মালয়েশিয়ান প্রবাসীর ওপর হামলা, বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য
- প্রকাশ : ০২:৫৭:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫
- / 29
জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।
তৌহিদ, মাগুরা
মাগুরার শালিকা উপজেলার তালখড়ি ইউনিয়নের ছান্দড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী বিল্লালের যত রকম কুকীর্তি।
১! সে বাড়িতে অবৈধভাবে বন্য প্রাণী হরিণ খাঁচায় বন্দী করে পোষে
২! নিয়মিত হুংকার ছেড়ে হুন্ডি ব্যবসা করে।
৩! বিদেশ নেয়ার নাম করে অসহায় মানুষের কাছে থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে চোরাই ভিসা দিয়ে কাজ দেওয়া
৪!আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার
৫!কোটি টাকার আলিশান গোল্ডেন হাউজের সামনের পিলারের ডিজাইন বাবদ ৪০ লাখ টাকা খরচ এবং ডিজাইন মিস্ত্রি ভারত ও মালয়েশিয়া থেকে নিয়ে এসে কাজ করানো
৬!মালয়েশিয়া প্রবাস থেকে আলাদিনের যাদুর চেরাগ তার হাতে এলাকার জনমনে প্রশ্ন?
৭!এলাকায় দাঙ্গা হাঙ্গামা ও অপরাধ মূলক কাজের সাথে জড়িয়ে ডন হয়ে শাসন করার অভিযোগ

খোঁজ নিয়ে জানা যায়যে, মাগুরার শালিখা উপজেলায় তালখড়ি ইউপির ছান্দড়া গ্রামের মোমরেজ মোল্যার ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী বিল্লাল হোসেনের গাড়িতে গত ২৮ মে বুধবার হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলা তালখড়ি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মনিরুল করেছে বলে বিল্লাল স্থানীয় সাংবাদিকদের জানায়। এই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর গাঁ শিউরে উঠার মতো তথ্য। একাধিক ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বিল্লাল দীর্ঘদিন যাবৎ মালয়েশিয়া প্রবাসী, মাঝে মধ্যে বাড়ীতে এসে এবং বিদেশ থেকে ফোনে কথা বলে। মানুষকে বিদেশে নেওয়ার কথা বলে তালখড়ি, ধনেশ্বরগাতি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী অনেক গ্রাম থেকে শতশত মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। কেউ কিছু বলতে গেলে ব্যবহার করতো দলীয় প্রভাব, কারণ বিল্লাল তালখড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মজনুর আপন বড় ভাই। বিল্লাল মানুষের সাথে প্রতারণা করে গড়েছে সম্পদের পাহাড়, সীমাখালীতে করেছেন দৃষ্টিনন্দন “গোল্ডেন হাউজ” নামে ডুপ্লেক্স বাড়ী।বাড়ীতে বেআইনিভাবে পালন করছে হরিণ। তিনি শুধু বিদেশ নেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েই ক্ষান্ত হয় না, যাদের বিদেশ নেন তাদেরকে রাখেন অবৈধভাবে। সেখানে তারা গোপনে কাজে যেয়ে যে টাকাপয়সা উপার্জন করে, সেটাও তিনি তাদের কাছ থেকে জোর করে নিয়ে নেন। কেউ যদি তাকে টাকা না দেয় তাহলে তাকে সেখান থেকে বের করে দেওয়াসহ করা হয় নির্মম নির্যাতন। এমন কাজ শতশত মানুষের সাথে করেই টাকার পাহাড় গড়েছে সে, পাশাপাশি অবৈধ হুন্ডির ব্যবসা করতো বলে জানা গেছে। শুধু এসব করেই না, অবৈধভাবে বিদেশ নিয়ে তাদের কাগজপত্র ঠিক করার কথা বলে দফায় দফায় বাড়ী থেকে টাকা নেওয়া হতো, তার কথামতো টাকা না দিলে চালানো হতো নির্মম নির্যাতন। এলাকায় তাদের ভয়ে কেউ কোনো কথা বললে দলীয় ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে করা হতো নির্মম নির্যাতন।বিদেশে এখনো শতশত মানুষ বিল্লাল ও তার লোকের কাছে জিম্মি হয়ে আছে।
এবিষয়ে তালখড়ি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মনিরুল বলেন, বিল্লাল মানুষকে বিদেশ নেওয়ার কথা বলে শতশত মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। কেউ কিছু বলতে গেলে তাদেরকে হুমকি ধামকি মারপিট করতো, মজনু ও বিল্লালদের অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ, তারা আমার পরিবারের উপরও কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে। বহু মানুষ তাদের কাছে টাকা পাবে, অনেকে আমার কাছে নালিশ করেছে, আমি তাদের বলেছি তারা বাড়ি থাকে নেই, এসব বলে বুঝ দিয়েছি। গত বুধবার বিল্লালকে চুকি নগর রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে দেখে পাওনাদাররা তাকে ঘিরে ধরে ও তার সাথে বাকবিতন্ডা হয়, উত্তেজিত পাওনাদারদের সাথে তার হাতাহাতি হয় ও গাড়ি ভাংচুর করে। আমি আমার একটা জমি রেজিস্ট্রির কাজে সেখানে ছিলাম, আমি হট্টগোল শুনে সেখানে যায়, আমি নিজে তাকে উদ্ধার করে আড়পাড়া মোহন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। এরা আমার ও দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য মিথ্যা ভিত্তিহীন কথা বলে বেড়াচ্ছে, তার ওপর হামলার সাথে আমি কোনোভাবেই জড়িত না, এখানে ভুক্তভোগী টাকা পাওনাদার ব্যক্তিরাই তার ওপর হামলা করে।
এব্যাপারে মালয়েশিয়া প্রবাসী বিল্লাল মোল্লা, তার জামাই ও পবন শিকদারকে একাধিক বার ফোন করা হলে দেখা করার কথা বলে সে আর যোগাযোগ করে নাই। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তালখড়ি ইউনিয়ন বিএনপির ছাত্র দলের সভাপতি মনিরুল ইসলামের উপর অতর্কিত হামলা করে ও বাড়ি ভাংচুর করে শালিখা উপজেলার তালখড়ি ইউনিয়নের ছ্যান্দাড়া গ্রামের আওয়ামী লীগের মজনু, বিল্লাল, উজির ও রাজেক। আজ বৃহস্পতিবার ২৯ মে বক্তব্য রাখেন তালখড়ি ইউনিয়ন বিএনপির ছাত্র দলের সভাপতি মোঃ মনিরুল ইসলাম পিতা- মৃত মোশাররফ সর্দ্দার, চান আলী মন্ডলের পুত্র জাহাঙ্গীর আলম, ওয়াজেদ আলীর পুত্র ফারুক মোল্লা। তালখড়ি ইউনিয়ন সভাপতি মজনু তার পিতা মমরেজ মোল্লা ও বিল্লাল মোল্লা। মৃত ছানারুদ্দীনের পুত্র কৃষক লীগের ইউনিয়ন কৃষি ঋণ সম্পাদক উজির, ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক রাজেক মোল্লা।
বৃহস্পতিবার ২৯ মে ২০২৫ তারিখে বিকাল ৬ টার সময় মনিরুল ইসলাম জানান বিগত ১৬ বছর অর্থ্যাৎ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগের দিনও বিল্লাল, মজনু, উজির ও রাজেক এদের কারণে ঠিক মতো বাড়িতে আসতে পারিনি, মারধর, বাড়ি ঘর ভাংচুর, লুটপাট ও আমার মাইক্রোবাস গাড়ি পর্যন্ত ভাংচুর করে ছিলো।ঘটনার এব্যাপারে সরজমিনে বিল্লাল মোল্লা, তার জামাই ও তার বন্ধু পবন শিকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোন ক্রমেই সাংবাদিকদের সাথে তো কোন রকম যোগাযোগ করেননি বরং কথা বলতেও গড়িমসি করেন।




















