শিল্প-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতি নীলফামারীতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা
- প্রকাশ : ০১:২৩:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 3
কৃষ্ণ কুমার কুন্ড নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি
শিল্প-সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় নীলফামারীতে গুণী শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। গান, নৃত্য, নাটক, আবৃত্তি, চারুকলা ও সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দিতে আয়োজন করা হয় জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা ২০২৩-২০২৫।
১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার নীলফামারী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ নায়িরুজ্জামান নাম বিশেষ অতিথি ছিলেন মীর সেলিম ফারুক আহবায়ক জেলা বিএনপি নীলফামারী
অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, সাংস্কৃতিক সংগঠক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সুধীজন অংশ নেন। গুণী শিল্পীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিল্প-সংস্কৃতি একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্বকীয়তার অন্যতম পরিচায়ক। একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও সৃজনশীল সমাজ গঠনে সংস্কৃতিচর্চার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নীলফামারীর শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করে আসছেন। তাঁদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতিচর্চায় আরও উৎসাহিত করবে।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু গুণী শিল্পীদের সম্মাননা প্রদান করলেই হবে না, নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান শিল্পীদের বিকাশের সুযোগও তৈরি করতে হবে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রতিযোগিতা ও শিল্পীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে নীলফামারীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত শিল্প ও সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় নির্বাচিত গুণী শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের হাতে অনুষ্ঠানে সম্মাননা স্মারক ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।
সম্মাননা গ্রহণের পর অনুভূতি প্রকাশ করে কয়েকজন শিল্পী বলেন, দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা তাঁদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। এ ধরনের স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।
অনুষ্ঠানে জেলা শিল্পকলা একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মাননা প্রদান পর্বের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। স্থানীয় শিল্পীদের গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও অন্যান্য পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। পরিবেশনায় উঠে আসে বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা দিক। শিল্পীদের পরিবেশনা উপভোগ করেন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা এবং করতালির মাধ্যমে তাঁদের উৎসাহ দেন।
আয়োজকরা জানান, জেলার শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন এবং নতুন প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন। ভবিষ্যতেও সম্মাননা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশা রয়েছে।
তাঁদের মতে, নীলফামারীর শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের মেধা, শ্রম ও সৃজনশীলতাকে যথাযথভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করা গেলে জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য জাতীয় পর্যায়ে আরও উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরা সম্ভব।
সম্মাননা, আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা ২০২৩-২০২৫ অনুষ্ঠান।



















