০৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন পে-স্কেলে বেসরকারি খাতে মজুরি বাড়ানোর চাপ

আখতারুজ্জামান সোহাগ গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :
  • প্রকাশ : ০১:৩৩:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 1

আখতারুজ্জামান সোহাগ গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :

সরকারের নতুন জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের বেসরকারি খাতেও বেতন ও মজুরি সমন্বয়ের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শ্রমনির্ভর পোশাক শিল্পে এ চাপ উৎপাদন ব্যয় ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উদ্যোক্তারা।

নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি-বেসরকারি খাতে বেতন ব্যবধান বাড়লে দক্ষ কর্মী ধরে রাখতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও মজুরি সমন্বয়ের চাপ বাড়তে পারে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে শ্রমনির্ভর শিল্পে।

ইতোমধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবিও জোরালো হয়েছে। শ্রমিক সংগঠনগুলো নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছে।

উদ্যোক্তাদের উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো, পোশাক খাত ইতোমধ্যে উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি, অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন চাপে রয়েছে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত মজুরি ব্যয় যুক্ত হলে অনেক প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখার মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা না গেলে শুধু বেতন সমন্বয়ের মাধ্যমে শ্রমবাজারের বৈষম্য দূর করা কঠিন হবে।

সরকারি পে-স্কেলকে কেন্দ্র করে বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়টি সরকার পর্যায়েও আলোচনায় এসেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

নতুন পে-স্কেলে বেসরকারি খাতে মজুরি বাড়ানোর চাপ

প্রকাশ : ০১:৩৩:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আখতারুজ্জামান সোহাগ গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :

সরকারের নতুন জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের বেসরকারি খাতেও বেতন ও মজুরি সমন্বয়ের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শ্রমনির্ভর পোশাক শিল্পে এ চাপ উৎপাদন ব্যয় ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উদ্যোক্তারা।

নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি-বেসরকারি খাতে বেতন ব্যবধান বাড়লে দক্ষ কর্মী ধরে রাখতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও মজুরি সমন্বয়ের চাপ বাড়তে পারে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে শ্রমনির্ভর শিল্পে।

ইতোমধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবিও জোরালো হয়েছে। শ্রমিক সংগঠনগুলো নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছে।

উদ্যোক্তাদের উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো, পোশাক খাত ইতোমধ্যে উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি, অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন চাপে রয়েছে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত মজুরি ব্যয় যুক্ত হলে অনেক প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখার মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা না গেলে শুধু বেতন সমন্বয়ের মাধ্যমে শ্রমবাজারের বৈষম্য দূর করা কঠিন হবে।

সরকারি পে-স্কেলকে কেন্দ্র করে বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়টি সরকার পর্যায়েও আলোচনায় এসেছে।