০৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরলাল রায় ও মহেশ চন্দ্র রায় সম্মাননা-২০২৬ অনুষ্ঠিত

কৃষ্ণকুমার কুন্ডু জেলা প্রতিনিধ, নীলফামারী :
  • প্রকাশ : ০১:০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • / 2

কৃষ্ণকুমার কুন্ডু জেলা প্রতিনিধ, নীলফামারী :

নীলফামারীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হরলাল রায় ও মহেশ চন্দ্র রায় সম্মাননা-২০২৬’ এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কিংবদন্তি গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী হরলাল রায় ও মহেশ চন্দ্র রায়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ আয়োজন করে ফিরোজ সাঁই স্মৃতি সংসদ।

বুধবার (৩ জুন ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টায় নীলফামারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সমাজসেবক ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলা লোকসংগীত, ভাওয়াইয়া ও গ্রামীণ সংস্কৃতির বিকাশে হরলাল রায় ও মহেশ চন্দ্র রায়ের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁদের সৃষ্টিকর্ম আজও মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে অনুরণিত হয়। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের জীবন ও কর্মকে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা প্রদান করা হয় বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ রফিকুল ইসলাম, কণ্ঠশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব দুলু সরকার, সাংস্কৃতিক সংগঠক তপন রায়, কণ্ঠশিল্পী বিথী রায়, কণ্ঠশিল্পী কৃষ্ণ কুমার রায়, সমাজসেবক মোছাঃ হুইপুল নেছা, সাংস্কৃতিক সংগঠক প্রশান্ত প্রসাদ সরকার, বিশিষ্ট সমাজসেবক রঞ্জিত তপন রকি এবং কণ্ঠশিল্পী মোঃ শহীদ কবির সজীবকে। সম্মাননা প্রাপ্তদের হাতে ক্রেস্ট, সম্মাননা স্মারক ও উত্তরীয় তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক কর্মী ও সমাজসেবক ছালেক উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেতার কণ্ঠশিল্পী শিশির কুমার রায় (মহেশ চন্দ্র রায়ের পুত্র) এবং রঞ্জিত রায় (হরলাল রায়ের পুত্র)। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাস উদ্দিনের শ্যালক কন্যা নীনা মাসারিক। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন কণ্ঠশিল্পী ও সমাজসেবিকা অ্যাডভোকেট মালা জেসমিন।

আলোচনায় অংশ নেন লেখিকা ও আবৃত্তিকার ফাহিমা আক্তার, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সমাজসেবক মোঃ আগা ছালেকুজ্জামান প্রিন্স (আগা খান), বাংলাদেশ বেতার রংপুরের কণ্ঠশিল্পী মাধব চন্দ্র রায় এবং কণ্ঠশিল্পী ও সাংবাদিক এম. ওমর ফারুক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রেজা হায়দার। আলোচনা পর্ব শেষে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। লোকসংগীত, ভাওয়াইয়া, পল্লীগীতি, দেশাত্মবোধক গান ও নৃত্য পরিবেশনায় দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হন।

অনুষ্ঠানের সফল বাস্তবায়নে বিশেষ সহযোগিতার জন্য ফারুক ভূঁইয়া-সহ সকল শুভানুধ্যায়ী, পৃষ্ঠপোষক, সাংস্কৃতিক সংগঠক, শিল্পী, সাংবাদিক, স্বেচ্ছাসেবক এবং উপস্থিত সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান ফিরোজ সাঁই স্মৃতি সংসদের নেতৃবৃন্দ। আয়োজকরা বলেন, “সংস্কৃতির আলোয় আলোকিত হোক নীলফামারী, সম্মানিত হোক আমাদের গুণীজনেরা।” এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে ভবিষ্যতেও শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশ ও গুণীজনদের সম্মাননায় এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

হরলাল রায় ও মহেশ চন্দ্র রায় সম্মাননা-২০২৬ অনুষ্ঠিত

প্রকাশ : ০১:০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

কৃষ্ণকুমার কুন্ডু জেলা প্রতিনিধ, নীলফামারী :

নীলফামারীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হরলাল রায় ও মহেশ চন্দ্র রায় সম্মাননা-২০২৬’ এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কিংবদন্তি গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী হরলাল রায় ও মহেশ চন্দ্র রায়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ আয়োজন করে ফিরোজ সাঁই স্মৃতি সংসদ।

বুধবার (৩ জুন ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টায় নীলফামারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সমাজসেবক ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলা লোকসংগীত, ভাওয়াইয়া ও গ্রামীণ সংস্কৃতির বিকাশে হরলাল রায় ও মহেশ চন্দ্র রায়ের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁদের সৃষ্টিকর্ম আজও মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে অনুরণিত হয়। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের জীবন ও কর্মকে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা প্রদান করা হয় বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ রফিকুল ইসলাম, কণ্ঠশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব দুলু সরকার, সাংস্কৃতিক সংগঠক তপন রায়, কণ্ঠশিল্পী বিথী রায়, কণ্ঠশিল্পী কৃষ্ণ কুমার রায়, সমাজসেবক মোছাঃ হুইপুল নেছা, সাংস্কৃতিক সংগঠক প্রশান্ত প্রসাদ সরকার, বিশিষ্ট সমাজসেবক রঞ্জিত তপন রকি এবং কণ্ঠশিল্পী মোঃ শহীদ কবির সজীবকে। সম্মাননা প্রাপ্তদের হাতে ক্রেস্ট, সম্মাননা স্মারক ও উত্তরীয় তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক কর্মী ও সমাজসেবক ছালেক উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেতার কণ্ঠশিল্পী শিশির কুমার রায় (মহেশ চন্দ্র রায়ের পুত্র) এবং রঞ্জিত রায় (হরলাল রায়ের পুত্র)। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাস উদ্দিনের শ্যালক কন্যা নীনা মাসারিক। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন কণ্ঠশিল্পী ও সমাজসেবিকা অ্যাডভোকেট মালা জেসমিন।

আলোচনায় অংশ নেন লেখিকা ও আবৃত্তিকার ফাহিমা আক্তার, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সমাজসেবক মোঃ আগা ছালেকুজ্জামান প্রিন্স (আগা খান), বাংলাদেশ বেতার রংপুরের কণ্ঠশিল্পী মাধব চন্দ্র রায় এবং কণ্ঠশিল্পী ও সাংবাদিক এম. ওমর ফারুক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রেজা হায়দার। আলোচনা পর্ব শেষে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। লোকসংগীত, ভাওয়াইয়া, পল্লীগীতি, দেশাত্মবোধক গান ও নৃত্য পরিবেশনায় দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হন।

অনুষ্ঠানের সফল বাস্তবায়নে বিশেষ সহযোগিতার জন্য ফারুক ভূঁইয়া-সহ সকল শুভানুধ্যায়ী, পৃষ্ঠপোষক, সাংস্কৃতিক সংগঠক, শিল্পী, সাংবাদিক, স্বেচ্ছাসেবক এবং উপস্থিত সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান ফিরোজ সাঁই স্মৃতি সংসদের নেতৃবৃন্দ। আয়োজকরা বলেন, “সংস্কৃতির আলোয় আলোকিত হোক নীলফামারী, সম্মানিত হোক আমাদের গুণীজনেরা।” এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে ভবিষ্যতেও শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশ ও গুণীজনদের সম্মাননায় এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।