০৯:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নীলফামারীতে তথ্য গোপনে চাকরি, তদন্তে নিয়োগ বাতিল: উপপরিচালকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

কৃষ্ণ কুমার কুন্ডু নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি
  • প্রকাশ : ০৭:৫৪:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 6

কৃষ্ণ কুমার কুন্ডু নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি

তথ্য গোপন ও ভুয়া তথ্য দেওয়ার অভিযোগে নিয়োগ বাতিল হওয়ার পর নীলফামারী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মোছাদ্দিকুল আলমের বিরুদ্ধে তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ তুলেছেন এক চাকরিপ্রার্থী। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপপরিচালক দাবি করেছেন, ওই নিয়োগের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। প্রকল্প দপ্তরের তদন্ত ও ব্যক্তিগত শুনানি শেষে চাকরিপ্রার্থীর নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, আব্দুল আলীম শেখ এর আগে ‘আব্দুল হক’ নামে ২০১৭ সাল থেকে ২০২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ‘মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রম’ প্রকল্পে জলঢাকা উপজেলার গোলনা ইউনিয়নে কেন্দ্র শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ সময়ে তিনি প্রায় পাঁচ লাখ টাকা সম্মানি ভাতা পেয়েছেন বলে ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের নথি পর্যালোচনায় পাওয়া যায়।

২০২৩ সালের নভেম্বরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ প্রকল্পের আওতায় জলঢাকার কদমতলী মোড় এলাকায় অবস্থিত রিসোর্স সেন্টার পরিচালনার জন্য সাধারণ কেয়ারটেকার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ওই পদে আব্দুল আলীম শেখ নামে আবেদন করে তিনি নিয়োগ পান। পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, আবেদন করার সময় তিনি তার আগের চাকরির তথ্য গোপন করেন। এছাড়া নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী রিসোর্স সেন্টারের দুই কিলোমিটারের মধ্যে আবেদনকারীর বাড়ি থাকার কথা থাকলেও তার বাড়ি ওই কেন্দ্র থেকে প্রায় ৮ থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তার দাখিল করা দাওরা পাসের সনদ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

এসব অভিযোগের পর সাধারণ কেয়ারটেকার পদে আবেদনকারী কয়েকজন প্রার্থী প্রকল্প পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। পরে আব্দুল আলীম শেখকে প্রধান কার্যালয়ে ব্যক্তিগত শুনানির জন্য ডাকা হয়। কাগজপত্র যাচাই ও শুনানি শেষে নামের গরমিল, তথ্য গোপন এবং ভূয়া তথ্য দেওয়ার অভিযোগে প্রকল্প পরিচালক এস এম তরিকুল ইসলাম তার নিয়োগ বাতিল করেন বলে জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

সাধারণ কেয়ারটেকার পদে আবেদনকারী স্থানীয় বাসিন্দা বকুল ইসলাম ও ফরহাদ হোসেন বলেন, আব্দুল আলীম শেখ ভূয়া তথ্য দিয়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন। একই ব্যক্তি নাম ও অন্যান্য তথ্য গোপন করে আগে ‘আব্দুল হক’ নামে একই প্রকল্পে কেন্দ্র শিক্ষক হিসেবে চাকরি করেছেন যা এক ধরনের দণ্ডনীয় অপরাধ। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তার নিয়োগ বাতিল হয়েছে।

এদিকে উপপরিচালক মোছাদ্দিকুল আলম নীলফামারীতে যোগদানের পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে গতি এসেছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী বৃদ্ধি, সরকারি যাকাত ফান্ডে যাকাত আদায় বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে বলে জানা যায়।

সর্বশেষ ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে শিক্ষক ও কেয়ারটেকার নিয়োগ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক এবং উপপরিচালকের নেতৃত্বে মোট ৬২ জন শিক্ষক ও কেয়ারটেকার নিয়োগ অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। এ নিয়োগ ইসলামিক ফাউন্ডেশন নীলফামারীর ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হয়ে থাকবে বলেও দাবি করেন ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের উপপরিচালক মোছাদ্দিকুল আলম।
তার যোগদানের পর শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে কথিত দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ না থাকায় একটি অসাধু মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের চেষ্টা করতেছেন মর্মে তিনি দাবি করেন।

উপপরিচালক মোছাদ্দিকুল আলম বলেন, আব্দুল আলীমের নিয়োগের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই সাবেক উপপরিচালক এ কে এম জাকিউজ্জামানের সময়ে ওই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছিল। আমার সময়ে তথ্য গোপন ও ভূয়া তথ্য দেওয়ার অভিযোগে প্রকল্প দপ্তরের তদন্ত ও শুনানি শেষে তার নিয়োগ বাতিল হয়েছে। তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি তার কাছে তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছি এমন অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অসত্য ও বানোয়াট। তার নিয়োগ বাতিল করার ক্ষমতাও উপপরিচালকের নেই।

প্রকল্প দপ্তরই তদন্ত ও শুনানি শেষে নিয়োগ বাতিল করেছে। অন্যদিকে অফিসের গেস্টরুম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দাপ্তরিক কাজের চাপ বেশি থাকলে মাঝে মাঝে গেস্টরুমে অবস্থান করতে হয় এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। তাই, ব্যক্তিগত অভিযোগের পরিবর্তে প্রকৃত তথ্য ও নথির ভিত্তিতে বিষয়টি মূল্যায়নের আহ্বান জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

নীলফামারীতে তথ্য গোপনে চাকরি, তদন্তে নিয়োগ বাতিল: উপপরিচালকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

প্রকাশ : ০৭:৫৪:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃষ্ণ কুমার কুন্ডু নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি

তথ্য গোপন ও ভুয়া তথ্য দেওয়ার অভিযোগে নিয়োগ বাতিল হওয়ার পর নীলফামারী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মোছাদ্দিকুল আলমের বিরুদ্ধে তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ তুলেছেন এক চাকরিপ্রার্থী। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপপরিচালক দাবি করেছেন, ওই নিয়োগের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। প্রকল্প দপ্তরের তদন্ত ও ব্যক্তিগত শুনানি শেষে চাকরিপ্রার্থীর নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, আব্দুল আলীম শেখ এর আগে ‘আব্দুল হক’ নামে ২০১৭ সাল থেকে ২০২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ‘মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রম’ প্রকল্পে জলঢাকা উপজেলার গোলনা ইউনিয়নে কেন্দ্র শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ সময়ে তিনি প্রায় পাঁচ লাখ টাকা সম্মানি ভাতা পেয়েছেন বলে ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের নথি পর্যালোচনায় পাওয়া যায়।

২০২৩ সালের নভেম্বরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ প্রকল্পের আওতায় জলঢাকার কদমতলী মোড় এলাকায় অবস্থিত রিসোর্স সেন্টার পরিচালনার জন্য সাধারণ কেয়ারটেকার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ওই পদে আব্দুল আলীম শেখ নামে আবেদন করে তিনি নিয়োগ পান। পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, আবেদন করার সময় তিনি তার আগের চাকরির তথ্য গোপন করেন। এছাড়া নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী রিসোর্স সেন্টারের দুই কিলোমিটারের মধ্যে আবেদনকারীর বাড়ি থাকার কথা থাকলেও তার বাড়ি ওই কেন্দ্র থেকে প্রায় ৮ থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তার দাখিল করা দাওরা পাসের সনদ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

এসব অভিযোগের পর সাধারণ কেয়ারটেকার পদে আবেদনকারী কয়েকজন প্রার্থী প্রকল্প পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। পরে আব্দুল আলীম শেখকে প্রধান কার্যালয়ে ব্যক্তিগত শুনানির জন্য ডাকা হয়। কাগজপত্র যাচাই ও শুনানি শেষে নামের গরমিল, তথ্য গোপন এবং ভূয়া তথ্য দেওয়ার অভিযোগে প্রকল্প পরিচালক এস এম তরিকুল ইসলাম তার নিয়োগ বাতিল করেন বলে জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

সাধারণ কেয়ারটেকার পদে আবেদনকারী স্থানীয় বাসিন্দা বকুল ইসলাম ও ফরহাদ হোসেন বলেন, আব্দুল আলীম শেখ ভূয়া তথ্য দিয়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন। একই ব্যক্তি নাম ও অন্যান্য তথ্য গোপন করে আগে ‘আব্দুল হক’ নামে একই প্রকল্পে কেন্দ্র শিক্ষক হিসেবে চাকরি করেছেন যা এক ধরনের দণ্ডনীয় অপরাধ। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তার নিয়োগ বাতিল হয়েছে।

এদিকে উপপরিচালক মোছাদ্দিকুল আলম নীলফামারীতে যোগদানের পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে গতি এসেছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী বৃদ্ধি, সরকারি যাকাত ফান্ডে যাকাত আদায় বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে বলে জানা যায়।

সর্বশেষ ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে শিক্ষক ও কেয়ারটেকার নিয়োগ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক এবং উপপরিচালকের নেতৃত্বে মোট ৬২ জন শিক্ষক ও কেয়ারটেকার নিয়োগ অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। এ নিয়োগ ইসলামিক ফাউন্ডেশন নীলফামারীর ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হয়ে থাকবে বলেও দাবি করেন ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের উপপরিচালক মোছাদ্দিকুল আলম।
তার যোগদানের পর শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে কথিত দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ না থাকায় একটি অসাধু মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের চেষ্টা করতেছেন মর্মে তিনি দাবি করেন।

উপপরিচালক মোছাদ্দিকুল আলম বলেন, আব্দুল আলীমের নিয়োগের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই সাবেক উপপরিচালক এ কে এম জাকিউজ্জামানের সময়ে ওই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছিল। আমার সময়ে তথ্য গোপন ও ভূয়া তথ্য দেওয়ার অভিযোগে প্রকল্প দপ্তরের তদন্ত ও শুনানি শেষে তার নিয়োগ বাতিল হয়েছে। তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি তার কাছে তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছি এমন অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অসত্য ও বানোয়াট। তার নিয়োগ বাতিল করার ক্ষমতাও উপপরিচালকের নেই।

প্রকল্প দপ্তরই তদন্ত ও শুনানি শেষে নিয়োগ বাতিল করেছে। অন্যদিকে অফিসের গেস্টরুম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দাপ্তরিক কাজের চাপ বেশি থাকলে মাঝে মাঝে গেস্টরুমে অবস্থান করতে হয় এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। তাই, ব্যক্তিগত অভিযোগের পরিবর্তে প্রকৃত তথ্য ও নথির ভিত্তিতে বিষয়টি মূল্যায়নের আহ্বান জানান তিনি।