০৮:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাকসামে নাড়িদিয়া খালের অবৈধ বাঁধ গুঁড়িয়ে দিলেন এমপি আবুল কালাম, কৃষকদের স্বস্তি।

হৃদয় চন্দ্র দাস লাকসাম উপজেলা প্রতিনিধি :
  • প্রকাশ : ০১:৫৪:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 2

জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।

হৃদয় চন্দ্র দাস লাকসাম উপজেলা প্রতিনিধি :

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়ন নাড়িদিয়া গ্রামের বিরুলিয়া খালের অবৈধভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে কৃত্রিমভাবে দেয়া বেড়িবাধ এলাকা পরিদর্শন করেছেন শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম।

প্রধাণ অতিথি সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম মতবিনিময় তার বক্তব্য বলেন, খালের উপর বেড়িবাধ নির্মাণ করেছেন কারা পক্ষে ও বিপক্ষে। বিগত সরকারের আমলে কারা কারা টাকা দিয়াছেন যদি দিয়া থাকেন তাহলে আল্লাহর অস্তে মাপ করিয়া দেন। আমাদের সরকার নির্বাচনে ৩১ দফায় বলেছেন কোন খালের উপর বাঁধ হবে না কারন আমার সরকার নিষেদ্ধ খালের উপর কোন বাধ নির্মাণ হবে না। আমি সরেজমিনে দেখলাম খালের উপর যে নির্মাণ করেছেন যার ফলে কৃষকরা খুবই অসুবিধার সন্মখীন হবে।

আমরা একটা কাজ করতে পারি সুইচ গেইট নির্মাণ করতে পারি তাহলে কৃষকরা উপকৃত হবে। তিনি আর বলেন, আমরা কৃষকদের কার্ড কেন দিচ্ছি তারা যে, নিজেরা স্বয়ং সম্পূর্ন হতে পারে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্ন কৃষকরা যাতে পানি ব্যবস্থা সঠিক সময় পায় সে জন্য আমাদের খাল খনন কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য মতবিনিময় সভাশেষে খালের নীচে বেড়িবাঁধ নির্মাণটি তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে নিজে দাড়িয়ে ভেকুদিয়ে বেড়িবাঁধ ভাংগার ব্যবস্থা করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তরদা ইউনিয়ন নাড়িদিয়া গ্রামের বিরুলিয়া খালের অবৈধভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে কৃত্রিমভাবে দেয়া বেড়িবাধ তাছাড়া  কোথাও কোথাও বাঁধ ও ছোট ছোট কালভার্ট নির্মাণ করে গতিরোধ করা হয়েছে পানির। জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পরিষ্কার কার্যক্রম চললেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি নিষ্কাষণ না হওয়ায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে লাকসামবাসী।

এ এলাকার ভুক্তভোগী লোকজন বলেন, এক সময় এসব খাল ছিল কৃষি, যোগাযোগ ও পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম। কিন্তু দখল আর দুর্ষণের কারণে সেই খাল এখন মানুষের গলার কাঁটায় পরিনত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব দখল কার্যক্রম চললেও এখন পর্যন্ত কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। যার কারণে সামন্য বৃষ্টি হলেই বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি জলাবদ্ধতায় নির্মজ্জিত হয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের। তাই এসব দখলের উচ্ছেদ চান তাঁরা।

উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. টি.আর হারুন বলেন, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পর এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদেরর জন্য প্রশাসন ও জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডে আবেদন-নিবেদন করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ফলে আমরা ইউনিয়ন বিএনপি এবং ভুক্তভোগীরা খালের ওপর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছি এবং নিজেদের উদ্যোগে ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি খাল পরিষ্কার করেছি। একদিকে জলাবদ্ধতা, অন্যদিকে খাল দখলের কবলে হারিয়ে যাচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। এই জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ রক্ষার স্থায়ী সমাধান চান জেলাবাসী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- লাকসাম  উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারী আব্দুর রহমান বাদল, পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মজির আহমেদ, সেক্রেটারী মোঃ গোলাম ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ হোসেন মশু, মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার সহ উপজেলা, পৌরসভা বিএনপি অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

Please Share This Post in Your Social Media

লাকসামে নাড়িদিয়া খালের অবৈধ বাঁধ গুঁড়িয়ে দিলেন এমপি আবুল কালাম, কৃষকদের স্বস্তি।

প্রকাশ : ০১:৫৪:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।

হৃদয় চন্দ্র দাস লাকসাম উপজেলা প্রতিনিধি :

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়ন নাড়িদিয়া গ্রামের বিরুলিয়া খালের অবৈধভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে কৃত্রিমভাবে দেয়া বেড়িবাধ এলাকা পরিদর্শন করেছেন শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম।

প্রধাণ অতিথি সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম মতবিনিময় তার বক্তব্য বলেন, খালের উপর বেড়িবাধ নির্মাণ করেছেন কারা পক্ষে ও বিপক্ষে। বিগত সরকারের আমলে কারা কারা টাকা দিয়াছেন যদি দিয়া থাকেন তাহলে আল্লাহর অস্তে মাপ করিয়া দেন। আমাদের সরকার নির্বাচনে ৩১ দফায় বলেছেন কোন খালের উপর বাঁধ হবে না কারন আমার সরকার নিষেদ্ধ খালের উপর কোন বাধ নির্মাণ হবে না। আমি সরেজমিনে দেখলাম খালের উপর যে নির্মাণ করেছেন যার ফলে কৃষকরা খুবই অসুবিধার সন্মখীন হবে।

আমরা একটা কাজ করতে পারি সুইচ গেইট নির্মাণ করতে পারি তাহলে কৃষকরা উপকৃত হবে। তিনি আর বলেন, আমরা কৃষকদের কার্ড কেন দিচ্ছি তারা যে, নিজেরা স্বয়ং সম্পূর্ন হতে পারে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্ন কৃষকরা যাতে পানি ব্যবস্থা সঠিক সময় পায় সে জন্য আমাদের খাল খনন কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য মতবিনিময় সভাশেষে খালের নীচে বেড়িবাঁধ নির্মাণটি তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে নিজে দাড়িয়ে ভেকুদিয়ে বেড়িবাঁধ ভাংগার ব্যবস্থা করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তরদা ইউনিয়ন নাড়িদিয়া গ্রামের বিরুলিয়া খালের অবৈধভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে কৃত্রিমভাবে দেয়া বেড়িবাধ তাছাড়া  কোথাও কোথাও বাঁধ ও ছোট ছোট কালভার্ট নির্মাণ করে গতিরোধ করা হয়েছে পানির। জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পরিষ্কার কার্যক্রম চললেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি নিষ্কাষণ না হওয়ায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে লাকসামবাসী।

এ এলাকার ভুক্তভোগী লোকজন বলেন, এক সময় এসব খাল ছিল কৃষি, যোগাযোগ ও পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম। কিন্তু দখল আর দুর্ষণের কারণে সেই খাল এখন মানুষের গলার কাঁটায় পরিনত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব দখল কার্যক্রম চললেও এখন পর্যন্ত কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। যার কারণে সামন্য বৃষ্টি হলেই বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি জলাবদ্ধতায় নির্মজ্জিত হয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের। তাই এসব দখলের উচ্ছেদ চান তাঁরা।

উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. টি.আর হারুন বলেন, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পর এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদেরর জন্য প্রশাসন ও জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডে আবেদন-নিবেদন করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ফলে আমরা ইউনিয়ন বিএনপি এবং ভুক্তভোগীরা খালের ওপর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছি এবং নিজেদের উদ্যোগে ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি খাল পরিষ্কার করেছি। একদিকে জলাবদ্ধতা, অন্যদিকে খাল দখলের কবলে হারিয়ে যাচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। এই জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ রক্ষার স্থায়ী সমাধান চান জেলাবাসী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- লাকসাম  উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারী আব্দুর রহমান বাদল, পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মজির আহমেদ, সেক্রেটারী মোঃ গোলাম ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ হোসেন মশু, মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার সহ উপজেলা, পৌরসভা বিএনপি অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।