০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পোল্ট্রি শিল্পের সিন্ডিকেটে বিপাকে প্রান্তিক খামারিরা

সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
  • প্রকাশ : ০৭:২৯:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / 88
অনলাইন ডেস্ক,ঢাকা
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার পোল্ট্রি খামারি রাবেয়া আফরিন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁর খামারে ছিল ১০ থেকে ১২ হাজার মুরগির বাচ্চা। এখন আছে মাত্র ১ হাজার মুরগি। তাঁর অভিযোগ-বড় ব্যবসায়ীরা বাচ্চা বাজারে ছাড়ছে না। ফলে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম সংকট। সেই সঙ্গে খাদ্য, ওষুধসহ প্রতিটি দ্রব্যের দামও বেড়েছে।
দেশে পোল্ট্রি মুরগির বাচ্চা উৎপাদন ও খাবার তৈরি করে করপোরেট কিছু প্রতিষ্ঠান। ওষুধও সরবরাহ করে তারাই। আবার বাজারে ডিম ও মুরগির দামও নিধারণ করে এসব প্রতিষ্ঠান। ফলে তাদের চুক্তিভিত্তিক কিছু খামারি লাভবান হলেও পথে বসেছে প্রান্তিক খামারিরা। বাজার মূল্যের সাথে উৎপাদন খরচে টিকে থাকতে না পেরে ব্যবসা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে।
পোল্ট্রি খামারি রাবেয়া আফরিন বলেন, কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত দামে বাচ্চা দিতে চাইছে। এতে করে আমাদের পোষাচ্ছে না।
যেসব কোম্পানি বাচ্চা উৎপাদন করছে, তারাই খাবার তৈরি করছে। তাদের সিন্ডিকেটের কারণে এক শ্রেণির খামারি লাভবান হলেও পথে বসছে প্রান্তিক খামারিরা।
জানা গেছে, বগুড়ায় ৩ হাজার ৭৬৪ খামারের বেশিরভাগই বন্ধ। আর যেগুলো চালু আছে তারা কাজী ফার্মস, সিপিসহ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ।ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বড় প্রতিষ্ঠানের দিকে তাকিয়ে থাকতে খামারিদের।
বগুড়ার কাজী ফার্মস ও সিপির পরিবেশক শাহজাহান আলী বলেন, পণ্যের দাম সহনশীল থাকলে সাধারণ মানুষও খেতে পারে। আর আমরাও কিছু লাভ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারি।
গাজীপুরের খামারিদের অভিযোগ, বাচ্চা, খাবার ও ওষুধ উৎপাদনকারী কয়েকটি কোম্পানির কাছে জিম্মি হয়েছে পড়েছেন তাঁরা। এদিকে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে পোল্ট্রি খাদ্যের দাম বাড়ার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
গাজীপুরের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এস এম উকিল উদ্দিন বলেন, ৬০ শতাংশের মতো পোলট্রি ফিড বাইরে থেকে আসে। এখন আর এগুলোর জন্য ভর্তুকিও দেওয়া হয় না।
গাজীপুর জেলার ৫ হাজার খামারের মধ্যে এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে অনেকগুলো। এই শিল্পকে রক্ষায় নীতিমালা ও তদারকির দাবি জানিয়েছেন প্রান্তিক খামারিরা।
সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি 

Please Share This Post in Your Social Media

পোল্ট্রি শিল্পের সিন্ডিকেটে বিপাকে প্রান্তিক খামারিরা

প্রকাশ : ০৭:২৯:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩
অনলাইন ডেস্ক,ঢাকা
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার পোল্ট্রি খামারি রাবেয়া আফরিন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁর খামারে ছিল ১০ থেকে ১২ হাজার মুরগির বাচ্চা। এখন আছে মাত্র ১ হাজার মুরগি। তাঁর অভিযোগ-বড় ব্যবসায়ীরা বাচ্চা বাজারে ছাড়ছে না। ফলে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম সংকট। সেই সঙ্গে খাদ্য, ওষুধসহ প্রতিটি দ্রব্যের দামও বেড়েছে।
দেশে পোল্ট্রি মুরগির বাচ্চা উৎপাদন ও খাবার তৈরি করে করপোরেট কিছু প্রতিষ্ঠান। ওষুধও সরবরাহ করে তারাই। আবার বাজারে ডিম ও মুরগির দামও নিধারণ করে এসব প্রতিষ্ঠান। ফলে তাদের চুক্তিভিত্তিক কিছু খামারি লাভবান হলেও পথে বসেছে প্রান্তিক খামারিরা। বাজার মূল্যের সাথে উৎপাদন খরচে টিকে থাকতে না পেরে ব্যবসা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে।
পোল্ট্রি খামারি রাবেয়া আফরিন বলেন, কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত দামে বাচ্চা দিতে চাইছে। এতে করে আমাদের পোষাচ্ছে না।
যেসব কোম্পানি বাচ্চা উৎপাদন করছে, তারাই খাবার তৈরি করছে। তাদের সিন্ডিকেটের কারণে এক শ্রেণির খামারি লাভবান হলেও পথে বসছে প্রান্তিক খামারিরা।
জানা গেছে, বগুড়ায় ৩ হাজার ৭৬৪ খামারের বেশিরভাগই বন্ধ। আর যেগুলো চালু আছে তারা কাজী ফার্মস, সিপিসহ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ।ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বড় প্রতিষ্ঠানের দিকে তাকিয়ে থাকতে খামারিদের।
বগুড়ার কাজী ফার্মস ও সিপির পরিবেশক শাহজাহান আলী বলেন, পণ্যের দাম সহনশীল থাকলে সাধারণ মানুষও খেতে পারে। আর আমরাও কিছু লাভ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারি।
গাজীপুরের খামারিদের অভিযোগ, বাচ্চা, খাবার ও ওষুধ উৎপাদনকারী কয়েকটি কোম্পানির কাছে জিম্মি হয়েছে পড়েছেন তাঁরা। এদিকে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে পোল্ট্রি খাদ্যের দাম বাড়ার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
গাজীপুরের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এস এম উকিল উদ্দিন বলেন, ৬০ শতাংশের মতো পোলট্রি ফিড বাইরে থেকে আসে। এখন আর এগুলোর জন্য ভর্তুকিও দেওয়া হয় না।
গাজীপুর জেলার ৫ হাজার খামারের মধ্যে এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে অনেকগুলো। এই শিল্পকে রক্ষায় নীতিমালা ও তদারকির দাবি জানিয়েছেন প্রান্তিক খামারিরা।
সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি