১০:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিং স্টেশন’ না ‘ধৈর্যের পরীক্ষা কেন্দ্র 

মো: আখতারুজ্জামান সোহাগ
  • প্রকাশ : ০১:৫৪:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 2

জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।

মো: আখতারুজ্জামান সোহাগ

গাজীপুরে ফিলিং স্টেশন, যেন লোকাল তেলের দোকানেরও নিচে—এমন অভিযোগ এখন গাজীপুরজুড়ে। গাজীপুর শহরের বাইপাসের ইউনিয়ন ফিলিং স্টেশন ছাড়া অধিকাংশ পাম্পের চিত্রই নাজুক বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

বিশেষ করে , রিয়াজ ফিলিং স্টেশন ( নাওজোর), মাহবুব ফিলিং স্টেশন ( নাওজোর), আউশি ফিলিং স্টেশন ( নাওজোর), মুকুল ফিলিং স্টেশন ( চৌরাস্তা), চৌধুরী ফিলিং স্টেশন ( চৌরাস্তা), সিটি ফিলিং স্টেশন ( ঝাঝর), কৃষি গবেষণার সামনে হোসেইন এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশন, ময়মনসিংহ রোডে সাগর – সৈকত ফিলিং স্টেশন, হংকং ফিলিং স্টেশন ( সালনা), মলি এভারগ্রীন ফিলিং স্টেশন ( ময়মনসিংহ রোড), কোনাবাড়ি আনজুমান ফিলিং স্টেশন,এশিয়া ফিলিং স্টেশন ( গাজীপুর সাতাইশ ) রাজ ফিলিং স্টেশন ( ঢাকা রোডে বোর্ড বাজার ), জমজম ফিলিং স্টেশন ( বোর্ড বাজার), আল হেরা ফিলিং স্টেশন ( বোর্ড বাজার) অবস্থা একেবারে সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
বিভিন্ন পাম্পে প্রতিদিনই বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠছে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, কোথাও নেই সুষ্ঠু ম্যানেজমেন্ট, নেই কার্যকর কোনো নিয়মনীতি, এমনকি ন্যূনতম লাইনআপ সিস্টেমও অনুপস্থিত। যার যেমন ইচ্ছা, তেমনভাবেই চলছে তেল বিক্রি। পরিচিত লোক এলেই লাইনের তোয়াক্কা না করে সরাসরি গ্যালন, ড্রাম কিংবা বোতলে তেল ভরে দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে সাধারণ গ্রাহকদের অবস্থা যেন “লাইনে দাঁড়িয়ে ভাগ্য পরীক্ষা”! ৪ থেকে ৭ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। শেষ মুহূর্তে শোনা যায় একটাই কথা—“তেল শেষ”!

স্থানীয়দের ভাষায়, “এগুলো ফিলিং স্টেশন না, ধৈর্যের পরীক্ষা কেন্দ্র। আগে আসলে আগে পাবেন—এই নিয়ম এখানে নেই, এখানে চলে ‘চেনা থাকলে আগে পাবেন’ নীতি।”

এ অবস্থায় পাম্প কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা তদারকি নেই বলেই পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে।

তুলনায় ঢাকা শহরের পাম্পগুলোতে শৃঙ্খলা, দ্রুততা ও সেবার মান তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো বলে জানিয়েছেন চালকরা। ফলে গাজীপুরের পাম্পগুলোর প্রতি ক্ষোভ আরও বাড়ছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও জনমনে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন—এই অব্যবস্থার শেষ কোথায়? আদৌ কি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, নাকি সবই চলছে “যার যা খুশি” নীতিতে?

সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত কঠোর নজরদারি ও সুশাসন নিশ্চিত না হলে গাজীপুরের এসব ফিলিং স্টেশন একসময় পুরোপুরি অনিয়ন্ত্রিত খাতে পরিণত হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

ফিলিং স্টেশন’ না ‘ধৈর্যের পরীক্ষা কেন্দ্র 

প্রকাশ : ০১:৫৪:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।

মো: আখতারুজ্জামান সোহাগ

গাজীপুরে ফিলিং স্টেশন, যেন লোকাল তেলের দোকানেরও নিচে—এমন অভিযোগ এখন গাজীপুরজুড়ে। গাজীপুর শহরের বাইপাসের ইউনিয়ন ফিলিং স্টেশন ছাড়া অধিকাংশ পাম্পের চিত্রই নাজুক বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

বিশেষ করে , রিয়াজ ফিলিং স্টেশন ( নাওজোর), মাহবুব ফিলিং স্টেশন ( নাওজোর), আউশি ফিলিং স্টেশন ( নাওজোর), মুকুল ফিলিং স্টেশন ( চৌরাস্তা), চৌধুরী ফিলিং স্টেশন ( চৌরাস্তা), সিটি ফিলিং স্টেশন ( ঝাঝর), কৃষি গবেষণার সামনে হোসেইন এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশন, ময়মনসিংহ রোডে সাগর – সৈকত ফিলিং স্টেশন, হংকং ফিলিং স্টেশন ( সালনা), মলি এভারগ্রীন ফিলিং স্টেশন ( ময়মনসিংহ রোড), কোনাবাড়ি আনজুমান ফিলিং স্টেশন,এশিয়া ফিলিং স্টেশন ( গাজীপুর সাতাইশ ) রাজ ফিলিং স্টেশন ( ঢাকা রোডে বোর্ড বাজার ), জমজম ফিলিং স্টেশন ( বোর্ড বাজার), আল হেরা ফিলিং স্টেশন ( বোর্ড বাজার) অবস্থা একেবারে সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
বিভিন্ন পাম্পে প্রতিদিনই বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠছে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, কোথাও নেই সুষ্ঠু ম্যানেজমেন্ট, নেই কার্যকর কোনো নিয়মনীতি, এমনকি ন্যূনতম লাইনআপ সিস্টেমও অনুপস্থিত। যার যেমন ইচ্ছা, তেমনভাবেই চলছে তেল বিক্রি। পরিচিত লোক এলেই লাইনের তোয়াক্কা না করে সরাসরি গ্যালন, ড্রাম কিংবা বোতলে তেল ভরে দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে সাধারণ গ্রাহকদের অবস্থা যেন “লাইনে দাঁড়িয়ে ভাগ্য পরীক্ষা”! ৪ থেকে ৭ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। শেষ মুহূর্তে শোনা যায় একটাই কথা—“তেল শেষ”!

স্থানীয়দের ভাষায়, “এগুলো ফিলিং স্টেশন না, ধৈর্যের পরীক্ষা কেন্দ্র। আগে আসলে আগে পাবেন—এই নিয়ম এখানে নেই, এখানে চলে ‘চেনা থাকলে আগে পাবেন’ নীতি।”

এ অবস্থায় পাম্প কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা তদারকি নেই বলেই পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে।

তুলনায় ঢাকা শহরের পাম্পগুলোতে শৃঙ্খলা, দ্রুততা ও সেবার মান তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো বলে জানিয়েছেন চালকরা। ফলে গাজীপুরের পাম্পগুলোর প্রতি ক্ষোভ আরও বাড়ছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও জনমনে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন—এই অব্যবস্থার শেষ কোথায়? আদৌ কি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, নাকি সবই চলছে “যার যা খুশি” নীতিতে?

সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত কঠোর নজরদারি ও সুশাসন নিশ্চিত না হলে গাজীপুরের এসব ফিলিং স্টেশন একসময় পুরোপুরি অনিয়ন্ত্রিত খাতে পরিণত হবে।