০২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ষড়যন্ত্রের শিকার মহেশখালী সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা ইউসুফ উদ্দীনের মৃত্যু!
সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
- প্রকাশ : ১০:১৬:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২০
- / 34
মোঃ সাহাব উদ্দিন,মহেশখালী
চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের আওতাধীন মহেশখালী রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা ইউসুফ উদ্দীন -মহেশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা সুলতানুল আলম চৌধুরীর ষড়যন্ত্রের কাছে হেরে গিয়ে অবশেষে মৃত্যু বরণ করেছেন।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘ ৭ দিন অচেতন অবস্থায় থাকার পর ০৬/০৮/২০২০/আজ বৃহস্পতিবার ভোর ০৬ টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
জানা যায়, গত ১০ ই জুলাই মহেশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা সুলতানুল আলম চৌধুরীর সাক্ষরিত ২২.০১.০০০০.৭৬৩.০৫.০০.২০২০.৩৬৮ নং পত্রে ইউসুফ উদ্দীনকে দলের প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট টহল দল গঠন করা হয়। এবং পত্রে কেরুনতলী বিটে সার্বক্ষণিক অবস্থান পূর্বক টহল কার্য পরিচালনা করিয়া সকল প্রকার বন অপরাধ দমনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। যা সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত ছিল। কেননা ডিপার্টমেন্টে নতুন যোগদান করা কাউকে এই ধরনের ঝুকিপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে ঝুকির দিকে ঠেলে দেওয়া নীতি পরিপন্থী।
উল্লেখ্য, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা ইউসুফ উদ্দিন উক্ত টহল টিমকে সাথে নিয়ে মহেশখালী রেঞ্জের কেরুনতলী বিটের করইবুনিয়া নামক এলাকায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে স্থানীয় ভুমি দখলকারীদের পানের বরজ নির্মাণে বাধা দিতে গেলে তাদের উপর পঞ্চাশ থেকে ষাটজন মানুষ পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এতে নাটকীয়ভাবে কেবল সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা ইউসুফ উদ্দিনকেই জখম করা হয়। বাকি দুজন কেবল নামমাত্র আহত হয়। নাটকীয়ভাবে কেবল সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা ইউসুফ উদ্দীন ই গুরুতর মাথায় জখমের পর দীর্ঘ ৭ দিন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় থাকার পর আজ ভোর ০৬ টায় ইন্তেকাল করেন।
এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “রেঞ্জ কর্মকর্তা সুলতানুল আলম চৌধুরী এবং বিট কর্মকর্তা আহসানুল কবিরকে আমরা নিয়মিত টাকা দিয়ে বনাঞ্চলের সংরক্ষিত ভূমিতে পানের বরজ, চাষ এবং গৃহ নির্মাণ করতাম। এরই ধারাবাহিকতায় পানের বরজ তৈরির অনুমতির জন্যও আমরা তাদের দুজনকে মোটা অংকের টাকা দিই। এরপর তাদের অনুমতিক্রমেই আমরা বরজ নির্মাণের কাজ শুরু করলে ইউসুফ উদ্দিন নামের তাদের একজন ফরেস্টার অফিসার এসে আমাদের কাজে বাধা দেয়। সাথে নাটকীয়ভাবে বিট কর্মকর্তা আহসানূল কবিরও ছিলেন। তবে সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তার অভিযানের বিষয়টি রেঞ্জ কর্মকর্তা সুলতানুল আলম চৌধুরী আমাদের আগেই অবহিত করে রেখেছেন এবং মানুষজন নিয়ে হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন। তখন ওনারা আসলেই আমরা বিট কর্মকর্তা আহসানুল কবিরের ইঙ্গিতে সহকারী রেঞ্চ কর্মকর্তা ইউসুফ উদ্দিনকে লক্ষ্য করে হামলা চালাই। কিন্তু এরপর নাটকীয়ভাবে মামলা দিয়ে তারাই আবার আমাদের ফাসাচ্ছেন।”
সরকারি সম্পদ নিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে বিভিন্ন অবৈধ সুযোগ সুবিধার বিনিময়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা সুলতানের নিয়মিত চাদাবাজিতে একপ্রকার অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বলেও জানান গ্রামবাসী।
পাশাপাশি উক্ত হামলার ঘটনায় মহেশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা সুলতানুল আলম চৌধুরী এবং তার মদতদাতা কেরুনতলী বিট কর্মকর্তা আহসানুল কবিরকেই সম্পূর্ণ দায়ী করছে তার পরিবার।
ইউসুফ উদ্দীনের বাবা জানান, আমার ছেলে মাত্র পাচ ছয়মাস আগেই ডিপার্টমেন্টে যোগদান করে। চাদাবাজির বিষয়ে আমার ছেলের সাথে বনিবনা না হওয়ায় প্রথম থেকেই তাকে সরানোর চেষ্টা করে আসছিলেন মহেশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা সুলতানুল আলম চৌধুরী। এরই ধারাবাহিকতায় রেঞ্জ কর্মকর্তা নিয়মের বাইরে গিয়ে চাকরির ট্রেনিং পূর্ণ হওয়ার আগেই যোগদানের ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে তার ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে টহল দলের প্রধান করে ঝুকির মুখে ঠেলে দেয়। পাশাপাশি গত ৩০ ই জুলাইয়ে মহেশখালী রেঞ্জের কেরুনতলী বিটের ঘটনায় আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে জখম করে। আমি সুলতানুল আলম চৌধুরী এবং তার মদতদাতা বিট কর্মকর্তা আহসানুল কবিরের এবং জড়িত সবার ন্যায্য বিচার দাবি করছি।
অভিযুক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা সুলতানুল আলম চৌধুরীর সাথে ফোনে বারংবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইউসুফ উদ্দীনের মৃত্যুর ঘটনায় মহেশখালী কুতুবদিয়া জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বনকর্মীরা উক্ত পরিকল্পিত ঘটনার তদন্ত পূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যাবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।





















