বিজিবি–বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত।
- প্রকাশ : ১০:৩১:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
- / 21
জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।
মোঃ জাকির হোসেন ফুলবাড়ী কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক জিরো লাইনের নিকট নতুন করে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি–বিএসএফের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফুলবাড়ী উপজেলার খলিশাকোঠাল সীমান্তে আন্তর্জাতিক মেইন পিলার নম্বর ৯৩৪-এর ১ নম্বর সাব-পিলারের নিকটে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলেও সীমান্তের সংবেদনশীলতা বিবেচনায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচনা করা হয়।
পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম। অপরদিকে ভারতের পক্ষে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন কোচবিহার-৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার কে. কে. রাও।
বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অনুসরণ, পারস্পরিক আস্থা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এড়াতে উভয় পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, বিএসএফ কর্তৃপক্ষ নতুন করে কোনো সড়ক নির্মাণ করবে না বলে স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছে। তিনি বলেন, বিএসএফ দাবি করেছে যে তারা ব্রিটিশ আমলে নির্মিত পুরোনো একটি সড়কের সংস্কার কাজ করছিল। জিরো লাইনে নতুন কোনো সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা তাদের নেই। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো কাজ গ্রহণের আগে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকার প্রকৃত অবস্থা যাচাই ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য খুব শিগগিরই বিজিবির একটি তদন্ত দল সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঠানো হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি থেকে ফুলবাড়ী সীমান্তের জিরো লাইনের নিকটে বিএসএফ নতুন করে সড়ক নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করলে বিজিবির পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়। এতে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং দফায় দফায় বিজিবি–বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিজিবির কঠোর অবস্থান ও কূটনৈতিক তৎপরতার মুখে শেষ পর্যন্ত বিএসএফ নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে সম্মত হয়। সোমবার অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের পতাকা বৈঠকে চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত হয়, জিরো লাইনের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কোনো নতুন সড়ক নির্মাণ করা হবে না; কেবল প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজই সীমিত পরিসরে করা হবে।










