সাংবাদিকরা নির্যাতিত হচ্ছেন কেন?
- প্রকাশ : ০৪:১৭:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২০
- / 100
একজন সাংবাদিক তার কাজ হলো অনুসন্ধান সাংবাদিক হিসেবে তার সংবাদ ছাপানোই। কিন্তু এই কাল হল সাংবাদিক ফরিদের।টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের ক্রসফায়ার বাণিজ্য ও নানা অপকর্মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করাই কাল হয়েছে স্থানীয় সাংবাদিক ফরিদের। অমানুষিক নির্যাতন ও বর্বরতা চালানো হয় ফরিদ ও তার পরিবার-পরিজনের ওপর।
যেভাবে সাংবাদিকদের পুলিশ রাস্তায় লাঠিপেটা করে এবং পরবর্তীতে সরকারের কোন কোন মন্ত্রী পুলিশের সমর্থনে কথাবার্তা বলেন, তাতে স্বাভাবিকভাবেই সাংবাদিকরা ক্ষুব্ধ এই কেমন নোংরা রাজনৈতিক খেলা অপরাধী পক্ষ নেওয়া। আমি একজন সাংবাদিক হিসেবে এই নোংরা রাজনৈতিক খেলা লজ্জিত মনে করি।
সাংবাদিকদের কেউ কেউ এমনকি বিষয়টিকে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ওপর হামলা হিসেবে দেখছেন।
সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সাহারা খাতুন অবশ্য পুলিশের হাতে সাংবাদিকদের নির্যাতিত হওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আর কিছু না ঐ সময়এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর যেসব নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে তার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।” তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এতটুকু আলোচনা শেষ হলো আর কিছু হলো না
বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় পুলিশের হামলায় সাংবাদিকদের আহত হবার ঘটনা একবারে নতুন কোন ঘটনা নয়। তবে সাংবাদিকদের অনেকেই বলছেন এ ধরনের ঘটনা গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য এক ধরনের বৈরী পরিবেশ তৈরি করছে।
সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলছিলেন তিনি এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেই দেখতে চান, ঘটনা ঘটার পর সরকার যেভাবে পুলিশের পক্ষ নেয়, তখন আর তা করার উপায় থাকে না।
আমি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে চাইলেও যখন ঘটনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা প্রতিমন্ত্রী পুলিশকে সার্টিফিকেট দেন তখন সেটি আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকেনা।
রাস্তায় বিক্ষোভ বা সহিংসতার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের হামলায় সাংবাদিক আহত হবার ঘটনা নতুন কিছু নয়। অনেকে এ বিষয়টি সাংবাদিকতার উপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক শামীম রেজা এ ঘটনাগুলোকে সে ভাবে দেখতে চাইছেন না।
“এটা সামগ্রিকভাবে যে সাংবাদিকতার উপর আঘাত সেটা আমার মনে হয়না। তবে সাংবাদিকদের আঘাত করার বিষয়ে পুলিশ কোন প্রণোদনা পাচ্ছে কিনা সেটি দেখতে হবে।”
তবে সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করছেন ভিন্নভাবে। তিনি মনে করেন সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হলে সেটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর আঘাত বলেই ধরে নেয়া যায়।
এই দিকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে মনে করা হচ্ছে
ধারনা করা হচ্ছে, ঘটনার দিন পুলিশের পক্ষ থেকে যে অভিযান চালানো হয়েছিল, সেটিও অবৈধ ছিল।
কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
















