০৯:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুলপুরে নিখোঁজের ২৫ দিন পর জঙ্গলে মিলল তরুণের কঙ্কাল, গ্রেপ্তার ৩

মোঃ হেলাল উদ্দিন সরকার।
  • প্রকাশ : ০৮:০০:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 5

মোঃ হেলাল উদ্দিন সরকার

ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার নিখোঁজের ২৫ দিন পর রাশেদুল ইসলাম (১৯) নামে এক তরুণের কঙ্কালের অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহরণের পর ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি জঙ্গল থেকে রাশেদুলের হাড় ও মাথার খুলি উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় পরিপ্রেক্ষিতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ফুলপুর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন জসিম মিয়া (২৪), রফিক (২৭) ও মোজাম্মেল হক (২৮)। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফুলপুর উপজেলার বওলা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের গারোর ভিটা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা হাড় উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে আরো উদ্ধার করা রাশপদুলের প্যান্ট ও গেঞ্জি। এগুলো দেখে এগুলো রাশেদুলের বলে শনাক্ত করেন তার বাবা মো. শাহজাহান। রাশেদুল বওলা ইউনিয়নের কৃষ্ণ মহেশপট্টি গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহানের বড় ছেলে। তিনি পিতার সঙ্গে ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

​পুলিশ ও রাশেদুলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইটভাটায় কাজ বন্ধ থাকায় কিছুদিন ধরে বাড়িতেই ছিলেন রাশেদুল। এ সময় স্থানীয় তিন যুবকের সঙ্গে তার নিয়মিত চলাফেরা শুরু হয়। গত ১২ আগস্ট রাত ৯টার দিকে জসিম মিয়া নামে এক যুবক ফোনে রাশেদুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি রাশেদুল।
​পরদিন ১৩ আগস্ট সকালে রাশেদুলের ফোন থেকেই তার বাবার নম্বরে কল আসে। এক নারী কণ্ঠে ওই ফোনে রাশেদুলকে অপহরণ করা হয়েছে জানিয়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

মুক্তিপণের টাকা দিতে দুই ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে কয়েক দফা বার্তাও পাঠানো হয়। ওই দিনই ফুলপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রাশেদুলের পিতা।পরে ২৫ আগস্ট জসিম মিয়াকে প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করে থানায় অপহরণ মামলা করেন তিনি।
​মামলাটির তদন্তের একপর্যায়ে রোববার দুপুরে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি জসিম মিয়া (২৪)কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একই গ্রামের মো. রফিক (২৭) ও মোজাম্মেল হক (২৮) নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, জসিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চন্দ্রপুর গ্রামের গারোর ভিটা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে প্রায় ১০ হাত ব্যাসার্ধের এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা হাড়, একটি মাথার খুলি ও পোশাক উদ্ধার করা হয়। পোশাক দেখে সেগুলো নিখোঁজ রাশেদুলের বলে শনাক্ত করেন তার পিতা শাহজাহান।

Please Share This Post in Your Social Media

ফুলপুরে নিখোঁজের ২৫ দিন পর জঙ্গলে মিলল তরুণের কঙ্কাল, গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ : ০৮:০০:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোঃ হেলাল উদ্দিন সরকার

ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার নিখোঁজের ২৫ দিন পর রাশেদুল ইসলাম (১৯) নামে এক তরুণের কঙ্কালের অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহরণের পর ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি জঙ্গল থেকে রাশেদুলের হাড় ও মাথার খুলি উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় পরিপ্রেক্ষিতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ফুলপুর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন জসিম মিয়া (২৪), রফিক (২৭) ও মোজাম্মেল হক (২৮)। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফুলপুর উপজেলার বওলা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের গারোর ভিটা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা হাড় উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে আরো উদ্ধার করা রাশপদুলের প্যান্ট ও গেঞ্জি। এগুলো দেখে এগুলো রাশেদুলের বলে শনাক্ত করেন তার বাবা মো. শাহজাহান। রাশেদুল বওলা ইউনিয়নের কৃষ্ণ মহেশপট্টি গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহানের বড় ছেলে। তিনি পিতার সঙ্গে ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

​পুলিশ ও রাশেদুলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইটভাটায় কাজ বন্ধ থাকায় কিছুদিন ধরে বাড়িতেই ছিলেন রাশেদুল। এ সময় স্থানীয় তিন যুবকের সঙ্গে তার নিয়মিত চলাফেরা শুরু হয়। গত ১২ আগস্ট রাত ৯টার দিকে জসিম মিয়া নামে এক যুবক ফোনে রাশেদুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি রাশেদুল।
​পরদিন ১৩ আগস্ট সকালে রাশেদুলের ফোন থেকেই তার বাবার নম্বরে কল আসে। এক নারী কণ্ঠে ওই ফোনে রাশেদুলকে অপহরণ করা হয়েছে জানিয়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

মুক্তিপণের টাকা দিতে দুই ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে কয়েক দফা বার্তাও পাঠানো হয়। ওই দিনই ফুলপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রাশেদুলের পিতা।পরে ২৫ আগস্ট জসিম মিয়াকে প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করে থানায় অপহরণ মামলা করেন তিনি।
​মামলাটির তদন্তের একপর্যায়ে রোববার দুপুরে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি জসিম মিয়া (২৪)কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একই গ্রামের মো. রফিক (২৭) ও মোজাম্মেল হক (২৮) নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, জসিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চন্দ্রপুর গ্রামের গারোর ভিটা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে প্রায় ১০ হাত ব্যাসার্ধের এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা হাড়, একটি মাথার খুলি ও পোশাক উদ্ধার করা হয়। পোশাক দেখে সেগুলো নিখোঁজ রাশেদুলের বলে শনাক্ত করেন তার পিতা শাহজাহান।