০২:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদেশ গিয়েও দেশে মহামারী করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে কৃষকের ছেলে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহন করছেন মিজান

সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
  • প্রকাশ : ০৮:২৫:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০
  • / 41

মোস্তাকিম হোসেন,পাঁচবিবি(জয়পুরহাট)সংবাদদাতা
জ্ঞান অর্জন করতে সুদূর চীন দেশে গিয়েছেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার রতনপুর গ্রামের কৃষক আবু জাফর সরকারের একমাত্র ছেলে মিজানুর রহমান সরকার। 
সেখানে পড়ালেখার নিমিত্তে বিদেশ গিয়েও দেশের মানুষের জন্য অফুরন্ত ভালোবাসা তঁার। দেশে মহামারী করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে মিজান নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। সুদূর চীনে অবস্থান করেও মিজান স্টাইপেন্ডের জমানো টাকা মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে ঘরেবন্দি গরীব-অসহায় মানুষদের সহায়তা সামগ্রী ও ঈদ উপহার প্রদান করে যাচ্ছেন তিনি। চীন থেকে করোনা সনাক্তের কিট, জেলার সকল ডাক্তার, নার্স, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সাংবাদিকদের জন্য কহ ৯৫ মাস্ক, হেন্ড গ্লাভস ও পিপিই ইত্যাদি পাঠান তিনি। এছাড়া জেলায় করোনা সনাক্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে সহায়তা সামগ্রী প্রদানসহ করোনা মহামারি চলাকালিন তঁার ফেসবুক আইডির মাধ্যমে বিভিন্ন সচেতনতামুলক প্রচারও চালান মিজান। বাড়িতে গরুর খামার ও কয়েকটা গরু ক্রয় করে দেওয়ার কথা ছিল কিন্ত এরই মধ্যে শুরু হয় করোনা ভাইরাসের প্রভাব। প্রভাব পড়ায় জমানো সেই টাকা দিয়ে করোনা প্রতিরোধে খরচ করেছেন আমার ছেলে মিজানুর কথাগুলো বলেন, তাঁর মা মাহফুজা খাতুন।
২০১১ সালে মিজানুর গ্রামের রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও জয়পুরহাট সরকারি কলেজ থেকে ২০১৩ সালে সফলতার সাথে বিজ্ঞান বিভাগে হতে এইচএসসি পাশ করে। উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনের জন্য সে ঢাকার নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অবস্থায় চায়নিজ ও বাংলাদেশ ছাত্র এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মাধ্যমে চায়না সরকারের বৃত্তি পেয়ে পড়ালেখার উদ্দেশে চীন দেশে গমন করেন তিনি। মিজানুর বর্তমানে চায়নার জিয়াংসু রাজ্যের নানথোং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেক্টমেকানিকাল ইন্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিজান জানান, চায়নাতে পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন সেবামুলক ও শিক্ষনীয় কাজের সঙ্গে জড়িত সে।এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জাতিসংঘ অনুমোদিত স্বেচ্ছাসেবক, চায়নার রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্য ও ফিলিপাইনের একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যলয়ের স্টুডেন্ট কাউন্সিলর হিসাবে মোটিভিশনাল লেকচারারের দ্বায়িত্বও পালন করছে। এছাড়া চায়নাসহ বিভিন্ন দেশের কয়েকটি গবেষনা প্রজেক্টে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামুলক কাজে অবসর সময়ে নিজেকে জড়িত রাখে। লেখাপড়া শেষে ভবিষৎ জীবনে সে বিজ্ঞান নিয়ে গবেষনা করতে চায়। নিজের দেশের জন্য এভাবেই আরো বেশী বেশী সহায়তা ও সেবামুলক কাজে নিজেকে জড়িত রাখবে বলেও জানিয়েছেন মিজান।

পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাদিম সারওয়ার বলেন,ছাত্র জীবনেই যে তঁার এমন দেশের মানুষের জন্য মায়া-মমতা ও ভালবাসা সত্যিই সবার প্রশংসা কুড়ানোর দাবিদার।

Please Share This Post in Your Social Media

বিদেশ গিয়েও দেশে মহামারী করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে কৃষকের ছেলে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহন করছেন মিজান

প্রকাশ : ০৮:২৫:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০

মোস্তাকিম হোসেন,পাঁচবিবি(জয়পুরহাট)সংবাদদাতা
জ্ঞান অর্জন করতে সুদূর চীন দেশে গিয়েছেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার রতনপুর গ্রামের কৃষক আবু জাফর সরকারের একমাত্র ছেলে মিজানুর রহমান সরকার। 
সেখানে পড়ালেখার নিমিত্তে বিদেশ গিয়েও দেশের মানুষের জন্য অফুরন্ত ভালোবাসা তঁার। দেশে মহামারী করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে মিজান নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। সুদূর চীনে অবস্থান করেও মিজান স্টাইপেন্ডের জমানো টাকা মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে ঘরেবন্দি গরীব-অসহায় মানুষদের সহায়তা সামগ্রী ও ঈদ উপহার প্রদান করে যাচ্ছেন তিনি। চীন থেকে করোনা সনাক্তের কিট, জেলার সকল ডাক্তার, নার্স, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সাংবাদিকদের জন্য কহ ৯৫ মাস্ক, হেন্ড গ্লাভস ও পিপিই ইত্যাদি পাঠান তিনি। এছাড়া জেলায় করোনা সনাক্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে সহায়তা সামগ্রী প্রদানসহ করোনা মহামারি চলাকালিন তঁার ফেসবুক আইডির মাধ্যমে বিভিন্ন সচেতনতামুলক প্রচারও চালান মিজান। বাড়িতে গরুর খামার ও কয়েকটা গরু ক্রয় করে দেওয়ার কথা ছিল কিন্ত এরই মধ্যে শুরু হয় করোনা ভাইরাসের প্রভাব। প্রভাব পড়ায় জমানো সেই টাকা দিয়ে করোনা প্রতিরোধে খরচ করেছেন আমার ছেলে মিজানুর কথাগুলো বলেন, তাঁর মা মাহফুজা খাতুন।
২০১১ সালে মিজানুর গ্রামের রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও জয়পুরহাট সরকারি কলেজ থেকে ২০১৩ সালে সফলতার সাথে বিজ্ঞান বিভাগে হতে এইচএসসি পাশ করে। উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনের জন্য সে ঢাকার নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অবস্থায় চায়নিজ ও বাংলাদেশ ছাত্র এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মাধ্যমে চায়না সরকারের বৃত্তি পেয়ে পড়ালেখার উদ্দেশে চীন দেশে গমন করেন তিনি। মিজানুর বর্তমানে চায়নার জিয়াংসু রাজ্যের নানথোং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেক্টমেকানিকাল ইন্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিজান জানান, চায়নাতে পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন সেবামুলক ও শিক্ষনীয় কাজের সঙ্গে জড়িত সে।এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জাতিসংঘ অনুমোদিত স্বেচ্ছাসেবক, চায়নার রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্য ও ফিলিপাইনের একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যলয়ের স্টুডেন্ট কাউন্সিলর হিসাবে মোটিভিশনাল লেকচারারের দ্বায়িত্বও পালন করছে। এছাড়া চায়নাসহ বিভিন্ন দেশের কয়েকটি গবেষনা প্রজেক্টে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামুলক কাজে অবসর সময়ে নিজেকে জড়িত রাখে। লেখাপড়া শেষে ভবিষৎ জীবনে সে বিজ্ঞান নিয়ে গবেষনা করতে চায়। নিজের দেশের জন্য এভাবেই আরো বেশী বেশী সহায়তা ও সেবামুলক কাজে নিজেকে জড়িত রাখবে বলেও জানিয়েছেন মিজান।

পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাদিম সারওয়ার বলেন,ছাত্র জীবনেই যে তঁার এমন দেশের মানুষের জন্য মায়া-মমতা ও ভালবাসা সত্যিই সবার প্রশংসা কুড়ানোর দাবিদার।