রাজবাড়ীর দৌলতদিয়াতে যৌনকর্মীর মৃত্যু, হামলার অভিযোগ
- প্রকাশ : ০১:৫২:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 3
আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি,
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে কয়েক দিনের ব্যবধানে ফের এক যৌনকর্মীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে হাসি নামের ওই যৌনকর্মীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তাকে দুর্বৃত্তরা হামলা করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বুধবার রাত ১০টার দিকে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে থানা পুলিশের পাশাপাশি ক্রাইমসিন টিম কাজ করছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে হাসি নামের ওই যৌনকর্মীর মৃত্যু হয়। তাকে হামলা করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং মৃত্যুর সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
এর আগে গত ২৯ আগস্ট রাতে একই যৌনপল্লীতে কথিত প্রেমিক মো. জুয়েলের মারধরে গুরুতর আহত হন সোনিয়া আক্তার নামে এক যৌনকর্মী। পরে তাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে তার মৃত্যু হয়।
সোনিয়া আক্তার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর বাড়িওয়ালা তোফাজ্জেল হোসেন তপুর বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন। এ ঘটনায় তোফাজ্জেল হোসেন তপু বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি অজ্ঞাতনামা মামলা করেন। পরে পুলিশ মোঃ জুয়েল (৩৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। তিনি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোঃ লোকমান হোসেন শেখের ছেলে।
সোনিয়া আক্তারের মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একই যৌনপল্লীতে আবারও এক যৌনকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরপর দুটি ঘটনায় যৌনপল্লীর নিরাপত্তা ও সেখানে বসবাসরত নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে হাসির মৃত্যুর পেছনে হামলা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারও সম্পৃক্ততা থাকলে তাদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















