০৯:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগ নিজেরাই নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছে: ড. আব্দুল মঈন খান

নিজেস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
  • প্রকাশ : ০৬:৩১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৪
  • / 82

দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিজেরাই নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।
মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ওলামা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
মঈন খান বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নাকি নৌকা নিয়ে নির্বাচন করবে না। তারা নিজেরাই পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে, নিজেদের নৌকা নিজেরাই ডুবিয়ে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ বুঝতে পেরেছে ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ নৌকা প্রত্যাখ্যান করেছে। সে কারণে উপজেলা নির্বাচনে তারা নৌকা প্রতীকে ভরসা পাচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘গত ৭ জানুয়ারি প্রহসনের নির্বাচনে ১৮ কোটি মানুষের ১২ কোটি মানুষই ভোট দিতে যায়নি। এটা আমাদের কথা নয়। বিদেশি মিডিয়াগুলো বলেছে। এখানে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। সেজন্য আওয়ামী লীগ তড়িঘড়ি করে শপথ নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশে নির্বাচনের নামে সিলেকশন হয়েছে। সরকার বিজয়ের নামে চরম পরাজয়ের মিছিল করছে।’
আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড স্বাধীনতার আদর্শবিরোধী উল্লেখ করে মঈন খান বলেন, ৭২ থেকে ৭৫ সালে একবার বাকশাল তৈরি করেছে। এখন দ্বিতীয়বার বাকশাল তৈরি করছে। তাদের আদর্শ হচ্ছে চুরি-দুর্নীতি করা। বিদেশে সেকেন্ড হোম তৈরি করা।
ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা নেছারুল হকের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদিন ফারুক ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, একতরফা নির্বাচন হলে গণতন্ত্র টিকে না। দেশের গণতন্ত্র অনেক আগেই নির্বাসিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের কাছে গণতন্ত্র অধিকার আশা করা যায় না। তারা বারবারই গণতন্ত্র হত্যা করেছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র নিয়ে রসিকতা করার ক্ষমতা কেউ আপনাকে দেয় নাই। বিরোধী দল কে হবে, ডামি প্রার্থী কে নির্বাচিত হবে তাও আপনি ঠিক করে দিবেন এটাতো গণতন্ত্র হয়না।
নজরুল বলেন, ২০১৪ সালে বিনা ভোটের সরকার, ২০১৮ সালে নিশিরাতের সরকার আর এবার হলো ডামি সরকার। একটি প্রহসন করে নির্বাচন করা হয়েছে। এই ডামি নির্বাচনে একটা সরকার গঠন করা হয়েছে। এটা জনগণের সরকার না। বাংলাদেশের জনগণ ভোট দিয়ে সরকার গঠন করে নাই।
তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা এখন সংসদ সদস্য হয় না, ব্যবসায়ীরা এখন সংসদ সদস্য হয়। তাই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, প্রতিনিয়ত ভূমিহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। শ্রমজীবী মানুষ অনিশ্চিত জীবন যাপন করছে। আজকের এই অবস্থা থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।
খালেদা জিয়ার জামিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে, তাদের জামিন হয়, বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পায়, কিন্তু খালেদা জিয়াকে সুযোগ দেয়া হচ্ছে।
নজরুল বলেন, ‘ক্রমান্বয়ে বিএনপির শক্তিমত্তার কলেবর বাড়ছে। এটাই জিয়াউর রহমানের কৃতিত্ব। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি যিনি পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রথম বলেছিলেন– উই রিভোল্ট। মেজর জিয়ার নেতৃত্বে চট্টগ্রামে যে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল সেটি স্ট্যালিনগ্রাদের প্রতিরোধের মতো।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদিন ফারুক বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা করেও সফল হয়নি সরকার, বিএনপির নেতাকর্মীরা হারেনি। জনগণ জেগে উঠেছে, তবে বাধ সেধেছে পুলিশ বাহিনী।
তিনি বলেন, জীবন-মরণ লড়াই করা হবে এরপরও আওয়ামী লীগকে বাকশাল কায়েম করতে দেয়া হবে না। নেতাকর্মীরা হতাশ নয়, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের ধমকে বিএনপি ভয় পায় না। অভিনব কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়েছে। অচিরেই জনগণকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আওয়ামী লীগ নিজেরাই নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছে: ড. আব্দুল মঈন খান

প্রকাশ : ০৬:৩১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৪

দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিজেরাই নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।
মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ওলামা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
মঈন খান বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নাকি নৌকা নিয়ে নির্বাচন করবে না। তারা নিজেরাই পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে, নিজেদের নৌকা নিজেরাই ডুবিয়ে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ বুঝতে পেরেছে ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ নৌকা প্রত্যাখ্যান করেছে। সে কারণে উপজেলা নির্বাচনে তারা নৌকা প্রতীকে ভরসা পাচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘গত ৭ জানুয়ারি প্রহসনের নির্বাচনে ১৮ কোটি মানুষের ১২ কোটি মানুষই ভোট দিতে যায়নি। এটা আমাদের কথা নয়। বিদেশি মিডিয়াগুলো বলেছে। এখানে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। সেজন্য আওয়ামী লীগ তড়িঘড়ি করে শপথ নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশে নির্বাচনের নামে সিলেকশন হয়েছে। সরকার বিজয়ের নামে চরম পরাজয়ের মিছিল করছে।’
আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড স্বাধীনতার আদর্শবিরোধী উল্লেখ করে মঈন খান বলেন, ৭২ থেকে ৭৫ সালে একবার বাকশাল তৈরি করেছে। এখন দ্বিতীয়বার বাকশাল তৈরি করছে। তাদের আদর্শ হচ্ছে চুরি-দুর্নীতি করা। বিদেশে সেকেন্ড হোম তৈরি করা।
ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা নেছারুল হকের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদিন ফারুক ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, একতরফা নির্বাচন হলে গণতন্ত্র টিকে না। দেশের গণতন্ত্র অনেক আগেই নির্বাসিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের কাছে গণতন্ত্র অধিকার আশা করা যায় না। তারা বারবারই গণতন্ত্র হত্যা করেছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র নিয়ে রসিকতা করার ক্ষমতা কেউ আপনাকে দেয় নাই। বিরোধী দল কে হবে, ডামি প্রার্থী কে নির্বাচিত হবে তাও আপনি ঠিক করে দিবেন এটাতো গণতন্ত্র হয়না।
নজরুল বলেন, ২০১৪ সালে বিনা ভোটের সরকার, ২০১৮ সালে নিশিরাতের সরকার আর এবার হলো ডামি সরকার। একটি প্রহসন করে নির্বাচন করা হয়েছে। এই ডামি নির্বাচনে একটা সরকার গঠন করা হয়েছে। এটা জনগণের সরকার না। বাংলাদেশের জনগণ ভোট দিয়ে সরকার গঠন করে নাই।
তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা এখন সংসদ সদস্য হয় না, ব্যবসায়ীরা এখন সংসদ সদস্য হয়। তাই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, প্রতিনিয়ত ভূমিহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। শ্রমজীবী মানুষ অনিশ্চিত জীবন যাপন করছে। আজকের এই অবস্থা থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।
খালেদা জিয়ার জামিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে, তাদের জামিন হয়, বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পায়, কিন্তু খালেদা জিয়াকে সুযোগ দেয়া হচ্ছে।
নজরুল বলেন, ‘ক্রমান্বয়ে বিএনপির শক্তিমত্তার কলেবর বাড়ছে। এটাই জিয়াউর রহমানের কৃতিত্ব। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি যিনি পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রথম বলেছিলেন– উই রিভোল্ট। মেজর জিয়ার নেতৃত্বে চট্টগ্রামে যে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল সেটি স্ট্যালিনগ্রাদের প্রতিরোধের মতো।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদিন ফারুক বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা করেও সফল হয়নি সরকার, বিএনপির নেতাকর্মীরা হারেনি। জনগণ জেগে উঠেছে, তবে বাধ সেধেছে পুলিশ বাহিনী।
তিনি বলেন, জীবন-মরণ লড়াই করা হবে এরপরও আওয়ামী লীগকে বাকশাল কায়েম করতে দেয়া হবে না। নেতাকর্মীরা হতাশ নয়, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের ধমকে বিএনপি ভয় পায় না। অভিনব কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়েছে। অচিরেই জনগণকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।