দেশে রাজনৈতিক দলের অভাব রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
- প্রকাশ : ০৯:৫৮:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
- / 64
দেশে রাজনৈতিক দলের অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বলেছেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে শুধু আওয়ামী লীগই গণমানুষের জন্য কথা বলে যাচ্ছে।
জার্মানির মিউনিখে তিন দিনের সফরের বিষয়ে শুক্রবার গণভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। টানা চতুর্থবারের মত সরকার গঠনের পর এটা তার প্রথম সংবাদ সম্মেলন।
এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আসলে রাজনৈতিক দলের অভাব রয়েছে বাংলাদেশে। আওয়ামী লীগ ১৯৪৯ সালে গঠিত হয়। গণমানুষের কথা বলে এবং আন্দোলন সংগ্রাম করেই আওয়ামী লীগ এগিয়ে গেছে। আমি যদি আমার প্রতিপক্ষ কয়েকটি দল দেখি, একটা তো যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলামী। তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিলো।
কিন্তু সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জিয়াউর রহমান তাদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয়। সংবিধান সংশোধন করে এদেরকে ভোটের অধিকার দিয়েছে, এমনকি পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে যে ফিরে গিয়েছিলো, তাকেও আবার ফিরিয়ে এনেছে এবং তাদেরকে দল করার অধিকার দিয়েছে। আর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের খালেদা জিয়া সংসদে বসিয়েছিলো,’ বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
শেখ হাসিনা বলেন, মিলিটারি ডিক্টেটরদের পকেট থেকে দুটো পার্টি হয়েছে। একটি বিএনপি, আরেকটি জাতীয় পার্টি। ক্ষমতার উচ্চ আসনে বসে যে দলগুলো তৈরি হয়, সেগুলোর তো আসলে মাটি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক থাকে না। তাদের শিকড়ের সন্ধান কোথায়?
এ কারণেই কেউ তাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে-এমন ভাবনা তাদের থাকে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সেটা করতে গিয়ে তারা প্রথম ধরা খেলো ২০০৮ সালের নির্বাচনে। এ নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন করতে পারেনি। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৩৩ আসন পেলো। আর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় ঐক্য জোট পেলো ৩০ আসন।
আর এরপর থেকেই তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ধ্বংস করার অপচেষ্টা শুরু করে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, বারবার সে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। কিন্তু আমরা যেভাবে পারি, সেখান থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে পেরেছি।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ধারা স্থায়ী করার শুভফল দেশবাসী পাচ্ছে। তাদের জীবন মান উন্নত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমরা এগিয়ে যাবো।
ইতোমধ্যেই তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় দীর্ঘমেয়াদি ও প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১ থেকে ২০৪১ ঘোষণা করার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
বলেন, এতে প্রতিটি মানুষের জীবনমান আরো উন্নত হবে এবং বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হবে। এটাই আমাদের লক্ষ্য। কিন্তু আমাদের প্রতিপক্ষরা জ্বালাও পোড়াও, মানুষ খুন, ট্রেন ও বাসে আগুন, মা ও শিশুকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, রাজনীতি যদি জনগণের জন্য হয়, সে রাজনীতি জনগণের জন্যই, জনগণের কল্যাণেই কাজ করে। আর রাজনীতি যদি হয় শুধু ক্ষমতা দখল আর ক্ষমতা উপভোগ করা, তাহলে তো মানুষ কিছু পাবে না।




















