১২:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ী থেকে বিশ্বমঞ্চে সুচনা শেলী কিরগিজস্তানে লালন-হাসন রাজার গানে মুগ্ধ আন্তর্জাতিক দর্শক

আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি।
  • প্রকাশ : ০৭:৪৮:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 3

আক্কাস আলী খান প্রতিনিধি, রাজবাড়ী ঃ

রাজবাড়ীর সদর উপজেলার লক্ষ্মীকোল গ্রামের মেয়ে মরমি সংগীতশিল্পী সুচনা শেলী এবার বাংলাদেশের লোক ও আধ্যাত্মিক সংগীতকে তুলে ধরেছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। কিরগিজ প্রজাতন্ত্রে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নোমাডিক গেমসকে ঘিরে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিজের দল ‘দিব্য জ্ঞানী’কে নিয়ে সংগীত পরিবেশন করে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি।

গত ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর কিরগিজ প্রজাতন্ত্রে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নোমাডিক গেমসের বিভিন্ন আয়োজনে বিশ্বের নানা দেশের শিল্পীদের সঙ্গে অংশ নেন সুচনা শেলী। সেখানে তিনি বাংলার মরমি ও লোকসংগীতের অন্যতম প্রধান শিল্পী লালন শাহ, হাসন রাজা এবং মাতাল রাজ্জাক দেওয়ানের গান পরিবেশন করেন। তার কণ্ঠে বাংলার বাউল ও মরমি সংগীত আন্তর্জাতিক দর্শক-শ্রোতাদের কাছে নতুনভাবে পরিচিতি পায়।

এর আগে ২০২৫ সালে কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত ‘রুখ-সানাত’ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শতাধিক দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন সুচনা শেলী। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার আন্তর্জাতিক নোমাডিক গেমসের সাংস্কৃতিক আয়োজনে আমন্ত্রণ পান তিনি।

সুচনা শেলীর সংগীতজীবনের শুরু বাবার হাত ধরে। তার বাবা জলিল সরদার, যিনি ‘জলিল বাউল’ নামে পরিচিত, তার কাছেই ছোটবেলায় বাউল ও মরমি সংগীতের হাতেখড়ি। চার বোনের মধ্যে সুচনা তৃতীয়। শৈশব থেকেই বাবার কাছে নিয়মিত সংগীতের তালিম নিয়ে ধীরে ধীরে লোকসংগীতের জগতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন তিনি।

লালন শাহর পাশাপাশি হাসন রাজা, ভবা পাগলা, মনমোহন দত্ত, শাহ আবদুল করিম ও মাতাল রাজ্জাক দেওয়ানের গানও নিয়মিত পরিবেশন করেন সুচনা শেলী। তার গানের পরিবেশনায় মরমি দর্শন, বাউল ভাবধারা ও বাংলার লোকজ সংস্কৃতির আবেদন ফুটে ওঠে।

রাজবাড়ীর প্রত্যন্ত একটি গ্রাম থেকে শুরু হওয়া সুচনা শেলীর সংগীতযাত্রা এখন পৌঁছে গেছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে। কিরগিজস্তানের মতো আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশের লোক ও আধ্যাত্মিক সংগীত পরিবেশনের সুযোগ তার ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সুচনা শেলীর এই অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এর মধ্য দিয়ে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকসংগীত, বাউল দর্শন ও মরমি সংস্কৃতির পরিচয়ও তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। রাজবাড়ীর এই শিল্পীর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্যে গর্বিত স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমীরাও।

Please Share This Post in Your Social Media

রাজবাড়ী থেকে বিশ্বমঞ্চে সুচনা শেলী কিরগিজস্তানে লালন-হাসন রাজার গানে মুগ্ধ আন্তর্জাতিক দর্শক

প্রকাশ : ০৭:৪৮:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আক্কাস আলী খান প্রতিনিধি, রাজবাড়ী ঃ

রাজবাড়ীর সদর উপজেলার লক্ষ্মীকোল গ্রামের মেয়ে মরমি সংগীতশিল্পী সুচনা শেলী এবার বাংলাদেশের লোক ও আধ্যাত্মিক সংগীতকে তুলে ধরেছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। কিরগিজ প্রজাতন্ত্রে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নোমাডিক গেমসকে ঘিরে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিজের দল ‘দিব্য জ্ঞানী’কে নিয়ে সংগীত পরিবেশন করে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি।

গত ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর কিরগিজ প্রজাতন্ত্রে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নোমাডিক গেমসের বিভিন্ন আয়োজনে বিশ্বের নানা দেশের শিল্পীদের সঙ্গে অংশ নেন সুচনা শেলী। সেখানে তিনি বাংলার মরমি ও লোকসংগীতের অন্যতম প্রধান শিল্পী লালন শাহ, হাসন রাজা এবং মাতাল রাজ্জাক দেওয়ানের গান পরিবেশন করেন। তার কণ্ঠে বাংলার বাউল ও মরমি সংগীত আন্তর্জাতিক দর্শক-শ্রোতাদের কাছে নতুনভাবে পরিচিতি পায়।

এর আগে ২০২৫ সালে কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত ‘রুখ-সানাত’ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শতাধিক দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন সুচনা শেলী। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার আন্তর্জাতিক নোমাডিক গেমসের সাংস্কৃতিক আয়োজনে আমন্ত্রণ পান তিনি।

সুচনা শেলীর সংগীতজীবনের শুরু বাবার হাত ধরে। তার বাবা জলিল সরদার, যিনি ‘জলিল বাউল’ নামে পরিচিত, তার কাছেই ছোটবেলায় বাউল ও মরমি সংগীতের হাতেখড়ি। চার বোনের মধ্যে সুচনা তৃতীয়। শৈশব থেকেই বাবার কাছে নিয়মিত সংগীতের তালিম নিয়ে ধীরে ধীরে লোকসংগীতের জগতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন তিনি।

লালন শাহর পাশাপাশি হাসন রাজা, ভবা পাগলা, মনমোহন দত্ত, শাহ আবদুল করিম ও মাতাল রাজ্জাক দেওয়ানের গানও নিয়মিত পরিবেশন করেন সুচনা শেলী। তার গানের পরিবেশনায় মরমি দর্শন, বাউল ভাবধারা ও বাংলার লোকজ সংস্কৃতির আবেদন ফুটে ওঠে।

রাজবাড়ীর প্রত্যন্ত একটি গ্রাম থেকে শুরু হওয়া সুচনা শেলীর সংগীতযাত্রা এখন পৌঁছে গেছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে। কিরগিজস্তানের মতো আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশের লোক ও আধ্যাত্মিক সংগীত পরিবেশনের সুযোগ তার ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সুচনা শেলীর এই অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এর মধ্য দিয়ে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকসংগীত, বাউল দর্শন ও মরমি সংস্কৃতির পরিচয়ও তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। রাজবাড়ীর এই শিল্পীর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্যে গর্বিত স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমীরাও।