০৩:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা

মিয়ানমারের কারণে বাংলাদেশ-ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
  • প্রকাশ : ১১:০২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / 57

মিয়ানমার সংকটের কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এ বিষয়ে ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে একটি যৌথ উদ্যোগ গ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটির একটি থিংট্যাংকের আলোচনায় বলেছেন, যে পরিস্থিতি এখন মিয়ানমারে আছে, এই পরিস্থিতির কারণে বিশেষ করে রাখাইনের সঙ্গে যে যুদ্ধ চলছে, এর কারণে আমাদের (বাংলাদেশ) দেশের নিরাপত্তা, আমাদের এবং ভারতের দুটি দেশেরই নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের আরও পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক যেসব গোষ্ঠী আছে, যারা এখানে আছেন, বিশেষ করে ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন—এদের কাছে বিষয়টা উপস্থাপন করা উচিত।
জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান বলেন, এখানে যেটা দেখা যাচ্ছে, রাখাইনরা তাদের যুদ্ধ আমাদের সীমান্তের ওপর ফোকাস করেছে। এটার একটা কারণ হলো—সীমান্তে যে চৌকিগুলো আছে, এগুলো বিচ্ছিন্নভাবে আছে। খুব সহজে তারা দখল করতে পারে। আরেকটা জিনিস হচ্ছে—তাদের এই যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বাংলাদেশ যদি এর সঙ্গে জড়িয়ে যায়, সেখানে রাখাইনরা এটার একটা অ্যাডভানটেজ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
তিনি বলেন, দু’বছর আগে একটা ভিডিও গণমাধ্যমে এসেছিল, যেখানে কিছু রোহিঙ্গা নারীদের এনে ভিডিওটা করা হয়েছে। তাতে যিনি প্রশ্ন করছিলেন, প্রশ্নটা ছিল—আপনারা কি মিয়ানমারের নাকি। তখন ওই নারীরা সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিয়েছে—আমরা মিয়ানমার চিনি না, আমরা এখানেই থাকবো।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, এ জন্য আমি জিনিসটা উপস্থাপন করলাম। কারণ এখানে অনেক রকম দুরভিসন্ধি আছে। তখনকার কিছু ঘটনায় আমরা দেখেছি—রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাকিস্তানি নাগরিকরাও বেশ অ্যাকটিভ ছিল এবং দুই-তিন জন ধরাও পড়েছিল।
বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেন, আমি মনে করি, বিশেষ করে যেহেতু কক্সবাজার আর মিয়ানমার পাশাপাশি এবং ১২ লাখ রোহিঙ্গা বর্তমানে আমাদের এখানে আছে। ফলে সেখানে কিছু সন্ত্রাস হচ্ছে, জঙ্গিবাদের উত্থান হচ্ছে। এগুলো পরবর্তী সময়ে আমাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে বলে অনেকেই মনে করেন। যেটা ডোলান্ড লু তার বক্তব্যে বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমি বলবো, এই ব্যাপারটা নিয়ে বিশেষ করে এখানে চারটি দেশ… ভারত ওতপ্রতভাবে জড়িত। কারণ ভারতেরও নিরাপত্তা, বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতে এটার একটা ইমপ্যাক্ট হতে পারে। সুতরাং, ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র এদের মধ্যে একটা যৌথ উদ্যোগ নেওয়া উচিত, এই বিষয়গুলো দেখার জন্য।

Please Share This Post in Your Social Media

সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা

মিয়ানমারের কারণে বাংলাদেশ-ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে

প্রকাশ : ১১:০২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

মিয়ানমার সংকটের কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এ বিষয়ে ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে একটি যৌথ উদ্যোগ গ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটির একটি থিংট্যাংকের আলোচনায় বলেছেন, যে পরিস্থিতি এখন মিয়ানমারে আছে, এই পরিস্থিতির কারণে বিশেষ করে রাখাইনের সঙ্গে যে যুদ্ধ চলছে, এর কারণে আমাদের (বাংলাদেশ) দেশের নিরাপত্তা, আমাদের এবং ভারতের দুটি দেশেরই নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের আরও পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক যেসব গোষ্ঠী আছে, যারা এখানে আছেন, বিশেষ করে ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন—এদের কাছে বিষয়টা উপস্থাপন করা উচিত।
জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান বলেন, এখানে যেটা দেখা যাচ্ছে, রাখাইনরা তাদের যুদ্ধ আমাদের সীমান্তের ওপর ফোকাস করেছে। এটার একটা কারণ হলো—সীমান্তে যে চৌকিগুলো আছে, এগুলো বিচ্ছিন্নভাবে আছে। খুব সহজে তারা দখল করতে পারে। আরেকটা জিনিস হচ্ছে—তাদের এই যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বাংলাদেশ যদি এর সঙ্গে জড়িয়ে যায়, সেখানে রাখাইনরা এটার একটা অ্যাডভানটেজ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
তিনি বলেন, দু’বছর আগে একটা ভিডিও গণমাধ্যমে এসেছিল, যেখানে কিছু রোহিঙ্গা নারীদের এনে ভিডিওটা করা হয়েছে। তাতে যিনি প্রশ্ন করছিলেন, প্রশ্নটা ছিল—আপনারা কি মিয়ানমারের নাকি। তখন ওই নারীরা সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিয়েছে—আমরা মিয়ানমার চিনি না, আমরা এখানেই থাকবো।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, এ জন্য আমি জিনিসটা উপস্থাপন করলাম। কারণ এখানে অনেক রকম দুরভিসন্ধি আছে। তখনকার কিছু ঘটনায় আমরা দেখেছি—রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাকিস্তানি নাগরিকরাও বেশ অ্যাকটিভ ছিল এবং দুই-তিন জন ধরাও পড়েছিল।
বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেন, আমি মনে করি, বিশেষ করে যেহেতু কক্সবাজার আর মিয়ানমার পাশাপাশি এবং ১২ লাখ রোহিঙ্গা বর্তমানে আমাদের এখানে আছে। ফলে সেখানে কিছু সন্ত্রাস হচ্ছে, জঙ্গিবাদের উত্থান হচ্ছে। এগুলো পরবর্তী সময়ে আমাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে বলে অনেকেই মনে করেন। যেটা ডোলান্ড লু তার বক্তব্যে বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমি বলবো, এই ব্যাপারটা নিয়ে বিশেষ করে এখানে চারটি দেশ… ভারত ওতপ্রতভাবে জড়িত। কারণ ভারতেরও নিরাপত্তা, বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতে এটার একটা ইমপ্যাক্ট হতে পারে। সুতরাং, ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র এদের মধ্যে একটা যৌথ উদ্যোগ নেওয়া উচিত, এই বিষয়গুলো দেখার জন্য।