০৩:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নীলফামারিতে প্রধানমন্ত্রীর ২৫০০ টাকা অনুদানের তালিকায় অনিয়ম: চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
  • প্রকাশ : ০৪:৫৬:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২০
  • / 68

অনলাইন ডেস্ক
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রণোদনার আড়াই হাজার টাকা প্রদানের তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগে ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানববন্ধন করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। সোমবার দুপুরে মাগুড়া চেকপোস্ট বাজারে রংপুর-জলঢাকা সড়কে ঘণ্টাব্যাপী ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যান মাহামুদুল হোসেন শিহাব মিঞা দরিদ্রদের বঞ্চিত করে সম্পদশালীদের ওই সুবিধা প্রদানে তালিকা দাখিল করেছেন। তালিকায় পাকা বাড়ি, ১৫ থেকে ২০ বিঘা কৃষি জমির মালিক, সচ্ছল ব্যবসায়ীসহ তার নিকট আত্মীয়-স্বজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তালিকার ২৫০ নম্বরে নাম থাকা ইউনিয়নের পাটোয়ারীপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হাইয়ের রয়েছে ২০ বিঘা কৃষি জমি ও আধাপাকা বাড়ি। তিনি এবারে আট বিঘা জমিতে ভুট্টা ও আট বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। রয়েছে হলুদ ও আদার চাষ। ওই কৃষকের নামে রয়েছে ১০ টাকা কেজি দরে চালের কার্ড। পাশাপাশি ২৬৬ নম্বরে নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ওই কৃষকের ছোটভাই আব্দুল মতিনের নাম। তারও রয়েছে আধাপাকা বাড়িসহ সম পরিমাণ কৃষি জমি।
তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, ওই দুই ব্যক্তি ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট আত্মীয়। একইভাবে ২৭০ নম্বরে নাম থাকা সরকারপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামও ২৬৭ নম্বরের শরিফুল ইসলামের আর্থিক সচ্ছলতা থাকলেও তালিকায় নাম উঠেছে তাদের।
এলাকাবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান শিহাব নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তার নামে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তার এমন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে স্থানীয় সরকারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এসব অনিয়ম নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তারা।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ইউনিয়নের পাটোয়ারীপাড়া গ্রামের সিদ্দিকা বেগম (৫৬) বলেন, আমি গরীব মানুষ হয়েও চেয়ারম্যান কোন সুযোগ সুবিধা দেয় না। কিন্তু সুবিধা পায় ধনীরা।
একই কথা বলেন মাগুড়া হাজীপাড়া গ্রামের মহসেনা বেগমসহ (৬০) সেখানে উপস্থিত অনেক সুবিধা বঞ্চিত।
এসময় মানববন্ধন চলাকালে সেখানে আসাদুজ্জামান হিরনের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা দেন তাজুল ইসলাম, আব্দুল লতিফ, কলেজ শিক্ষক আখতারুজ্জামান মিঠু প্রমুখ।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান মাহামুদুল হোসেন শিহাব মিঞা বলেন, আমি মে মাসের ১ তারিখে পত্র পেয়েছি, ৩ তারিখের মধ্যে তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছিল। ওই পত্রে প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনার আড়াই হাজার টাকা প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ ছিল না। ২০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা শুনেছিলাম সে সময়ে। আমি ওই সময় হোম কোয়ারেন্টিনে থাকলেও পরিষদের সভা করে ১০৭৩ জন প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিতের তালিকা প্রদান করেছি। এরপরই ওই তালিকা উপজেলা প্রশাসন দুইবার যাচাই করে চূড়ান্ত করেছে। কোন সম্পদশালী ব্যক্তি এ তালিকায় নেই। একটি কুচক্রী মহল কর্মসূচীকে ব্যাহত করার জন্য এধরণের অভিযোগ তুলছেন।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য যে গত ৩ জুন দৈনিক ইত্তেফাকে নীলফামারীতে প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনার তালিকায় সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম শিরোনামে প্রথম পাতার দুই কলামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

নীলফামারিতে প্রধানমন্ত্রীর ২৫০০ টাকা অনুদানের তালিকায় অনিয়ম: চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

প্রকাশ : ০৪:৫৬:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২০

অনলাইন ডেস্ক
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রণোদনার আড়াই হাজার টাকা প্রদানের তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগে ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানববন্ধন করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। সোমবার দুপুরে মাগুড়া চেকপোস্ট বাজারে রংপুর-জলঢাকা সড়কে ঘণ্টাব্যাপী ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যান মাহামুদুল হোসেন শিহাব মিঞা দরিদ্রদের বঞ্চিত করে সম্পদশালীদের ওই সুবিধা প্রদানে তালিকা দাখিল করেছেন। তালিকায় পাকা বাড়ি, ১৫ থেকে ২০ বিঘা কৃষি জমির মালিক, সচ্ছল ব্যবসায়ীসহ তার নিকট আত্মীয়-স্বজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তালিকার ২৫০ নম্বরে নাম থাকা ইউনিয়নের পাটোয়ারীপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হাইয়ের রয়েছে ২০ বিঘা কৃষি জমি ও আধাপাকা বাড়ি। তিনি এবারে আট বিঘা জমিতে ভুট্টা ও আট বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। রয়েছে হলুদ ও আদার চাষ। ওই কৃষকের নামে রয়েছে ১০ টাকা কেজি দরে চালের কার্ড। পাশাপাশি ২৬৬ নম্বরে নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ওই কৃষকের ছোটভাই আব্দুল মতিনের নাম। তারও রয়েছে আধাপাকা বাড়িসহ সম পরিমাণ কৃষি জমি।
তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, ওই দুই ব্যক্তি ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট আত্মীয়। একইভাবে ২৭০ নম্বরে নাম থাকা সরকারপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামও ২৬৭ নম্বরের শরিফুল ইসলামের আর্থিক সচ্ছলতা থাকলেও তালিকায় নাম উঠেছে তাদের।
এলাকাবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান শিহাব নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তার নামে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তার এমন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে স্থানীয় সরকারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এসব অনিয়ম নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তারা।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ইউনিয়নের পাটোয়ারীপাড়া গ্রামের সিদ্দিকা বেগম (৫৬) বলেন, আমি গরীব মানুষ হয়েও চেয়ারম্যান কোন সুযোগ সুবিধা দেয় না। কিন্তু সুবিধা পায় ধনীরা।
একই কথা বলেন মাগুড়া হাজীপাড়া গ্রামের মহসেনা বেগমসহ (৬০) সেখানে উপস্থিত অনেক সুবিধা বঞ্চিত।
এসময় মানববন্ধন চলাকালে সেখানে আসাদুজ্জামান হিরনের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা দেন তাজুল ইসলাম, আব্দুল লতিফ, কলেজ শিক্ষক আখতারুজ্জামান মিঠু প্রমুখ।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান মাহামুদুল হোসেন শিহাব মিঞা বলেন, আমি মে মাসের ১ তারিখে পত্র পেয়েছি, ৩ তারিখের মধ্যে তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছিল। ওই পত্রে প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনার আড়াই হাজার টাকা প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ ছিল না। ২০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা শুনেছিলাম সে সময়ে। আমি ওই সময় হোম কোয়ারেন্টিনে থাকলেও পরিষদের সভা করে ১০৭৩ জন প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিতের তালিকা প্রদান করেছি। এরপরই ওই তালিকা উপজেলা প্রশাসন দুইবার যাচাই করে চূড়ান্ত করেছে। কোন সম্পদশালী ব্যক্তি এ তালিকায় নেই। একটি কুচক্রী মহল কর্মসূচীকে ব্যাহত করার জন্য এধরণের অভিযোগ তুলছেন।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য যে গত ৩ জুন দৈনিক ইত্তেফাকে নীলফামারীতে প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনার তালিকায় সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম শিরোনামে প্রথম পাতার দুই কলামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।