চীনে যাচ্ছে রাজবাড়ী অ্যাক্রোবেটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ২০ ক্ষুদে শিল্পী
- প্রকাশ : ০২:৪০:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 2
আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণে নতুন স্বপ্ন, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অ্যাক্রোবেটিক শিল্পের সম্ভাবনার উন্মোচন
আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি।
দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে রাজবাড়ী অ্যাক্রোবেটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। কেন্দ্রটির ২০ জন শিশু-কিশোর প্রশিক্ষণার্থী উন্নত প্রশিক্ষণ ও আধুনিক অ্যাক্রোবেটিক কৌশল আয়ত্ত করার উদ্দেশ্যে আগামী ৪ আগস্ট চীনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।
এ সফরকে ঘিরে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘদিনের অনুশীলন, অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে তারা বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ অ্যাক্রোবেটিক ঐতিহ্যের দেশ চীনে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, এ প্রশিক্ষণ বাংলাদেশের অ্যাক্রোবেটিক শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের প্রতিনিধিত্বের নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।
রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল কর্মকর্তা সুজিত কুমার সাহা জানান, রাজবাড়ীতে অবস্থিত দেশের একমাত্র অ্যাক্রোবেটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপিকা জাহানারা বেগমের আন্তরিক উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি দেশের শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও গ্রাম-গঞ্জে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের অ্যাক্রোবেটিক শিল্পে উদ্বুদ্ধ করা এবং দক্ষ শিল্পী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে।
অ্যাক্রোবেটিক সেন্টার প্রতিষ্ঠাকালে তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আব্দুস সালাম তালুকদার এক শুভেচ্ছা বাণীতে বলেছিলেন, “জাতীয় সংস্কৃতির উন্নয়ন, বিকাশ ও প্রসারে অ্যাক্রোবেটিক একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।” তিনি আরও উল্লেখ করেছিলেন, “অ্যাক্রোবেটিক সংস্কৃতি ও চিত্তবিনোদনের ক্ষেত্রে উৎসাহব্যঞ্জক ভূমিকা রাখতে সক্ষম।”
তৎকালীন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপিকা জাহানারা বেগমও এ শিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ দলের তত্ত্বাবধানে শিশু-কিশোরদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেশের সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেধাবী শিশুদের বিকাশে সহায়ক হবে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে রাজবাড়ী অ্যাক্রোবেটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র দেশের বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে সফল পরিবেশনা করে প্রশংসা কুড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তাদের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। শারীরিক কৌশল, নান্দনিক উপস্থাপনা এবং দলগত সমন্বয়ের কারণে এ শিল্পধারা দিন দিন জনপ্রিয়তা অর্জন করছে।
বর্তমানে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র চীনের আমন্ত্রণে ২০ সদস্যের দলটি উন্নত প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। চীনের আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও নতুন কৌশল আয়ত্ত করে দেশে ফিরে তারা অর্জিত অভিজ্ঞতা অন্য প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেবে এবং বাংলাদেশের অ্যাক্রোবেটিক শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ১৮ জুলাই রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, “দেশের শিল্প-সংস্কৃতিকে আরও এগিয়ে নিতে আমাদের ২০ জন ক্ষুদে অ্যাক্রোবেটিক শিল্পীকে উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য চীনে পাঠানো হচ্ছে।” তিনি শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতি চর্চায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “চীন সফরের সময় দুই দেশের শিল্প-সংস্কৃতির উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে দেশটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করেছি।”
প্রতিমন্ত্রীর এ ঘোষণা ও উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা অ্যাক্রোবেটিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। চীনগামী দলে জেলার ১৩ জন ছেলে, ৫ জন মেয়ে এবং ২ জন প্রশিক্ষক রয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সফর কেবল একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়; এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। রাজবাড়ীর একটি ছোট্ট প্রতিষ্ঠান থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শিশু-কিশোরদের এই যাত্রা প্রমাণ করে, যথাযথ সুযোগ ও মানসম্মত প্রশিক্ষণ পেলে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম বিশ্বমঞ্চেও নিজেদের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম।
রাজবাড়ী অ্যাক্রোবেটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের এই নতুন যাত্রা দেশের সংস্কৃতি চর্চায় একটি অনন্য অধ্যায়ের সূচনা করবে—এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্ট সকলের।














