প্রশিকায় গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের দায়ে কর্মকর্তা অঞ্জলি চৌধুরী কারাগারে।
- প্রকাশ : ০১:৫০:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
- / 2
জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।
জেলা প্রতিনিধি-গোপালগঞ্জ।
—————–
আজ সোমবার ( ৬ এপ্রিল) দুপুরে, সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী, গোপালগঞ্জ জেলা আদালত সি, আর মামলা নং ১০১২/২০২৩-এর শুনানি শেষে অঞ্জলি চৌধুরীকে অপরাধী সাব্যস্ত করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেয়। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাচুড়িয়া এলাকায় ‘প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র’ নামক একটি এনজিওর ঋণ কার্যক্রমে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
গ্রাহকের জমা দেওয়া অর্থের সঙ্গে কোম্পানির অফিসিয়াল হিসাবের বড়ো ধরনের গরমিল পাওয়ার পর, ফিল্ড অফিসার অঞ্জলি চৌধুরীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. ফয়জুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী আইরিন খানম উক্ত এনজিও থেকে মোট ৪ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করে আসছিলেন। তবে পরবর্তীতে তাঁদের দেওয়া কিস্তির পরিমাণ ও তারিখ নিয়ে পাসবই এবং অফিসের কমপিউটার লেজারের মধ্যে গুরুতর অসংগতি ধরা পড়ে।
তদন্তে দেখা গেছে, গ্রাহকের জমা দেওয়া মোট অর্থের একটি অংশ অফিসিয়াল হিসাবে অন্তর্ভুক্ত না করে ফিল্ড অফিসার অঞ্জলি চৌধুরীর ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গ) ও ৪২০ (প্রতারণা) ধারায় অপরাধ সংঘটনের বিষয়টি তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, পুরোনো ও নতুন পাসবই তুলনা করে দেখা যায় যে, কয়েকটি কিস্তির তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং অফিসের লেজার স্টেটমেন্টেও অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তিনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এর প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্তৃপক্ষও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, অভিযুক্ত অঞ্জলি চৌধুরীর এর আগেও বিভিন্ন নিরক্ষর গ্রাহকের থেকে কিস্তির টাকা নিয়ে তা বইতে এন্ট্রি না করে আত্মসাৎ করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বিজ্ঞ আদালতের এই যুগান্তকারী রায়, গ্রামীণ, নিরক্ষর গ্রাহকদের প্রতারণা থেকে মুক্তি দিতে এবং ভবিষ্যতে অসৎ এনজিও কর্মকর্তাদের এ ধরনের অপরাধ থেকে বিরত রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।



















