নির্বাচনে হেরে পারস্পরিক দোষারোপ বন্ধ করুন: শেখ হাসিনা
- প্রকাশ : ০৫:২৯:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৪
- / 94
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে হেরে যাওয়া প্রার্থীদের পারস্পরিক দোষারোপ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসনা। যারা দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে হেরেছেন তাদেরও একই অনুরোধ করেছেন তিনি।
সোমবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভায় তিনি এসব কথা। সভায় দলের সভাপতিমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরা ছাড়াও সহযোগী ও ভাতৃপ্রতীম সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।
যৌথসভা শুরুর আগে শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখেন।
শেখ হাসিনা সতর্ক করে বলেন, আওয়ামী লীগের লোকেরা যদি নিজেরা দোষ খুঁজতে থাকে, তাহলে তা বিরোধীদের আরও উৎফুল্ল করবে।
শেখ হাসিনা বলেন, এই নির্বাচনটা যাতে না হয় এটা নিয়ে অনেক চক্রান্ত ছিলো, অনেক ষড়যন্ত্র ছিলো। সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই আমরা নির্বাচনটা করেছি। আমরা নির্বাচনে সব সময় মনোনয়ন দিয়েছি, আর আমাদের বড় দল, অনেকেই নির্বাচন করতে চায়, সেই জন্য নির্বাচনটা আমরা উন্মুক্ত করে দিয়েছিলাম। সেখানে কেউ জয়ী হয়েছে, কেউ জয়ী হতে পারেনি। সেক্ষেত্রে আমি একটা অনুরোধ করব, একজন আরেকজনকে দোষারোপ করা বা কার কী দোষ ছিল খুঁজে বের করা, এগুলো বন্ধ করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, কাউকে বেশি দোষারোপ করা এবং একে অপরের দোষ ধরা নিয়ে যদি ব্যস্ত থাকি, তাহলে এটা কিন্তু আমাদের বিরোধী দলকে আরও উত্ফুল্ল করবে।
বিএনপি-জামায়াত ও সমমনাদের বর্জনের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নৌকার মনোনীতদের বাইরে দলের নেতাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলো। স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করা আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে ৫৯ জন নৌকাকে হারিয়ে জিতেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দল এবং আরও কয়েকটি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। আমরা জনগণের যে সমর্থন পেয়েছি সেটা কাজের স্বীকৃতি। আমরা জনগণের জন্য কাজ করেছি, সেই জন্য মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছে। সেখানে হয়ত কেউ জিততে পেরেছে, কেউ পারেনি। হারা জিতা যাই হোক, সেটা মেনে নিয়ে দেশের জন্য, দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করতে হবে
পরাজয় জেনেই বিএনপি নির্বাচনে আসেনি বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসলে আমাদের বিরুদ্ধে যে দল, তারা তো গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচন করে অভ্যস্ত না। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে যেসব জরিপ হয়েছিল, সেখানে বিএনপি তাদের জোট নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে সরকার গঠন করবে না, সেই সংখ্যক সিট তারা পাবে না, এটা উঠে এসেছিলো। একমাত্র আওয়ামী লীগই সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত সিট পাবে, সেই কথা শোনার পরে তারা নির্বাচনে আসবে না, এটা তো স্বাভাবিক।
বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ওদের সৃষ্টি হচ্ছে অবৈধভাবে অস্ত্র হাতে নিয়ে ক্ষমতা দখল করে, জনগণের ভোট চুরি করে। এসব কালচার তো বিএনপির আমলেই সৃষ্ট। দুর্নীতি করা আর মানুষ খুন করা, এটাই তো বিএনপির চরিত্র, এটাই তারা পারে।
তিনি বলেন, তাদের নেতাও দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত। এই অবস্থায় আমরা সরকার গঠন করেছি। জনগণের আস্থা বিশ্বাস আমরা পেয়েছি। এই বিশ্বাসের মর্যাদায় আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। উন্নয়নের কাজগুলো আমরা করে যাচ্ছি।
বিএনপিকে নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যারা রেল গাড়িতে আগুন দিয়ে মা শিশুকে মারে, যারা বাসে আগুন দিয়ে মানুষ মারে, যারা ট্রাকে আগুন দিয়ে মানুষ মারে, ওই অগ্নি সন্ত্রাসীদের থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আর মিথ্যাচার এই দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে। তাদেরকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিএনপির ভোট বর্জনের ডাকে মানুষ সাড়া দেয়নি দাবি করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, তারা লিফলেট বিতরণ করেছে মানুষ যেন ভোট কেন্দ্রে না যায়। কিন্তু তারা যত বেশি লিফলেট বিতরণ করবে, তত বেশি ভোট কেন্দ্রে মানুষ যাবে, এটা হল বাস্তব কথা। যারা এভাবে নির্বাচন বানচাল করতে চায়, তারা গণতান্ত্রিক পরিবেশই চায় না। যারা গণতন্ত্র চায় না, নির্বাচন চায় না, তারা দেশের শত্রু, জনগণের শত্রু। তাদেরকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের কথা ছেড়ে দিয়ে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশের উন্নয়নের বৃত্তান্ত তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ যদি তাকে ৮১ সালে না ডাকতো এবং দায়িত্ব না দিতো তাহলে তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছতে বা দেশের উন্নতি করতে পারতেন না। কাজেই এই আওয়ামী লীগ অফিস এটাই তার মূল শেকড়। এজন্য দলের অগনিত নেতা-কর্মীর প্রতি তার কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এক সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের সারথি যারা আজকে নেই তাদেরও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, এখান থেকে আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম সবকিছু শুরু। এই অফিসের সঙ্গে আমার জীবনের অনেক স্মৃতি জড়িত।
ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর গত কয়েকদিনে তার বিভিন্ন কর্মসূচির উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মীদের নিয়ে গণভবনে বৈঠক করতে পারতেন। কিন্তু ভেবেছেন, না তার যেখানে মূল শেকড় সেখানে তাকে আসতেই হবে, সেজন্যই তার কেন্দ্রীয় অফিসে আসা।




















