্র
ভাটারা থানার ১১১/১, কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও জুয়ার কার্যক্রম চলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়ভাবে রফিক ও ইব্রাহিম নামের দুই ব্যক্তি এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানা যায়।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগ পেলেই পুলিশ দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে। তবে অভিযান চালিয়েও অনেক সময় তেমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না বলেও দাবি করেন তিনি।
এলাকাবাসীর দাবি
স্থানীয়রা দ্রুত এসব অবৈধ জুয়ার আসর বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সামাজিক অবক্ষয় আরও বাড়বে এবং তরুণ সমাজ বিপথে চলে যাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আলম হোসেন
Copyright © 2026 অন্যায়ের প্রতিবাদ. All rights reserved.