তারাকান্দা থানায় অভিযোগ লিখাতে গুণতে হয় টাকা।
- প্রকাশ : ০১:৩১:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
- / 4
জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।
মোঃ হেলাল উদ্দিন সরকার।
ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলায় তারাকান্দায় থানায় অভিযোগ বা দরখাস্ত লিখতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ নিরীহ বিচারপ্রার্থীরা। থানার সামনে ও আশেপাশে কম্পিউটার দোকানে একটি সাধারণ অভিযোগ কম্পিউটার করার নামে কতিপয় লেখকদেরকে চার-পাঁচ শত টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। অতিরিক্ত এই অর্থ আদায়ে জনসাধারণ অতিষ্ঠ হয়ে ভুক্তভোগীরা ময়মনসিংহ পুলিশ সুপারের (এসপি) জরুরি সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
আরো জানা গেছে, তারাকান্দা উপজেলার জনগণ/ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে মানুষ যখন আইনি সহায়তার জন্য থানায় আসেন, তখন প্রথমেই তাদের অভিযোগপত্র বা দরখাস্ত তৈরি করতে হয়। এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে থানার সামনে দোকান নিয়ে বসা কিছু কম্পিউটার অপারেটর ও লেখক সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। তারা প্রতিটি দরখাস্ত লেখার জন্য অসহায় বিচারপ্রার্থীদের বিকট হইতে ইচ্ছেমতো ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দাবি করেন।
থানায় আসা এক বিচারপ্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা বিপদে পড়ে পুলিশের কাছে আসি। কিন্তু থানার সামনেই যদি একটা দরখাস্ত লিখতে ৫০০ টাকা দিতে হয়, তবে গরিব মানুষ কোথায় যাবে? অনেকেই বাধ্য হয়েই এই টাকা দিচ্ছে, কারণ দরখাস্ত ছাড়া পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করতে চায় না।” আরেকজন ভুক্তভোগী জানান, সরকার যেখানে জনবান্ধব পুলিশিংয়ের কথা বলছে, সেখানে থানার দোরগোড়ায় এমন “ফি” আদায় প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, এই লেখকদের কোনো নির্দিষ্ট রেট চার্ট নেই। তারা মানুষের চেহারা ও বিপদের গুরুত্ব বুঝে টাকার অঙ্ক নির্ধারণ করেন। অনেক সময় সঠিক আইনি ভাষা না জেনেও তারা দায়সারাভাবে দরখাস্ত লিখে দিচ্ছেন, যার ফলে পরবর্তীতে মামলার কার্যক্রমেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
এলাকার সচেতন মহল ও বিচারপ্রার্থীরা মনে করেন, পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি না থাকার ফলে এই চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে দাবি জানিয়েছেন যেন: থানার আশেপাশে এসব দোকানের কার্যক্রম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ করা হয়। থানায় একটি নির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ ‘হেল্প ডেস্ক’ বা সহায়তাকারী দল থাকে যারা বিনামূল্যে বা সরকার নির্ধারিত সামান্য মূল্যে সাধারণ মানুষকে অভিযোগ লিখতে সহায়তা করবে। এই অনিয়ম বন্ধ হলে সাধারণ মানুষ হয়রানিমুক্ত আইনি সেবা পাবেন বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।




















