০৩:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজায় যুদ্ধ বন্ধে বড় পদক্ষেপ নিতে বলল চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
  • প্রকাশ : ০৭:৫৫:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৪
  • / 99

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধ বন্ধ করতে বড় ধরনের শান্তি সম্মেলন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। একই সঙ্গে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে সময়সীমা নির্ধারণের কথা বলেছেন তিনি। খবর রয়টার্সের।
রোববার কায়রোতে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামেহ শউকরির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ওয়াং বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত মধ্যপ্রাচ্যের বৈধ উদ্বেগের কথা মনোযোগসহকারে শোনা।
তিনি বলেন, আমরা গাজা যুদ্ধ নিয়ে বৃহত্তর, কার্যকর ও ফলপ্রসূ আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলন চাই। একই সঙ্গে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ও রোড ম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানাই। এ ছাড়া ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি আলোচনা দ্রুত শুরুর বিষয়ে সমর্থন করে চীন।
গতকাল শনিবার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার যুদ্ধ ১০০ দিনে গড়ায়। ১০০ দিনের এই যুদ্ধে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ২৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে হামাসের হামলায় ১২০০ ইসরায়েলির প্রাণ গেছে। তবে এত প্রাণহানি হলেও এই যুদ্ধ এখনো থামার কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ নেই। এমন পরিস্থিতির মধ্যে গত সপ্তাহে ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের ওপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন। মূলত ইরানপন্থি এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের সামরিক স্থাপনা নিশানা করেই শুক্রবার ভোরে ও রাতে দুই দফা হামলা হয়েছে।
ইয়েমেনে আবারও হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, লোহিত সাগরে বিদেশি জাহাজে হুতিদের হামলার সক্ষমতা খর্ব করতে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন।
মূলত গত অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হলে হামাসের প্রতি সমর্থন জানায় হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের সমর্থনের অংশ হিসেবে নভেম্বর থেকে লোহিত সাগরে ইসরায়েলগামী ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জাহাজে হামলা করে আসছে তারা। তাদের হামলার ভয়ে বিভিন্ন জাহাজ কোম্পানি হয় লোহিত সাগর এড়িয়ে ভিন্ন পথে গন্তব্যে যাচ্ছে নতুবা চুক্তিই বাতিল করে দিচ্ছে।
অবশ্য চীন সামরিক সংঘাতে সরাসরি কোনো পক্ষ নেয় না। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রভাব ব্যবহার করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিস্থিতি পরিবর্তনের কথা বলেছে বেইজিং।
আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মিসর, তিউনিসিয়া, টোগো ও আইভরি কোস্ট সফর করবেন ওয়াং। গাজা সংঘাত নিয়ে তিনি আরব লিগের মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং লোহিত সাগর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

গাজায় যুদ্ধ বন্ধে বড় পদক্ষেপ নিতে বলল চীন

প্রকাশ : ০৭:৫৫:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৪

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধ বন্ধ করতে বড় ধরনের শান্তি সম্মেলন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। একই সঙ্গে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে সময়সীমা নির্ধারণের কথা বলেছেন তিনি। খবর রয়টার্সের।
রোববার কায়রোতে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামেহ শউকরির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ওয়াং বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত মধ্যপ্রাচ্যের বৈধ উদ্বেগের কথা মনোযোগসহকারে শোনা।
তিনি বলেন, আমরা গাজা যুদ্ধ নিয়ে বৃহত্তর, কার্যকর ও ফলপ্রসূ আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলন চাই। একই সঙ্গে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ও রোড ম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানাই। এ ছাড়া ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি আলোচনা দ্রুত শুরুর বিষয়ে সমর্থন করে চীন।
গতকাল শনিবার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার যুদ্ধ ১০০ দিনে গড়ায়। ১০০ দিনের এই যুদ্ধে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ২৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে হামাসের হামলায় ১২০০ ইসরায়েলির প্রাণ গেছে। তবে এত প্রাণহানি হলেও এই যুদ্ধ এখনো থামার কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ নেই। এমন পরিস্থিতির মধ্যে গত সপ্তাহে ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের ওপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন। মূলত ইরানপন্থি এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের সামরিক স্থাপনা নিশানা করেই শুক্রবার ভোরে ও রাতে দুই দফা হামলা হয়েছে।
ইয়েমেনে আবারও হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, লোহিত সাগরে বিদেশি জাহাজে হুতিদের হামলার সক্ষমতা খর্ব করতে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন।
মূলত গত অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হলে হামাসের প্রতি সমর্থন জানায় হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের সমর্থনের অংশ হিসেবে নভেম্বর থেকে লোহিত সাগরে ইসরায়েলগামী ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জাহাজে হামলা করে আসছে তারা। তাদের হামলার ভয়ে বিভিন্ন জাহাজ কোম্পানি হয় লোহিত সাগর এড়িয়ে ভিন্ন পথে গন্তব্যে যাচ্ছে নতুবা চুক্তিই বাতিল করে দিচ্ছে।
অবশ্য চীন সামরিক সংঘাতে সরাসরি কোনো পক্ষ নেয় না। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রভাব ব্যবহার করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিস্থিতি পরিবর্তনের কথা বলেছে বেইজিং।
আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মিসর, তিউনিসিয়া, টোগো ও আইভরি কোস্ট সফর করবেন ওয়াং। গাজা সংঘাত নিয়ে তিনি আরব লিগের মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং লোহিত সাগর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।