মেহেরপুর গাংনীতে বিএডিসির দুই কর্মকর্তা অবরুদ্ধ, পুলিশের হস্তক্ষেপে উদ্ধার।
- প্রকাশ : ০৮:৫২:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 17
জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।
গাংনী প্রতিনিধি:
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা বিএডিসি অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম ও ইলেকট্রিশিয়ান দেলোয়ার হোসেনকে ঘুষ বাণিজ্য ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ক্ষুব্ধ জনতা অবরুদ্ধ করে রাখে। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার কড়ুইগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌছে দুই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সেচ পাম্প ও সৌরবিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়ার নামে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ বাণিজ্য, অনিয়ম ও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ করে আসছিলেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ রয়েছে-বরাদ্দের বিপরীতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি, তালিকা প্রণয়নে স্বচ্ছতার অভাব, নিকট দূরত্বে একাধিক পাম্পের লাইসেন্স প্রদানসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড।
বৃহস্পতিবার এসব অভিযোগের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা বিএডিসির দুই কর্মকর্তাকে ঘেরাও করে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় প্রশাসনে খবর দেওয়া হয়। পরে এলাঙ্গী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং কর্মকর্তাদের উদ্ধার করেন।
কড়ুইগাছি গ্রামের ভুক্তভোগী আব্দুল কাদের বলেন, ২০২৩ সালে সেচপাম্পের জন্য আবেদন করি। বারবার মাপঝোকের কথা বলে ঘুরাতে থাকে। পরে অফিসের কর্মচারী দেলোয়ার আমার বাবাকে ১০ হাজার টাকা দিতে বলেন। টাকা না দেওয়ায় আমরা সেচ পাম্পের লাইসেন্স পাইনি। অথচ একই মাঠে মাত্র ৫০ ফুট দূরত্বে চারজন কৃষককে লাইসেন্স দিয়েছে। এসব লাইসেন্স পেয়েছে ঘুষ দিয়ে।
একই এলাকার কৃষক ঝন্টু জানান, সৌরবিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য দেলোয়ার প্রথমে ৪০ হাজার টাকা, পরে আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় পরে জানায়- ৬০ হাজার টাকায় অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছে।
আরেক কৃষক মিয়াজানও অনুরূপ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ৪০ হাজার টাকায় কথাবার্তা ঠিকঠাক হওয়ার পরও সৌরবিদ্যুৎ পাইনি। পরে জানতে পারি, বেশি টাকায় অন্যকে বরাদ্দ দিয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইলেকট্রিশিয়ান দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি কাউকে কোনো টাকা দিইনি বা কারো কাছে দাবি করিনি। সব অভিযোগ ভিত্তিহীন।
উপসহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে একটি তদন্তে এসেছিলাম। তদন্তে এসে এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আমরা ইউটিএম অনুযায়ী সেচ পাম্পের লাইসেন্স প্রদান করি। ৮২০ ফুট দূরত্বের নিয়ম অনুসরণ করা হয়। যাদের লাইসেন্স হয়নি, তারা নানা অভিযোগ তুলছেন।




















