১১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিললো রেকর্ড পরিমাণ টাকা

সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
  • প্রকাশ : ০১:০০:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / 79


নিজস্ব প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ
তিন মাস ২০ দিন পর কিশোরগঞ্জে পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো খুলে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, স্বর্ণসহ বিদেশি মুদ্রা পাওয়া গেছে। গুনে দেখা গেছে, এবার দানবাক্স থেকে পাওয়ার টাকার পরিমাণ ছয় কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ টাকা। যা এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এর আগে ১৯ আগস্টে দানবাক্সগুলো থেকে পাওয়া যায় পাঁচ কোটি ৭৮ লাখ ৯ হাজার ৩২৫ টাকা। এবার তার চেয়ে ৫৪ লাখ ৪২ হাজার ৯৮ টাকা বেশি পাওয়া গেছে। 
শনিবার রাতে গণনা শেষে পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য জানান।
জেলা প্রশাসক জানান, প্রতি তিন মাস পর পর দান বাক্সগুলো প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে খোলা হয়। এ মসজিদে মানত করলে মনোবাসনা পূরণ হয়, এমন বিশ্বাস থেকে দেশ-বিদেশের বহু মানুষ এ মসজিদের দান করে থাকেন। 

এর আগে সকালে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখের উপস্থিতিতে মসজিদের ৯টি দান বাক্স খোলা হয়। পরে টাকাগুলো ২৩টি বস্তায় ভরে মসজিদের দোতলায় নিয়ে গণনা করা হয়।
রূপালী ব্যাংকের উপ মহাব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলামসহ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মসজিদের এতিমখান ও মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীসহ দুই শতাধিক লোক গণনার কাজ করেন।
প্রায় ১৫ ঘণ্টা একটানা গণনা শেষে রাত পৌনে ১১টার দিকে গণনার কাজ শেষ হয়। সার্বিক নিরাপত্তায় আনসার ও ১০ পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন। পরে টাকাগুলো কঠোর নিরাপত্তায় রূপালী ব্যাংকে জমা করা হয়েছে। 
জেলা শহরের পশ্চিম প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে হারুয়া এলাকায় পাগলা মসজিদ। সুউচ্চ মিনার ও তিন গম্বুজ বিশিষ্ট তিন তলা পাগলা মসজিদটি কিশোরগঞ্জের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা। 
মসজিদকে ঘিরে মানুষের কৌতুহলের শেষ নেই। এ মসজিদে দান করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়- এ বিশ্বাস থেকেই পাগলা মসজিদে দেশ বিদেশের নানা ধর্ম ও বর্ণের মানুষ টাকা পয়সা, স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা দান করে থাকেন। অনেকে রাতে গোপনে এসে এ মসজিদে দান করেন বলে জানা গেছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, পাগলা মসজিদকে ঘিরে দেশ-বিদেশের মানুষের অনুভূতি কাজ করে। তাই সব ধর্মের মানুষ এখানে দান করে থাকেন। দানের এ টাকা দিয়ে শতকোটি টাকার একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নিমার্ণ করা হবে। অন্তত ৩০ হাজার মানুষ যাতে এক সঙ্গে নামাজ পড়তে পারে এমন একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নিমার্ণের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এছাড়া এ থেকে জেলার মসজিদ, মাদ্রাসা ও হতদরিদ্রদের চিকিৎসা খাতে অনুদান দেয়া হয়ে থাকে।
বাংলার বারো ভুঁইয়ার অন্যতম ঈশা খানের আমলে দেওয়ান জিলকদর খান ওরফে জিলকদর পাগলা নরসুন্দা নদীর তীরে বসে নামাজ আদায় করতেন। তিনি মারা যাওয়ার পর ভক্তরা সেখানে একটি মসজিদ নিমার্ণ করেন। জিলকদর পাগলার নামানুসারেই মসজিদটি ‘পাগলা মসজিদ’  হিসেবে পরিচিতি পায় বলে জানান স্থানীয়রা।

Please Share This Post in Your Social Media

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিললো রেকর্ড পরিমাণ টাকা

প্রকাশ : ০১:০০:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৩


নিজস্ব প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ
তিন মাস ২০ দিন পর কিশোরগঞ্জে পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো খুলে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, স্বর্ণসহ বিদেশি মুদ্রা পাওয়া গেছে। গুনে দেখা গেছে, এবার দানবাক্স থেকে পাওয়ার টাকার পরিমাণ ছয় কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ টাকা। যা এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এর আগে ১৯ আগস্টে দানবাক্সগুলো থেকে পাওয়া যায় পাঁচ কোটি ৭৮ লাখ ৯ হাজার ৩২৫ টাকা। এবার তার চেয়ে ৫৪ লাখ ৪২ হাজার ৯৮ টাকা বেশি পাওয়া গেছে। 
শনিবার রাতে গণনা শেষে পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য জানান।
জেলা প্রশাসক জানান, প্রতি তিন মাস পর পর দান বাক্সগুলো প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে খোলা হয়। এ মসজিদে মানত করলে মনোবাসনা পূরণ হয়, এমন বিশ্বাস থেকে দেশ-বিদেশের বহু মানুষ এ মসজিদের দান করে থাকেন। 

এর আগে সকালে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখের উপস্থিতিতে মসজিদের ৯টি দান বাক্স খোলা হয়। পরে টাকাগুলো ২৩টি বস্তায় ভরে মসজিদের দোতলায় নিয়ে গণনা করা হয়।
রূপালী ব্যাংকের উপ মহাব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলামসহ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মসজিদের এতিমখান ও মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীসহ দুই শতাধিক লোক গণনার কাজ করেন।
প্রায় ১৫ ঘণ্টা একটানা গণনা শেষে রাত পৌনে ১১টার দিকে গণনার কাজ শেষ হয়। সার্বিক নিরাপত্তায় আনসার ও ১০ পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন। পরে টাকাগুলো কঠোর নিরাপত্তায় রূপালী ব্যাংকে জমা করা হয়েছে। 
জেলা শহরের পশ্চিম প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে হারুয়া এলাকায় পাগলা মসজিদ। সুউচ্চ মিনার ও তিন গম্বুজ বিশিষ্ট তিন তলা পাগলা মসজিদটি কিশোরগঞ্জের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা। 
মসজিদকে ঘিরে মানুষের কৌতুহলের শেষ নেই। এ মসজিদে দান করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়- এ বিশ্বাস থেকেই পাগলা মসজিদে দেশ বিদেশের নানা ধর্ম ও বর্ণের মানুষ টাকা পয়সা, স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা দান করে থাকেন। অনেকে রাতে গোপনে এসে এ মসজিদে দান করেন বলে জানা গেছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, পাগলা মসজিদকে ঘিরে দেশ-বিদেশের মানুষের অনুভূতি কাজ করে। তাই সব ধর্মের মানুষ এখানে দান করে থাকেন। দানের এ টাকা দিয়ে শতকোটি টাকার একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নিমার্ণ করা হবে। অন্তত ৩০ হাজার মানুষ যাতে এক সঙ্গে নামাজ পড়তে পারে এমন একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নিমার্ণের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এছাড়া এ থেকে জেলার মসজিদ, মাদ্রাসা ও হতদরিদ্রদের চিকিৎসা খাতে অনুদান দেয়া হয়ে থাকে।
বাংলার বারো ভুঁইয়ার অন্যতম ঈশা খানের আমলে দেওয়ান জিলকদর খান ওরফে জিলকদর পাগলা নরসুন্দা নদীর তীরে বসে নামাজ আদায় করতেন। তিনি মারা যাওয়ার পর ভক্তরা সেখানে একটি মসজিদ নিমার্ণ করেন। জিলকদর পাগলার নামানুসারেই মসজিদটি ‘পাগলা মসজিদ’  হিসেবে পরিচিতি পায় বলে জানান স্থানীয়রা।