তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলার সমাপ্তি
- প্রকাশ : ০১:৫৬:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 2

আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি,
গ্রামবাংলার আবহমান ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ নৌকাবাইচ। পদ্মার বুকে বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের হইচই আর তীরে হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাসে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল রাজবাড়ীর কালুখালী। হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর খেয়াঘাটসংলগ্ন পদ্মা নদীতে আয়োজন করা হয় তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার জমজমাট ফাইনাল। পদ্মার বুকে ফাইনাল নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় মিলনমেলায়।
ফাইনাল প্রতিযোগিতায় পাবনার আমিনপুরের চর গোবিন্দপুর নৌকাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে পাবনার সৈয়দপুরের নিউ শাপলা নৌকা। প্রতিযোগিতায় চর গোবিন্দপুর নৌকা দ্বিতীয় এবং খয়রান একতা চ্যালেঞ্জার নৌকা তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
প্রতিযোগিতা ঘিরে নদীপাড়ে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। নৌকাবাইচের পাশাপাশি বসেছিল গ্রামীণ মেলা। মেলায় স্থানীয় নানা পণ্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতির বিভিন্ন উপকরণের সমাহার ঘটে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ মেলা ও নৌকাবাইচ উপভোগ করেন।
ফাইনাল শেষে বিজয়ী ও স্থান অর্জনকারী নৌকার দলগুলোর মধ্যে মোটরসাইকেল, ফ্রিজসহ বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কার পাওয়ার পর বিজয়ী দলের মাঝি ও সদস্যদের মধ্যে দেখা যায় উচ্ছ্বাস।
আয়োজকদের মতে, আধুনিকতার প্রভাবে গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্যবাহী আয়োজন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে লোকজ সংস্কৃতি ও নৌকাবাইচের ঐতিহ্য তুলে ধরতেই এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন মানুষের বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে গ্রামীণ সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির বন্ধনও আরও দৃঢ় হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পদ্মার বুকে নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি গ্রামবাংলার মানুষের শিকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক ঐতিহ্যের নাম। মাঝিদের বৈঠার টানে নৌকার ছুটে চলা আর দর্শকদের উচ্ছ্বাস প্রমাণ করে, সুযোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে হারিয়ে যেতে বসা লোকজ ঐতিহ্যগুলো এখনো মানুষের মনে গভীরভাবে জায়গা করে নিতে পারে।
তিন দিনব্যাপী নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলার সমাপ্তির মধ্য দিয়ে কালুখালীর পদ্মাপাড়ে শেষ হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। তবে বৈঠার ছন্দে পদ্মার বুকে যে ঐতিহ্যের ঢেউ উঠেছিল, তা স্থানীয় মানুষের মনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।



















