বাংলাদেশ ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কড়াকড়ি নজরদারির
- প্রকাশ : ১১:৫৮:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
- / 21
ফুলবাড়ী সীমা
জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।
মোঃ জাকির হোসেন ফুলবাড়ী কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কড়াকড়ি নজরদারির কারণে নোম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থিত ঐতিহাসিক দরবেশ কছিমুদ্দিনের মাজার জিয়ারত থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বাংলাদেশি শত শত ভক্ত ও আশেকান।
শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুটিচন্দ্রখানা–নাখারজান সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশ অংশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের অংশে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কঠোর অবস্থানের কারণে বাংলাদেশি ভক্তদের সীমান্ত অতিক্রম করে মাজারে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, দরবেশ কছিমুদ্দিনের মাজারটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার সেউটি-২ গ্রামে অবস্থিত। মাজারটি আন্তর্জাতিক সীমান্তের মেইন পিলার নং ৯৪১-এর সাব পিলার ১এস থেকে ৫এস-এর নিকটবর্তী নোম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় অবস্থিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই শত বছর আগে আরব থেকে আগত ইসলাম ধর্ম প্রচারক দরবেশ কছিমুদ্দিন (রহ.) এই অঞ্চলে এসে জিরো লাইনের কাছাকাছি এলাকায় আস্তানা গড়ে তোলেন। তার স্মৃতিবিজড়িত মাজারটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের উভয় দেশের ভক্তদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত।
আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) দরবেশ কছিমুদ্দিন (রহ.)-এর ৭৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর নিয়মিতভাবে মাজার জিয়ারত, দোয়া মাহফিল ও ধর্মীয় মেলার আয়োজন হয়ে থাকে। কিন্তু চলতি বছরে সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশি ভক্তরা মাজার জিয়ারত করতে না পারায় এলাকায় হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেক ভক্ত সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি এসে দোয়া ও মোনাজাত করে ফিরে যেতে বাধ্য হন। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ মৃত্যু দিবসকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ মিলনমেলা গড়ে উঠলেও এবছর সেটি সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সীমান্তে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ফলে নিরাপত্তাজনিত কারণে কাউকে নোম্যান্স ল্যান্ডে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এদিকে স্থানীয় ভক্ত ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ভবিষ্যতে দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সীমিত পরিসরে হলেও মাজার জিয়ারতের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।










