বালুর চাতালের পানিতে জলাবদ্ধতা ভোগান্তিতে প্রায় ২৫ পরিবারের মানুষ।
- প্রকাশ : ০২:৪৮:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
- / 18
জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।
আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের সাত্তার মেম্বার পাড়ায় বালুর চাতালে পানিতে জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি পরিবারের শতাধিক মানুষ। বসতবাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে চলাচলের রাস্তাঘাট, এমনকি টয়লেট ও রান্নাঘর পর্যন্ত পানিতে ডুবে আছে। এ ছাড়া মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ এসব বালুর চাতাল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির দলের নাম ভাঙিয়ে এসব চাতাল তৈরি করে বালুর ব্যবসা করে আসছে। বালু আনলোডের ফলে বর্ষার শুরুতেই এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে বাইপাস সড়কসহ দৌলতদিয়ার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ বালু ব্যবসা জমজমাট ব্যবসা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা মহাসড়কের পাশে বালুর চাতাল তৈরি করে অবৈধ বালুর ব্যবসা করে আসছে। ফলে ফেরিতে ওঠানামার যানবাহন চলাচল ব্যহত হচ্ছে। পদ্মা নদী থেকে বালুবাহী বাল্কহেডে ভর্তি করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মহাসড়কের পাশে এসব বালুর স্তূপ গড়ে ওঠেছে। ওই চাতাল থেকে বাল নেওয়ার জন্য প্রতিদিন শত শত ড্রাম ট্রাক
ব্যবহহৃত হচ্ছে। ড্রাম ট্রাকের চাকায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি ড্রেন লাইন ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। ফলে বৃষ্টির পানি সড়ক থেকে ড্রেন দিয়ে নদীতে বের করার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। অপরদিকে লাইসেন্স বিহীন অপ্রাপ্ত চালক দিয়ে চালানো হচ্ছে ড্রামট্রাকগুলো।
তবে বিআইডব্লিউটিএ সূত্র থেকে জানা যায়, এ সমস্ত বালুর চাতাল স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হয় এগুলো কোনো জমিই লিজ নেওয়া হয়নি।স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, রাজনৈতিক পরিচয়সম্পন্ন ব্যক্তিদের চাতাল হওয়ায় সরাসরি প্রতিবাদ করার সাহস পান না অনেকেই। দিনের পর দিন পানিবন্দি অবস্থায় থেকে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে নাভিশ্বাসে।
শ্রমিক দলের সভাপতি ও চাতালের বালু ব্যবসায়ী সরোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, ‘আমার চাতালে মাঝে মধ্যে বালু রাখা হয়। সেখান থেকে পানি জমে না বা সেখান থেকে পানি ওই সমস্ত বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ নেই। বরং জগোদিশ সরকার প্রতিদিন ৫-৭টি বলগেট বালু নামায়। তার চাতালের পানিতেই এই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো অবৈধ ব্যবসা চলতে দেওয়া যাবে না। ইতোমধ্যে আমরা মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি, আমরা দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।’
বিআইডব্লিউটিএ বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা আরিচা অঞ্চল সুব্রত রায় বলেন, ‘নদীর আশেপাশে কোনো অবস্থায় বালুর চাতাল করা যাবে না এবং আমরা কোনো অনুমতি দেইনি। গত বছর উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সাথে করে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল এবারও খুব শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে আমি গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলব।’
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন, কয়েকদিন আগে আমরা কয়েকটি গাড়ি আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করেছি এবং তারা মুচলেকা দিয়েছে বলেছে খোলা ট্রাকে বালু পরিবহন করবে না। এ ছাড়া গাড়ি চলাচলের নিয়ম, লোড-আনলোডের বিষয়ে সতর্ক করেছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকেও আমি দেখে আসছি সড়কের পাশে ট্রাকগুলো দাঁড়িয়ে ভেকুর সাহায্যে বালু লোড করছে। আমরা খুব দ্রুত তাদের ডেকে বসব এবং সতর্ক করব, না শোনলে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’



















