দুদকের অভিযান সরকারি খাদ্য গোডাউনে ৫৬২ মেট্রিকটন ধান-চালের হদিস মেলেনি।
- প্রকাশ : ১১:১৮:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
- / 20
জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।
মোঃ জাকির হোসেন কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।
কুড়িগ্রামে সরকারি খাদ্য গুদামে বিপুল পরিমাণ ধান ও চালের ঘাটতির তথ্য উঠে এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে। অভিযানে ৫২১ মেট্রিকটন ধান ও সাড়ে ৪১ মেট্রিকটন চালসহ মোট ৫৬২ মেট্রিকটন খাদ্যশস্যের হদিস পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দুদক।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সরকারি খাদ্য গুদামে পরিচালিত দুদকের অভিযানে এসব অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কুড়িগ্রামের সহকারী পরিচালক সাবদারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদক প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনায় জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ সাবদারুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে উপসহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান চৌধুরী ও আতিকুর রহমান অংশ নেন। এ সময় খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, এলএসডি) উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, সরকারি খাদ্য গুদামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিম্নমানের চাল সংগ্রহ, নতুন বস্তার পরিবর্তে পুরাতন বস্তা ক্রয়, এবং সরকারি খাদ্যশস্য অন্যত্র বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ১২টি সরকারি খাদ্য গুদামের খাদ্য মজুদ যাচাই করা হয়। এতে বিভিন্ন গুদামে প্রায় ৫২১ মেট্রিকটন ধান ও ১ হাজার ৩৭২ বস্তা চালের ঘাটতি পাওয়া যায়। ৩০ কেজি ওজনের এসব বস্তার মোট ওজন প্রায় ৪১ মেট্রিকটন।
এছাড়াও একটি গুদামে ৫০ কেজি ওজনের ২ হাজার ৪০৭ বস্তা চাল (প্রায় ১২০ মেট্রিকটন) পাওয়া যায়, যার মজুদের বিষয়ে খাদ্য বিভাগ কোনো রেজিস্টার, স্টক রেকর্ড বা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। অভিযানের সময় খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, এলএসডি) শরীফ আহমেদ উপস্থিত থাকলেও এত বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য ঘাটতি ও অতিরিক্ত মজুদের বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
দুদকের সহকারী পরিচালক সাবদারুল ইসলাম জানান,
“ধান-চাল ঘাটতি এবং অতিরিক্ত চালের বস্তা মজুদের বিষয়ে খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো রেজিস্টার, রেকর্ড বই কিংবা ডকুমেন্টস দেখাতে পারেননি। এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক একটি যাচাই কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দুদকের অভিযানের সার্বিক প্রতিবেদন প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী হামিদুল হক এবং ওসি (এলএসডি) শরীফ আহমেদ–এর বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কেউ ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সরকারি খাদ্য গুদামে এ ধরনের বড় অঙ্কের অনিয়ম ও খাদ্যশস্য ঘাটতির ঘটনায় জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।




















