০১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মানবেতর জীবনযাপন করছে পত্রিকার এজেন্ট ও হকাররা

সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
  • প্রকাশ : ০৭:১৪:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২০
  • / 40

মোঃ শরিফুল ইসলাম,টাঙ্গাইল 
টাঙ্গাইলকরোন্সেউ মহামারী তার মধ্যে বন্যার পানি, টাঙ্গাইলের কালিহাতী সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানিতে প্লাবিত বেশির ভাগ রাস্তা-ঘাট ও বাজার প্রায় দেড় মাস যাবত পানির নিচে তলিয়ে আছে। ফলে কমে গেছে পত্রিকার গ্রাহক সংখ্যা। আগের মত নেই চা স্টলে আড্ডা।
চলমান করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন ও বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সারাদেশে সংবাদপত্র বিক্রি শতকরা সত্তর ভাগ কমে গেছে। বিক্রি না হওয়ায় এজেন্ট ও বিক্রয় প্রতিনিধিদের অনেকেই পত্রিকা আনা বন্ধ করে দিয়েছেন। এমন অবস্থায় আয়-রোজগারের বিপর্যয় ঘটায় দেশের অন্যান্য এলাকার মতো মানবেতর জীবনযাপন করছেন কালিহাতী উপজেলার পত্রিকা বিক্রির সঙ্গে জড়িত এজেন্ট ও বিক্রয় প্রতিনিধিরা। তাদের বেশির ভাগেরই সামান্য আয়-রোজগার। এখন তাও বন্ধ হয়ে গেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বর্তমানে বাড়ি বাড়ি পত্রিকা সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করলেও অর্থকষ্টে তারা দিশেহারা অবস্থায় আছেন। নিরারুণ কষ্টে থাকলেও তাদের পাশে কেউ নেই।
এর মধ্যেও থেমে নেই পত্রিকা সরবরাহের কাজ।দৈনিক জাতীয় পত্রিকার হকার ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামের  মোঃ আকরামুল হক জীবিকা নির্বাহের তাগিদে সংগ্রাম করেই চলেছে। ২৫ কিলোমিটার বাইসাইকেল চালিয়ে কোথাও কোমর পানি, কোথাও কিছুটা কমে গেলও পানির মধ্যেই সারা এলকায় প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তাররোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পত্রিকা  বিলি-বন্টন করছে । 
জানা গেছে,  উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং জনসাধারণ বন্যার পানির কারণে বাড়ি থেকে  বাইরে বের না হতে পারায় পত্রিকা কেনার গ্রাহক কমে গেছে। হকাররাও পত্রিকা নিয়া সমস্যায় আছে। পত্রিকা বিক্রি না হলেও হকারাও আগের মতই সব এলাকায় পত্রিকা নিয়া ঘুরা-ফেরা করছে। যার ফলে পত্রিকা এজেন্টরা জাতীয় পত্রিকাগুলোর সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) স্থানীয় পত্রিকার এজেন্ট  এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে মা-মনি পেপার হাউজের মালিক মোঃ সিদ্দিকুর রহমান  বলেন, বাজার বাসস্ট্যান্ডে লোকজন কম আসায় আগের তুলনায় অর্ধেক পত্রিকাও চলেনা। 
বল্লা বাজার কালাম পেপার হাউজের মালিক আবুল কালাম আজাদ বলেন, করোনা ও বন্যার কারণে গ্রাহক সংখ্যা কমে গেছে যার ফলে তিন ভাগের এক ভাগ পত্রিকা চলে।
কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড কিংশোব পেপার হাউজের মালিক  বলেন, আগের তুলনায় অর্ধেক চলে। 
জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসহ সব ধরণের পত্রিকা আসে। কিন্তু বন্যা কবলিত এলাকায় গত জুলাই মাসের শেষ দিকে থেকে কমে গেছে পত্রিকা বিলি-বন্টন।

Please Share This Post in Your Social Media

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মানবেতর জীবনযাপন করছে পত্রিকার এজেন্ট ও হকাররা

প্রকাশ : ০৭:১৪:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২০



মোঃ শরিফুল ইসলাম,টাঙ্গাইল 
টাঙ্গাইলকরোন্সেউ মহামারী তার মধ্যে বন্যার পানি, টাঙ্গাইলের কালিহাতী সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানিতে প্লাবিত বেশির ভাগ রাস্তা-ঘাট ও বাজার প্রায় দেড় মাস যাবত পানির নিচে তলিয়ে আছে। ফলে কমে গেছে পত্রিকার গ্রাহক সংখ্যা। আগের মত নেই চা স্টলে আড্ডা।
চলমান করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন ও বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সারাদেশে সংবাদপত্র বিক্রি শতকরা সত্তর ভাগ কমে গেছে। বিক্রি না হওয়ায় এজেন্ট ও বিক্রয় প্রতিনিধিদের অনেকেই পত্রিকা আনা বন্ধ করে দিয়েছেন। এমন অবস্থায় আয়-রোজগারের বিপর্যয় ঘটায় দেশের অন্যান্য এলাকার মতো মানবেতর জীবনযাপন করছেন কালিহাতী উপজেলার পত্রিকা বিক্রির সঙ্গে জড়িত এজেন্ট ও বিক্রয় প্রতিনিধিরা। তাদের বেশির ভাগেরই সামান্য আয়-রোজগার। এখন তাও বন্ধ হয়ে গেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বর্তমানে বাড়ি বাড়ি পত্রিকা সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করলেও অর্থকষ্টে তারা দিশেহারা অবস্থায় আছেন। নিরারুণ কষ্টে থাকলেও তাদের পাশে কেউ নেই।
এর মধ্যেও থেমে নেই পত্রিকা সরবরাহের কাজ।দৈনিক জাতীয় পত্রিকার হকার ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামের  মোঃ আকরামুল হক জীবিকা নির্বাহের তাগিদে সংগ্রাম করেই চলেছে। ২৫ কিলোমিটার বাইসাইকেল চালিয়ে কোথাও কোমর পানি, কোথাও কিছুটা কমে গেলও পানির মধ্যেই সারা এলকায় প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তাররোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পত্রিকা  বিলি-বন্টন করছে । 
জানা গেছে,  উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং জনসাধারণ বন্যার পানির কারণে বাড়ি থেকে  বাইরে বের না হতে পারায় পত্রিকা কেনার গ্রাহক কমে গেছে। হকাররাও পত্রিকা নিয়া সমস্যায় আছে। পত্রিকা বিক্রি না হলেও হকারাও আগের মতই সব এলাকায় পত্রিকা নিয়া ঘুরা-ফেরা করছে। যার ফলে পত্রিকা এজেন্টরা জাতীয় পত্রিকাগুলোর সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) স্থানীয় পত্রিকার এজেন্ট  এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে মা-মনি পেপার হাউজের মালিক মোঃ সিদ্দিকুর রহমান  বলেন, বাজার বাসস্ট্যান্ডে লোকজন কম আসায় আগের তুলনায় অর্ধেক পত্রিকাও চলেনা। 
বল্লা বাজার কালাম পেপার হাউজের মালিক আবুল কালাম আজাদ বলেন, করোনা ও বন্যার কারণে গ্রাহক সংখ্যা কমে গেছে যার ফলে তিন ভাগের এক ভাগ পত্রিকা চলে।
কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড কিংশোব পেপার হাউজের মালিক  বলেন, আগের তুলনায় অর্ধেক চলে। 
জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসহ সব ধরণের পত্রিকা আসে। কিন্তু বন্যা কবলিত এলাকায় গত জুলাই মাসের শেষ দিকে থেকে কমে গেছে পত্রিকা বিলি-বন্টন।