০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
কুড়িগ্রামে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পুনরায় বন্যা হওয়ার আশঙ্কা
সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
- প্রকাশ : ০৫:২২:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০
- / 36
কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামে গত তিনদিনে ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ধরলা ও তিস্তার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দ্রুত গতিতে বাড়ছে ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানিও।
জেলা প্রশাসন , পানি উন্নয়ন বোর্ড ও আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী জেলার বড় ধরনের বন্যার আশংকা করছে । বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় চলছে জরুরী সভাও। প্রথম দফা বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় দফা বন্যার কবলে পড়ায় দু:চিন্তায় পড়েছেন চরাঞ্চলসহ নদ-নদীর অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষজন।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আরিফুল ইসলাম জানান, শনিবার বিকেল ৩ টায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ও তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলার পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের কালুয়া এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভাঙ্গনের হুমকীতে পড়েছে বলেও জানান তিনি। ধরলা ও তিস্তা নদীর অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদ-নদীর অববাহিকার নামাজের চর, দই খাওয়া চর, জাহাজের আলগা, মেকুরের আলগা, কাজিরচর, চর বাগুয়া, চর গুজিমারি , গোড়াই পিয়ার, চোর কলাকাটা , বালা ডোবাসহ নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় দু:চিন্তায় পড়েছেন সে সব এলাকায় বসবাসকারী মানুষজন। প্রথম দফায় বন্যায় চরাঞ্চলের গো খাদ্যের চরম সমস্যা দেখা দিয়েছিল।
উলিপুর উপজেলার বেগমগন্জ ইউনিয়নের আফতাবগঞ্জ সরকার পাড়া গ্রামের মতিউর রহমান জানান, বন্যা শেষ না হতেই আবারো বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ছে। এমনিতেই অবস্থা খারাপ হয়ে পড়েছে। আবারো বন্যা দীর্ঘ হলে কষ্টের শেষ থাকবে না।
উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: সিদ্দিক আলী মন্ডল জানান, গত মাসের শেষের দিকে জুন থেকে বন্যা শুরু হয়েছে সেই দুরবস্থা শেষ না হতেই তার উপর আবারও পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি আরো বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা স্থায়ী হলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে চরাঞ্চলের মানুষ ।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মো: রেজাউল করিম জানান, কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের সচিব জিয়াউল হাসান স্যার উপস্থিত ছিলেন। ইতিমধ্যে আমরা বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আমরা জরুরী সভায় জেলা ও সকল উপজেলার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে প্রস্তুত করে রেখেছি। বন্যায় যখন যা প্রয়োজনীয়তা দেখা দিবে তাই করা হবে।





















