০৮:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এফ-১৬ পাঠালে ভূপাতিত করবে রাশিয়া: পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সারাবাংলাটোয়েন্টিফোরনিউজ.কম
  • প্রকাশ : ০৯:৩৭:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ ২০২৪
  • / 70

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী জয়ী হয়েই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধিয়ে দেওয়ার হুঙ্কার ছেড়েছিলেন ভ্লাদিমির পুতিন। টানা পাঁচবার ক্রেমলিনের মসনদে বসার পর থেকেই বেশ চনমনে মেজাজে আছেন এই রুশ বরপুত্র। তবে, ইউক্রেন ইস্যুতে যেন, তার মটকা সব সময়ই একটু গরম থাকে। কিয়েভের প্রতি পশ্চিমাদের পিরিত দেখে দারুণ বিরক্ত পুতিন।
অথচ পশ্চিমাদের এই বাড়াবাড়ি রকমের আচরণের কারণেই ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করতে বাধ্য হন তিনি। বাড়ির পাশে ন্যাটোর উপস্থিতিতে কিছুতেই মেনে নিবেন না। বারবার এই কথা বলার পরও জেলেনস্কি তাকে কর্ণপাত করেননি। পরিণামে বরণ করতে হয়ে ধ্বংস। শুরুতে পশ্চিমারা ব্যাপক হারে যুদ্ধে সহায়তা দিলেও, এখন তাতে ভাটা পড়েছে।
যুদ্ধের ময়দানের সেনা আর গোলা বারুদের অভাবে এমনিতেই দৌড়ের উপর আছে ইউক্রেন। সেই সঙ্গে রাশিয়াও বাড়িয়েছে আক্রমণের তেজ। সব কিছু দেখে স্বয়ং ফরাসি নেতা ইমানুয়েল ম্যাক্রো আশঙ্কা জানিয়েছেন, যে কোন মুহূর্তেই কিয়েভের পতন হবে। কেউ ঠেকাতে পারবে না রাশিয়াকে। কিন্তু গোদের উপর বিষফোড়া ন্যাটো কিছুতেই যেন হাল ছাড়তে নারাজ।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শুরু থেকেই, ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে চেয়ে আসছে আধুনিক এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। এমনকি এই ফাইটার দেয়ার আগে অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমান চালনার প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে ইউক্রেনীয় পাইলটদের। ফ্রান্স ও ব্রিটেনের বিভিন্ন ঘাঁটিতে চলছে সেই প্রশিক্ষণ। একথা জানেও ক্রেমলিন। বাইডেন জানিয়েছে, আর কিছু দিন সবুর করতে।
খুব শিগগিরই ইউক্রেনের উড়ে যাবে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-১৬। আর এই খবরেই বেজায় চটেছেন রুশ নেতা পুতিন। বুধবার রাশিয়ার সামরিক পাইলটদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেয়ার সময় নেই রাগ কিছুটা ঝেড়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারি বার্তা পাঠিয়েছেন, এফ-১৬ বিমান ইউক্রেনের আকাশে দেখা গেলেই সেটি নির্ঘাত রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তু হবে।
পুতিনকে পরিষ্কার ভাষায় বার্ত পাঠিয়ে বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে এফ-১৬ ফাইটার জেট সরবরাহ করলেও এই বিমানটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটাবে না। তবে এই ফাইটার জেটগুলো পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতে পারে এবং মস্কোকে তার সামরিক পরিকল্পনায় এটি বিবেচনায় রাখতে হবে।
পোল্যান্ড, বাল্টিক রাজ্য বা চেক প্রজাতন্ত্রের মতো ন্যাটোর কোনও দেশ রাশিয়া আক্রমণ করবে না এমন নিশ্চয়তা দিয়ে পুতিন সতর্ক করে বলেন, তবে পশ্চিমারা ইউক্রেনে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান চালানোর জন্য যোদ্ধা সরবরাহ করলে সে বিমান অবশ্যই গুলি করে ধ্বংস করবে রুশ বাহিনী। এটা নাৎসি ইউক্রেন ও ন্যাটো হালকাভাবে নিলে ভুল করবে।
রাশিয়ান বিমান বাহিনীর পাইলটদের সঙ্গে কথা বলার সময় পুতিন বলেছিলেন, ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো পূর্ব দিকে রাশিয়াকে লক্ষ্য করে প্রসারিত হয়েছিলো। তবে ন্যাটোর কোনও একটি রাষ্ট্রে আক্রমণ করার কোনও পরিকল্পনা ছিলো না মস্কোর। এখনও নেই বলেও জানান তিনি।
রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আমরা এই বিমানগুলোকেও ধ্বংস করব ঠিক যেমন প্রতিদিনই ট্যাংক, সাঁজোয়া যান এবং একাধিক রকেট লঞ্চারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ধ্বংস করছি। এফ-১৬ ফাইটারগুলোর পারমাণবিক অস্ত্র বহন করার ক্ষমতা রয়েছে এবং আমরা কীভাবে এই বিষয়গুলো মোকাবিলা করব তা আমাদের অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে।
নিজ দেশের পাইলটদের উদ্দেশ্য রুশ নেতা আরও বলেন, যদি ইউক্রেনকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করে এবং তারা এই বিষয়ে কথাও বলছে এবং স্পষ্টতই পাইলটদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছে, তারপরও এটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন ঘটাবে না। তারা যদি সেগুলো তৃতীয় দেশের বিমানঘাঁটি থেকে ব্যবহার করে, তবে সেগুলো যেখানেই অবস্থান করুক না কেন তা অবশ্যই আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
মঙ্গলবার ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো জানান, আগামী মাসগুলোর মধ্যেই এফ-১৬ বিমান ইউক্রেনে পৌঁছানো উচিত। তার ওই মন্তব্যের পর এমন মন্তব্য করেছেন পুতিন। বেশ কয়েক মাস ধরেই এফ-১৬ যুদ্ধবিমান চেয়ে আসছে ইউক্রেন। বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, নরওয়ে এবং নেদারল্যান্ডসসহ আরও কিছু দেশ ইউক্রেনকে এফ-১৬ সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

এফ-১৬ পাঠালে ভূপাতিত করবে রাশিয়া: পুতিন

প্রকাশ : ০৯:৩৭:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ ২০২৪

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী জয়ী হয়েই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধিয়ে দেওয়ার হুঙ্কার ছেড়েছিলেন ভ্লাদিমির পুতিন। টানা পাঁচবার ক্রেমলিনের মসনদে বসার পর থেকেই বেশ চনমনে মেজাজে আছেন এই রুশ বরপুত্র। তবে, ইউক্রেন ইস্যুতে যেন, তার মটকা সব সময়ই একটু গরম থাকে। কিয়েভের প্রতি পশ্চিমাদের পিরিত দেখে দারুণ বিরক্ত পুতিন।
অথচ পশ্চিমাদের এই বাড়াবাড়ি রকমের আচরণের কারণেই ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করতে বাধ্য হন তিনি। বাড়ির পাশে ন্যাটোর উপস্থিতিতে কিছুতেই মেনে নিবেন না। বারবার এই কথা বলার পরও জেলেনস্কি তাকে কর্ণপাত করেননি। পরিণামে বরণ করতে হয়ে ধ্বংস। শুরুতে পশ্চিমারা ব্যাপক হারে যুদ্ধে সহায়তা দিলেও, এখন তাতে ভাটা পড়েছে।
যুদ্ধের ময়দানের সেনা আর গোলা বারুদের অভাবে এমনিতেই দৌড়ের উপর আছে ইউক্রেন। সেই সঙ্গে রাশিয়াও বাড়িয়েছে আক্রমণের তেজ। সব কিছু দেখে স্বয়ং ফরাসি নেতা ইমানুয়েল ম্যাক্রো আশঙ্কা জানিয়েছেন, যে কোন মুহূর্তেই কিয়েভের পতন হবে। কেউ ঠেকাতে পারবে না রাশিয়াকে। কিন্তু গোদের উপর বিষফোড়া ন্যাটো কিছুতেই যেন হাল ছাড়তে নারাজ।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শুরু থেকেই, ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে চেয়ে আসছে আধুনিক এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। এমনকি এই ফাইটার দেয়ার আগে অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমান চালনার প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে ইউক্রেনীয় পাইলটদের। ফ্রান্স ও ব্রিটেনের বিভিন্ন ঘাঁটিতে চলছে সেই প্রশিক্ষণ। একথা জানেও ক্রেমলিন। বাইডেন জানিয়েছে, আর কিছু দিন সবুর করতে।
খুব শিগগিরই ইউক্রেনের উড়ে যাবে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-১৬। আর এই খবরেই বেজায় চটেছেন রুশ নেতা পুতিন। বুধবার রাশিয়ার সামরিক পাইলটদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেয়ার সময় নেই রাগ কিছুটা ঝেড়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারি বার্তা পাঠিয়েছেন, এফ-১৬ বিমান ইউক্রেনের আকাশে দেখা গেলেই সেটি নির্ঘাত রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তু হবে।
পুতিনকে পরিষ্কার ভাষায় বার্ত পাঠিয়ে বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে এফ-১৬ ফাইটার জেট সরবরাহ করলেও এই বিমানটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটাবে না। তবে এই ফাইটার জেটগুলো পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতে পারে এবং মস্কোকে তার সামরিক পরিকল্পনায় এটি বিবেচনায় রাখতে হবে।
পোল্যান্ড, বাল্টিক রাজ্য বা চেক প্রজাতন্ত্রের মতো ন্যাটোর কোনও দেশ রাশিয়া আক্রমণ করবে না এমন নিশ্চয়তা দিয়ে পুতিন সতর্ক করে বলেন, তবে পশ্চিমারা ইউক্রেনে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান চালানোর জন্য যোদ্ধা সরবরাহ করলে সে বিমান অবশ্যই গুলি করে ধ্বংস করবে রুশ বাহিনী। এটা নাৎসি ইউক্রেন ও ন্যাটো হালকাভাবে নিলে ভুল করবে।
রাশিয়ান বিমান বাহিনীর পাইলটদের সঙ্গে কথা বলার সময় পুতিন বলেছিলেন, ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো পূর্ব দিকে রাশিয়াকে লক্ষ্য করে প্রসারিত হয়েছিলো। তবে ন্যাটোর কোনও একটি রাষ্ট্রে আক্রমণ করার কোনও পরিকল্পনা ছিলো না মস্কোর। এখনও নেই বলেও জানান তিনি।
রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আমরা এই বিমানগুলোকেও ধ্বংস করব ঠিক যেমন প্রতিদিনই ট্যাংক, সাঁজোয়া যান এবং একাধিক রকেট লঞ্চারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ধ্বংস করছি। এফ-১৬ ফাইটারগুলোর পারমাণবিক অস্ত্র বহন করার ক্ষমতা রয়েছে এবং আমরা কীভাবে এই বিষয়গুলো মোকাবিলা করব তা আমাদের অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে।
নিজ দেশের পাইলটদের উদ্দেশ্য রুশ নেতা আরও বলেন, যদি ইউক্রেনকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করে এবং তারা এই বিষয়ে কথাও বলছে এবং স্পষ্টতই পাইলটদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছে, তারপরও এটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন ঘটাবে না। তারা যদি সেগুলো তৃতীয় দেশের বিমানঘাঁটি থেকে ব্যবহার করে, তবে সেগুলো যেখানেই অবস্থান করুক না কেন তা অবশ্যই আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
মঙ্গলবার ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো জানান, আগামী মাসগুলোর মধ্যেই এফ-১৬ বিমান ইউক্রেনে পৌঁছানো উচিত। তার ওই মন্তব্যের পর এমন মন্তব্য করেছেন পুতিন। বেশ কয়েক মাস ধরেই এফ-১৬ যুদ্ধবিমান চেয়ে আসছে ইউক্রেন। বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, নরওয়ে এবং নেদারল্যান্ডসসহ আরও কিছু দেশ ইউক্রেনকে এফ-১৬ সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।