১২:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনায় প্রতিদিনই বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন গ্রাম

সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
  • প্রকাশ : ০৮:৫০:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০
  • / 71

আটপাড়া(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি 
নেত্রকোনার আটপাড়ায় তিনটি ইউনিয়নে প্রায় সবগুলো গ্রাম বন্যায় প্লাবিত।
উপজেলা সাতটি  ইউনিয়নের মধ্যে শুনই, লুনেশ্বর, সুখারী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম বাদে পুরো ইউনিয়নই বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বানিয়াজান ইউনিয়নের  পূর্ব অংশ ইটাখোলা, চকপাড়া, নারায়ণপুর, মল্লিকপুর সহ কিছু অংশও বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।
 পাহাড়ি ঢল এবং অতিবৃষ্টির ফলে এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোথাও কোথাও বাড়ির উঠোনে আবার কোথাও কোথাও ঘরের ভিতরে হাটু পানি। ইউনিয়নগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে, বিশুদ্ধ পানির অভাব,এবং গবাদি পশু পালনে  নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন পানিবন্দি মানুষ।
 কবলিত এলাকায় আনুমানিক ৪০০ পুকুর   বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। শুনই ইউনিয়নের গোয়াতলা পশ্চিম পাড়া,  সহ কালিয়াকালি, ভরতোষী শাহবাজপুর, দরবেশপুর, ভোগাপাড়া, শ্যামপুর মেঘেরকান্দা, চাঁনপুর, পিয়াজকান্দি সহ প্রায় বিশটি গ্রাম বন্যার পানি উঠেছে। বন্যা কবলিত এলাকার কৃষকরা জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আমাদের ধান মণপ্রতি ৫০ টাকা কমে বিক্রি করতে হচ্ছে।
 কোভিড ১৯ করোনা ভাইরাস সংক্রমণে একদিকে জনগণ কর্মহারার কারণে আর্থিক সংকটে আবার বন্যা। ফলে এলাকার  মানুষ এখন দিশেহারা।
 লুনেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মাহফুজুল ইসলাম শিরিনের কাছে  বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, লুনেশ্বর ইউনিয়নে কয়েকটি গ্রাম ব্যতীত সমস্ত ইউনিয়নই বন্যায় কবলিত। নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন জায়গায় ইতিমধ্যে সড়কে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দিয়েছি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও নির্বাহী অফিসার মহোদয় কে বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছি। তিনি আরো জানান ইতিমধ্যে লুনেশ্বর ইউনিয়নের দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়য়ে কিছু পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।  সুখারী ইউপি চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন খোকন তালুকদার জানান ইউনিয়নের প্রায় শতেক পরিবার  আত্মীয় স্বজন সহ অন্যত্র অবস্থান করছে। এবং দেওশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে বারোটি পরিবার  পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। 

 ভাদ্র মাস থেকে আউশ আমন এর রোপন শুরু হবে। যদি বন্যা কবলিত এলাকার পানি কিছুদিনের মধ্যে  না কমে তবে আগামী আউশ-আমন চাষ অত্র এলাকায় অনিশ্চিত হবে। এই তিনটি ইউনিয়ন এবং বানিয়াজান ইউনিয়নে কিছু অংশে আনুমানিক প্রায় দুই হাজার পরিবার পানি বন্দি আছে।

Please Share This Post in Your Social Media

নেত্রকোনায় প্রতিদিনই বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন গ্রাম

প্রকাশ : ০৮:৫০:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০

আটপাড়া(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি 
নেত্রকোনার আটপাড়ায় তিনটি ইউনিয়নে প্রায় সবগুলো গ্রাম বন্যায় প্লাবিত।
উপজেলা সাতটি  ইউনিয়নের মধ্যে শুনই, লুনেশ্বর, সুখারী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম বাদে পুরো ইউনিয়নই বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বানিয়াজান ইউনিয়নের  পূর্ব অংশ ইটাখোলা, চকপাড়া, নারায়ণপুর, মল্লিকপুর সহ কিছু অংশও বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।
 পাহাড়ি ঢল এবং অতিবৃষ্টির ফলে এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোথাও কোথাও বাড়ির উঠোনে আবার কোথাও কোথাও ঘরের ভিতরে হাটু পানি। ইউনিয়নগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে, বিশুদ্ধ পানির অভাব,এবং গবাদি পশু পালনে  নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন পানিবন্দি মানুষ।
 কবলিত এলাকায় আনুমানিক ৪০০ পুকুর   বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। শুনই ইউনিয়নের গোয়াতলা পশ্চিম পাড়া,  সহ কালিয়াকালি, ভরতোষী শাহবাজপুর, দরবেশপুর, ভোগাপাড়া, শ্যামপুর মেঘেরকান্দা, চাঁনপুর, পিয়াজকান্দি সহ প্রায় বিশটি গ্রাম বন্যার পানি উঠেছে। বন্যা কবলিত এলাকার কৃষকরা জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আমাদের ধান মণপ্রতি ৫০ টাকা কমে বিক্রি করতে হচ্ছে।
 কোভিড ১৯ করোনা ভাইরাস সংক্রমণে একদিকে জনগণ কর্মহারার কারণে আর্থিক সংকটে আবার বন্যা। ফলে এলাকার  মানুষ এখন দিশেহারা।
 লুনেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মাহফুজুল ইসলাম শিরিনের কাছে  বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, লুনেশ্বর ইউনিয়নে কয়েকটি গ্রাম ব্যতীত সমস্ত ইউনিয়নই বন্যায় কবলিত। নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন জায়গায় ইতিমধ্যে সড়কে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দিয়েছি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও নির্বাহী অফিসার মহোদয় কে বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছি। তিনি আরো জানান ইতিমধ্যে লুনেশ্বর ইউনিয়নের দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়য়ে কিছু পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।  সুখারী ইউপি চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন খোকন তালুকদার জানান ইউনিয়নের প্রায় শতেক পরিবার  আত্মীয় স্বজন সহ অন্যত্র অবস্থান করছে। এবং দেওশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে বারোটি পরিবার  পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। 

 ভাদ্র মাস থেকে আউশ আমন এর রোপন শুরু হবে। যদি বন্যা কবলিত এলাকার পানি কিছুদিনের মধ্যে  না কমে তবে আগামী আউশ-আমন চাষ অত্র এলাকায় অনিশ্চিত হবে। এই তিনটি ইউনিয়ন এবং বানিয়াজান ইউনিয়নে কিছু অংশে আনুমানিক প্রায় দুই হাজার পরিবার পানি বন্দি আছে।