১১:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার গ্রিন চর

সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
  • প্রকাশ : ০৫:৫৬:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২০
  • / 37

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চর আরজি পলাশবাড়ীতে যৌথ  উদ্যোগে চার একর জমির উপর গড়ে উঠেছে বিশাল ফলজ বাগান গ্রিন চর।
এতে করে কুড়িগ্রামে কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বারও উন্মোচিত হচ্ছে।

জানা যায়,  প্রকল্পটির শুরুতেই চারজন  উদ্যোক্তার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ১৪ লক্ষ টাকা মূলধন বিনিয়োগে গঠিত চরাঞ্চলে টেকসই জাত ফলজ বাগানের পরীক্ষামূলক “গ্রিন চর”প্রকল্পটি।
গ্রিন চরে ১০০০ থাই ৭ পেয়ারা,১০০০ বল সুন্দরী ও কাশ্মীরি আপেল কুল সমৃদ্ধ বাগান।
কুড়িগ্রামে চরাঞ্চলে ফলজ বাগান গড়ে না উঠার অন্যতম  কারন হলো বছরে একাধিকবার বন্যা ও দারিদ্রতা। এ বছরও ভয়াবহ বন্যার কবল থেকে রক্ষা পায়নি গ্রিন চর প্রকল্প। অনেক ফলজ গাছ মারা গেলেও কিন্তু পেয়ারা ও বরই গাছ গুলো অনেক সতেজ। অনেকে চরাঞ্চলে বাগান করার আগেই ভেবে নেয় “বন্যায় তো সব শেষ হবে”এই ভেবে পরে আর বাগান করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। প্রযুক্তির উন্নতির ফলে চরাঞ্চলে সবার পরিচিত  চাষ পদ্ধতি খুবই সহজলভ্য হয়ে গেছে, বন্যায় মারা যায়না কিন্তু বাজারে চাহিদা ও দাম অনেক বেশি, এমন তিনটি  ফল হল আম, বড়ই ও পেয়ারা। উন্নত জাতের এই ফল গুলোর চাষ বৃদ্ধি করে অল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়ার প্রত্যাশায় সকল চর সমৃদ্ধ এলাকার টেকসই উন্নয়ন করা সম্ভব। 
প্রকল্পটির দেওয়া তথ্যমতে,যে বছর রোপন করা হবে সে বছরেই ফলন পাওয়া যাবে। এক বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে বছরে সর্বোচ্চ ২ মে.টন বা ৫০ মন ধান উৎপন্ন হয়।অন্যদিকে একই পরিমাণ জমিতে সর্বনিম্ন ৪ মে.টন বা ১০০ মন পেয়ারা উৎপন্ন হয়। ধান ৬০০-৭০০টাকা/মণ আর পেয়ারা ১৬০০-২০০০ টাকা। অর্থাৎ পেয়ারা চাষে এক বিঘা জমি থেকে বছরে কমপক্ষে ১,৬০,০০০- ২,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব৷ 
তবে যথাসময়ে সঠিকভাবে  যত্ন নেয়া হয়, তাহলে একই জমি থেকে এর দ্বিগুণ অর্থ উপার্জন করা সম্ভব ।পাশাপাশি চরাঞ্চলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে৷ 
বর্তমানে আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের পেয়ারার চাষ হয় তন্মধ্যে থাই পেয়ারা-৭ হলো সবচেয়ে লাভজনক৷ এ পেয়ারার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি বারোমাসি পেয়ারা৷ থাই পেয়ারা-৭ এর আকার লম্বাটে গোলাকার, রঙ হলদে সবুজ, প্রতিটি পেয়ারার ওজন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম। পেয়ারা গাছ গুলোর উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত হয়। তবে ছাটাই করার মাধ্যমে এর বৃদ্ধি রহিত করে পার্শ্ব বৃদ্ধি করা হয়৷ ফুল ফোটা থেকে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত ৯০ দিন সময় লাগে। বীজ কম ও নরম। এ জাতের পেয়ারা বর্তমানে সব জায়গাতেই  ৭০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

উদ্যোক্তা মোঃ হাফিজ আল মাহমুদ মিলন জানান, হাইব্রিড জাতের পেঁপে লাগানো হয়েছিল, পেঁপে গাছে অনেক পেঁপে ধরেছিল কিন্তু আকস্মিক বন্যায় সকল পেঁপে গাছ মরে গেছে। তবে দুই মাস পূর্বে পেঁপে গাছ লাগানো হলে এই বন্যার সময় অনেকটা টিকে থাকতো বৈরী আবহাওয়া ও বন্যার পানির  প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে। কৃষি অফিস থেকে সঠিক সময়ে রোপনের পরামর্শ পর্যন্ত পাই নাই।
অন্যান্য উদ্যোক্তারা জানান, গ্রিন চর প্রকল্প থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে তা জেলায় পাঁচ শতাধিক চরাঞ্চল কিভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায় । বন্যা মোকাবিলা করে কি ভাবে চরাঞ্চলে ফলজ বাগান করা যায়  সেটাই মূল উদ্দেশ্য ।
আরও জানা য়ায়,গ্রিন চর প্রকল্পে  বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সমাধানে কৃষিবিদ মোঃ সাহিনুর ইসলাম  সকল ধরনের পরামর্শ প্রদান করেন।
এ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে শুধু  ড্রিপ ইরিগেশন ও স্প্রিংলার প্রদান করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে চরাঞ্চলে শিশু পুষ্টি ও গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টিহীনতা  অনেকটা দূর হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

কুড়িগ্রামে কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার গ্রিন চর

প্রকাশ : ০৫:৫৬:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২০

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চর আরজি পলাশবাড়ীতে যৌথ  উদ্যোগে চার একর জমির উপর গড়ে উঠেছে বিশাল ফলজ বাগান গ্রিন চর।
এতে করে কুড়িগ্রামে কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বারও উন্মোচিত হচ্ছে।

জানা যায়,  প্রকল্পটির শুরুতেই চারজন  উদ্যোক্তার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ১৪ লক্ষ টাকা মূলধন বিনিয়োগে গঠিত চরাঞ্চলে টেকসই জাত ফলজ বাগানের পরীক্ষামূলক “গ্রিন চর”প্রকল্পটি।
গ্রিন চরে ১০০০ থাই ৭ পেয়ারা,১০০০ বল সুন্দরী ও কাশ্মীরি আপেল কুল সমৃদ্ধ বাগান।
কুড়িগ্রামে চরাঞ্চলে ফলজ বাগান গড়ে না উঠার অন্যতম  কারন হলো বছরে একাধিকবার বন্যা ও দারিদ্রতা। এ বছরও ভয়াবহ বন্যার কবল থেকে রক্ষা পায়নি গ্রিন চর প্রকল্প। অনেক ফলজ গাছ মারা গেলেও কিন্তু পেয়ারা ও বরই গাছ গুলো অনেক সতেজ। অনেকে চরাঞ্চলে বাগান করার আগেই ভেবে নেয় “বন্যায় তো সব শেষ হবে”এই ভেবে পরে আর বাগান করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। প্রযুক্তির উন্নতির ফলে চরাঞ্চলে সবার পরিচিত  চাষ পদ্ধতি খুবই সহজলভ্য হয়ে গেছে, বন্যায় মারা যায়না কিন্তু বাজারে চাহিদা ও দাম অনেক বেশি, এমন তিনটি  ফল হল আম, বড়ই ও পেয়ারা। উন্নত জাতের এই ফল গুলোর চাষ বৃদ্ধি করে অল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়ার প্রত্যাশায় সকল চর সমৃদ্ধ এলাকার টেকসই উন্নয়ন করা সম্ভব। 
প্রকল্পটির দেওয়া তথ্যমতে,যে বছর রোপন করা হবে সে বছরেই ফলন পাওয়া যাবে। এক বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে বছরে সর্বোচ্চ ২ মে.টন বা ৫০ মন ধান উৎপন্ন হয়।অন্যদিকে একই পরিমাণ জমিতে সর্বনিম্ন ৪ মে.টন বা ১০০ মন পেয়ারা উৎপন্ন হয়। ধান ৬০০-৭০০টাকা/মণ আর পেয়ারা ১৬০০-২০০০ টাকা। অর্থাৎ পেয়ারা চাষে এক বিঘা জমি থেকে বছরে কমপক্ষে ১,৬০,০০০- ২,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব৷ 
তবে যথাসময়ে সঠিকভাবে  যত্ন নেয়া হয়, তাহলে একই জমি থেকে এর দ্বিগুণ অর্থ উপার্জন করা সম্ভব ।পাশাপাশি চরাঞ্চলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে৷ 
বর্তমানে আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের পেয়ারার চাষ হয় তন্মধ্যে থাই পেয়ারা-৭ হলো সবচেয়ে লাভজনক৷ এ পেয়ারার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি বারোমাসি পেয়ারা৷ থাই পেয়ারা-৭ এর আকার লম্বাটে গোলাকার, রঙ হলদে সবুজ, প্রতিটি পেয়ারার ওজন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম। পেয়ারা গাছ গুলোর উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত হয়। তবে ছাটাই করার মাধ্যমে এর বৃদ্ধি রহিত করে পার্শ্ব বৃদ্ধি করা হয়৷ ফুল ফোটা থেকে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত ৯০ দিন সময় লাগে। বীজ কম ও নরম। এ জাতের পেয়ারা বর্তমানে সব জায়গাতেই  ৭০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

উদ্যোক্তা মোঃ হাফিজ আল মাহমুদ মিলন জানান, হাইব্রিড জাতের পেঁপে লাগানো হয়েছিল, পেঁপে গাছে অনেক পেঁপে ধরেছিল কিন্তু আকস্মিক বন্যায় সকল পেঁপে গাছ মরে গেছে। তবে দুই মাস পূর্বে পেঁপে গাছ লাগানো হলে এই বন্যার সময় অনেকটা টিকে থাকতো বৈরী আবহাওয়া ও বন্যার পানির  প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে। কৃষি অফিস থেকে সঠিক সময়ে রোপনের পরামর্শ পর্যন্ত পাই নাই।
অন্যান্য উদ্যোক্তারা জানান, গ্রিন চর প্রকল্প থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে তা জেলায় পাঁচ শতাধিক চরাঞ্চল কিভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায় । বন্যা মোকাবিলা করে কি ভাবে চরাঞ্চলে ফলজ বাগান করা যায়  সেটাই মূল উদ্দেশ্য ।
আরও জানা য়ায়,গ্রিন চর প্রকল্পে  বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সমাধানে কৃষিবিদ মোঃ সাহিনুর ইসলাম  সকল ধরনের পরামর্শ প্রদান করেন।
এ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে শুধু  ড্রিপ ইরিগেশন ও স্প্রিংলার প্রদান করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে চরাঞ্চলে শিশু পুষ্টি ও গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টিহীনতা  অনেকটা দূর হবে।