০৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
২ হাজার টাকার কর বোঝা নয়: এনবিআর
সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
- প্রকাশ : ১২:১১:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জুন ২০২৩
- / 81
নিজেস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
করযোগ্য আয় না থাকার পরেও প্রস্তাবিত বাজেটে টিআইএনধারীদের আয়কর রিটার্ন স্লিপ নিতে ২ হাজার টাকার কর আরোপকে বোঝা মনে করছেন না জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মোঃ রহমাতুল মুনীম। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রে বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার তিনি এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গ সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনারা যদি দেখেন কাদের টিআইএন আছে? কাদের জন্য এটি বাধ্যতামুলক? সেই লিস্টটা যদি দেখেন তাহলে দেখবেন, আমদানি রপ্তানিকারকের লাইসেন্সের জন্য টিআইএন বাধ্যতামুলক। ট্রেড লাইসেন্স, পিস্তলের লাইসেন্স বা সিটি করপোরেশন এলাকায় বাড়ি-গাড়ির জন্য এটা দরকার।
‘সাধারণ গরীব মানুষের জন্য এটি বাধ্যতামুলক নয়। আমি যে ক্যাটাগরির কথা বললাম, তাদের জন্য দুই হাজার টাকা বছরে জমা দেয়া বোঝা হওয়ার কথা না।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার প্রস্তাবিত এই বাজেট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের শেষ বাজেট।
এবারের বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি হলে তাকে আয়কর দিতে হবে। গত অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা ছিল ৩ লাখ টাকা।
নারী ও ৬৫ বছর বা তদুর্ধ্ব বয়সের করদাতাদের আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪ লাখ টাকা। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৪ লাখ থেকে ২৫ হাজার বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতাদের ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে ৫ লাখ প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের করদাতাদের ক্ষেত্রে সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।
তবে এবার যে বিষয়টি নতুন সংযুক্ত হয়েছে সেটি হলো করযোগ্য আয় না থাকলেও ট্যাক্স সনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) আছে এমন ব্যক্তিদের জন্যও ২ হাজার টাকা কর নির্ধারণের প্রস্তাব।
করযোগ্য আয় না থাকার পরেও কেন কর দিতে হবে তা নিয়ে এরই মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) তাদের বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, করযোগ্য আয় না থাকার পরেও কর দিতে বাধ্য করা বৈষম্যমূলক। এতে সাধারণের উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে।
চলতি অর্থবছর ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কেনা, ব্যাংক ঋণ নেয়া, গ্যাস সংযোগ পাওয়াসহ ৪০ সেবার আবেদনে আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র বা স্লিপ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে চলতি অর্থবছর রিটার্ন জমার পরিমাণ ২৪ শতাংশ বেড়ে ২৯ লাখ ছাড়িয়েছে। দেশে মোট টিআইএনধারীর সংখ্যা ৮২ লাখের বেশি।
সরকারি অন্তত ৪০ ধরনের সেবার জন্য আয়কর রিটার্ন জমার স্লিপ বাধ্যতামুলক। বর্তমানে করযোগ্য আয় না থাকলে রিটার্ন দাখিলের পর এনবিআর থেকে স্লিপ পেতে কোন অর্থ খরচ করতে হয়না।

.jpeg)



















