০২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
নেত্রকোণার পূর্বধলায় যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপন ও সার প্রয়োগ
সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
- প্রকাশ : ১০:৪৮:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২০
- / 35
হৃদয় আহমেদ,নেত্রকোণা
রাইস ট্রান্সপ্লান্টার কাম সার প্রয়োগ যন্ত্রের মাধ্যমে পূর্বধলায় ধানের চারা রোপন এবং একইসাথে সকল সার প্রয়োগ করা হয়। এতে করে এলাকার মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে।
পিআইইউ-বিএআরসি (এনএটিপি-২) এর আওতায় পরিচালিত “ডিজাইন এন্ড ডেভেল্যাপ্মেন্ট অফ ফার্টিলাইজার ডীপ প্লেইস্মেন্ট মেকানিজম ফর এগ্জিস্টিং রাইস ট্রান্সপ্লান্টার (ডিএফএমআরটি)” প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে ধানের চারা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে রোপণ করা হয়। প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ফার্ম মেশিনারি এন্ড পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট রোপণ কাজের সময় উপস্থিত ছিলেন। ড. হোসেনের সাথে আলাপ করে জানা যায় যে, উক্ত প্রকল্পের আওতায় একটি “রাইস ট্র্যান্সপ্লান্টার কাম সার প্রয়োগযন্ত্র” উদ্ভাবন করা হয়েছে। উদ্ভাবিত মেশিনে একই সাথে ধানের চারা রোপণ এবং সকল সার একসাথে প্রয়োগ করা যায়। কৃষক পর্যায়ে উদ্ভাবিত মেশিনটি অভিযোজনের জন্য চলমান আমন মওসুমে প্রকল্প এলাকায় (নেত্রকোণা, কুষ্টিয়া, রংপুর, হবিগঞ্জ এবং গাজীপুর) কৃষকের মাঠে গবেষণা পরীক্ষা স্থাপন করা হয়। তারই অংশ হিসাবে নেত্রকোণায় উক্ত কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি দক্ষ চারজনকে মেশিন চালানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়৷
জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হলে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ অপরিহার্য। গবেষণায় দেখা গেছে, চাষাবাদে শক্তির ব্যবহার বাড়লে ফসলের ফলন বৃদ্বি পায়। তাই চাষাবাদে শক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এবং বাংলাদেশের কৃষকের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফার্ম মেশিনারি এন্ড পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের বিজ্ঞানী ড. মো. আনোয়ার হোসেন “রাইস ট্র্যান্সপ্লান্টার কাম সার প্রয়োগযন্ত্র”টি উদ্ভাবন করেছেন। রাইস ট্র্যান্সপ্লান্টার কাম সার প্রয়োগযন্ত্রের সাহায্যে জমিতে ধানের চারা রোপণ ও সকল সার একসাথে প্রয়োগ করা যায় বিধায় কৃষকের অর্থ ও সময় সাশ্রয় করা সম্ভব। এই পদ্ধতিতে রোপণের উপযোগী চারা বিশেষ পদ্ধতিতে ট্রে’র মাধ্যমে চারা উৎপাদন করতে হয়। অত্যন্ত কম খরচ ও কম সময়ে অধিক জমিতে চারা রোপণ করা যায় এবং বীজতলা তৈরির জন্য আলাদা জমির প্রয়োজন নেই। ড. হোসেনের সাথে আলাপ করে জানা যায় যে, বীজ দেয়ার তারিখ (৪-৫ জুলাই, ২০২০) হতে ১৫-১৮দিন পরেই (২০-২৩ জুলাই, ২০২০) এই চারা রোপণ করার কথা থাকলেও বন্যার জন্য ৫-৭ অক্টোবর এই রোপণ করা হয় । মওসুম ভেদে এই যন্ত্রের সাহায্যে চারা রোপণ ও সার প্রয়োগ করে শতকারা ২০-৩০ ভাগ ইউরিয়া সাশ্রয় করা যায় বলে জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে এই পদ্ধতিতে তারা চারা রোপন করায় তাদের সময় ও শ্রমিকের মজুরি অনেক সাশ্রয় হয়েছে। এই সময় সংশ্লিষ্ট জমির মালিক মাসুদ রানা আকন্দের সাথে কথা হলে তিনি জানান বর্তমান সময় কৃষি বিপ্লবের সময়।কৃষি আধুনিকায়নের জন্য এই সব যন্ত্রপাতি যুগোপযোগী। আশা করি সারা বাংলাদেশে খুব দ্রুত এই সব যন্ত্রপাতি কৃষকের দাঁড় প্রান্তে পৌঁছে যাবে।
কৃষক জলিলের সাথে কথা বললে তিনি বলেন এই মেশিন খুব ভালো কারন অল্প সময়ে অধিক জমিতে ধানের চারা রোপন করা যায় কিন্তু শ্রমিকরা এতে করে বেকার হয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন।





















