০২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রাম উলিপুরে দীর্ঘমেয়াদি বন্যায় আমন বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি

সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
  • প্রকাশ : ০৪:৪০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২০
  • / 34

 কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামে উলিপুরে দীর্ঘমেয়াদী বন্যায় এবার আমন ধানের চাষে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় বন্যা  কিছুটা স্থায়ী হয়ে এই বীজতলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, গত কয়েক বছরে তারা এরকম বন্যার মুখোমুখি হননি। মানুষ এবং গবাদি পশুর পাশাপাশি বন্যায় মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়েছে আমন বীজতলা।অনেকের বাড়িতে কিছু ধান আছে, সেটা ভেঙ্গে তারা খাচ্ছেন, তাতে হয়তো দুইমাস চলবে। এরপর কী করবেন জানেন না।

আগাম বন্যায় কৃষকের পাট ক্ষেত ,পুকুরের মাছ, সবজি ক্ষেত  ক্ষতির পর এবার পানিতে ডুবে গেছে  আমন ধানের চারাও। তবে প্রবীণ কৃষকরা  বলছেন, পানি তাড়াতাড়ি নেমে না যাওয়ায় চারার বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেছে।
উপজেলার ধরণীবাড়ি ইউনিয়নের কৃষক মোহাম্মদ বাতেন আলী এক বিঘা জমিতে আমনের চারা লাগিয়েছিলেন। তার সব চারা এখন পানির নিচে। সেই সঙ্গে নষ্ট হয়ে গেছে  সবজি ক্ষেতও।
হাতিয়ার ইউনিয়নের কৃষক মোঃ আবুল হোসেন সরকার “গ্রামের সবার জমি পানিতে ডুবে আছে। ধান গাছ তো ডুবেই গেছে, পুকুরের মাছ, পেঁপের ক্ষেত, সবজি বাগান সব পানিতে ডুবে আছে।” 
উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের গোড়াই পিয়ার গ্রামের কৃষক নূরনবী সরকার জানান “বন্যার পানিতে তার বীজতলা অনেকটাই নষ্ট হয়ে আছে। এখন পানি কিছুটা নেমেছে, কিন্তু বীজতলা পুরো কাদায় মাখামাখি হয়ে আছে।”
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পাশাপাশি লাগানো আমন বীজতলা। অধিকাংশ কৃষক আমন চারা সংকটে পড়বে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে আমন চারা সরবরাহ করা হবে।

এর আগে আগাম বন্যায় উপজেলার আমন ধানের বিভিন্ন চারাও ব্যাপক ক্ষতি হয়। অথচ বাংলাদেশে চালের জন্য এই আমন  ফসলের উপরই অনেকটা নির্ভর করা হয়। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে ২১টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

কুড়িগ্রাম উলিপুরে দীর্ঘমেয়াদি বন্যায় আমন বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি

প্রকাশ : ০৪:৪০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২০

 কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামে উলিপুরে দীর্ঘমেয়াদী বন্যায় এবার আমন ধানের চাষে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় বন্যা  কিছুটা স্থায়ী হয়ে এই বীজতলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, গত কয়েক বছরে তারা এরকম বন্যার মুখোমুখি হননি। মানুষ এবং গবাদি পশুর পাশাপাশি বন্যায় মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়েছে আমন বীজতলা।অনেকের বাড়িতে কিছু ধান আছে, সেটা ভেঙ্গে তারা খাচ্ছেন, তাতে হয়তো দুইমাস চলবে। এরপর কী করবেন জানেন না।

আগাম বন্যায় কৃষকের পাট ক্ষেত ,পুকুরের মাছ, সবজি ক্ষেত  ক্ষতির পর এবার পানিতে ডুবে গেছে  আমন ধানের চারাও। তবে প্রবীণ কৃষকরা  বলছেন, পানি তাড়াতাড়ি নেমে না যাওয়ায় চারার বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেছে।
উপজেলার ধরণীবাড়ি ইউনিয়নের কৃষক মোহাম্মদ বাতেন আলী এক বিঘা জমিতে আমনের চারা লাগিয়েছিলেন। তার সব চারা এখন পানির নিচে। সেই সঙ্গে নষ্ট হয়ে গেছে  সবজি ক্ষেতও।
হাতিয়ার ইউনিয়নের কৃষক মোঃ আবুল হোসেন সরকার “গ্রামের সবার জমি পানিতে ডুবে আছে। ধান গাছ তো ডুবেই গেছে, পুকুরের মাছ, পেঁপের ক্ষেত, সবজি বাগান সব পানিতে ডুবে আছে।” 
উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের গোড়াই পিয়ার গ্রামের কৃষক নূরনবী সরকার জানান “বন্যার পানিতে তার বীজতলা অনেকটাই নষ্ট হয়ে আছে। এখন পানি কিছুটা নেমেছে, কিন্তু বীজতলা পুরো কাদায় মাখামাখি হয়ে আছে।”
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পাশাপাশি লাগানো আমন বীজতলা। অধিকাংশ কৃষক আমন চারা সংকটে পড়বে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে আমন চারা সরবরাহ করা হবে।

এর আগে আগাম বন্যায় উপজেলার আমন ধানের বিভিন্ন চারাও ব্যাপক ক্ষতি হয়। অথচ বাংলাদেশে চালের জন্য এই আমন  ফসলের উপরই অনেকটা নির্ভর করা হয়। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে ২১টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।