০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
যশোরে মণিরামপুরে দুই মেম্বারের একাধিক নাম্বার ব্যবহার করে হতদরিদ্রদের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
- প্রকাশ : ১২:৩৫:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২০
- / 44
মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম,যশোর
মণিরামপুরে দরিদ্র ও কর্মহীনদের জন্য আড়াই হাজার টাকার মানবিক সহায়তার তালিকায় দুই ইউপি সদস্য ও তাদের প্রিয়জনদের মোবাইল নাম্বার পাওয়া গেছে।
অভিযোগ করা হচ্ছে, উপজেলার কাশিমনগর ইউপির এক নাম্বার ও দুই নাম্বার ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম ও নিখিল দাস হতদরিদ্রের নামের তালিকায় তাদের (উপকারভোগীদের) মোবাইল নম্বর না দিয়ে অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশে নিজের ও স্বজনদের মোবাইল নম্বর দিয়েছেন।
বিষয়টি জানাজানি হলে দুই মেম্বরের এমন কাজে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এলাকাবাসী। তাদের শাস্তির দাবিতে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
করোনাকালীন দুর্যোগে নিম্নআয়ের ও কর্মহীন মানুষের জন্য ঈদ উপলক্ষে ৫০ লাখ মানুষকে আড়াই হাজার টাকা মানবিক সহায়তার ঘোষণা দেয় সরকার। যার মধ্যে মণিরামপুরে তালিকা হয়েছে ১২ হাজার উপকারভোগীর।
মণিরামপুরের তালিকায় কাশিমনগর ইউপিতে নাম রয়েছে ৪২৮ জনের। যারমধ্যে এক নম্বর ওয়ার্ডে ৪৭ জন ও দুই নম্বর ওয়ার্ডে ৪৪ জনের তালিকা রয়েছে।
ইউএনও অফিসে অভিযোগপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া তালিকা খতিয়ে দেখা গেছে, কাশিমনগর ইউপির উপকারভোগীর তালিকার ৫৯ ও ৬৪ নম্বর ব্যক্তি তারক দাস ও খোকন দাস। এই দুই ব্যক্তির নিজের মোবাইল নাম্বার থাকলেও নিখিল মেম্বর তাদের নাম্বার না দিয়ে নিজের নাম্বার দিয়েছেন। ৮১ নম্বর তালিকার ব্যক্তি সুধির দাসের নামের বিপরীতে নিখিল তার স্ত্রীর ফোন নাম্বার দিয়েছেন।
এছাড়া ৫০, ৬৩, ৭৬ ও ৮৯ নম্বর তালিকার ব্যক্তিদের মোবাইল নাম্বার না দিয়ে নিজের অনুসারীদের নাম দিয়েছেন মেম্বার।
আর ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম তালিকার ৩২ নম্বর সিরিয়ালের ব্যক্তি শরিফুল ইসলামের নামের পাশে তার ফোন নাম্বার না দিয়ে নিজের নাম্বার দিয়েছেন। এছাড়া ১৮, ১৯, ২৪ ও ২৯ নম্বর ব্যক্তির নামের বিপরীতে মেম্বার শহিদুল নিজের নিকটজনদের মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করেছেন।
কাশিমনগর ইউপির তালিকার ৬৩ নম্বর সিরিয়ালের তালিকাভুক্ত পলাশ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার কাছে নিখিল মেম্বার নাম দেওয়ার কথা বলে ৫০০ টাকা চায়। আমি টাকা দিতে রাজি হইনি। আমার নিজের মোবাইল নাম্বার আছে। টাকা দিইনি বলে মেম্বার আমার নাম্বার বাদ দিয়ে নিজের অনুসারী দাউদ নামে একব্যক্তির মোবাইল নাম্বার দিয়েছেন।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য নিখিল দাস বলেন, ‘তালিকা করার সময় দ্রুত কাজ করতে হয়েছে। যাদের ফোন নম্বর ছিল না তাদের নামের পাশে আমার ও স্ত্রীর মোবাইল নম্বর দিয়েছি।’
যদিও নিখিলের তালিকার ৪৪ জনেরই ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আর শহিদুল মেম্বার দাবি করেন, ‘তালিকার ৩২ নাম্বার ব্যক্তি শরিফুল নিজেই তার নাম্বারের স্থানে আমার মোবাইল নাম্বার বসিয়েছে। আমি কিছু জানি না।’
অন্য চার নামের অভিযোগের ব্যাপারে শহিদুল মেম্বার বলেন, তাড়াতাড়ি কাজ করতে গিয়ে সমস্যা হয়েছে।
কাশিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান জিএম আহাদ আলী বলেন, তালিকা করার সময় সব মেম্বারকে স্বচ্ছতা বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া ছিল। যারা তালিকাভুক্ত হবেন তাদের মোবাইল নাম্বার দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তারপরও নিখিল ও শহিদুল তাদের মোবাইল নাম্বার তালিকায় দিয়ে গুরুতর অন্যায় করেছেন। এটা কোনোভাবে কাম্য নয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, ‘দুই মেম্বারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে তারা দায়ী হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











