১০:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু, পালানোর সময় জনতার হাতে আটক স্বামী

আখতারুজ্জামান সোহাগ,
  • প্রকাশ : ০১:৫৮:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 3

আখতারুজ্জামান সোহাগ,

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে স্ত্রী শাহিনা আক্তারকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়ামের বিরুদ্ধে। গুরুতর অবস্থায় স্ত্রীকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর জানার পর প্রাইভেটকার চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা সিয়ামকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের বড় শালমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতাল, পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হোসেনপুর ইউনিয়নের মাজহারুল ইসলাম মিতুর ছেলে মোরসেলিম আকাশ সিয়ামের সঙ্গে সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের মৃত শাহাজাদা মিয়ার মেয়ে শাহিনা আক্তারের প্রেমের বিয়ে হয়। তাঁদের দুই শিশু সন্তান রয়েছে। পারিবারিক সূত্রের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় শাহিনাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন সিয়াম।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শাহিনাকে মারধরের পর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পরিবারের অভিযোগ। পরে সিয়াম নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে তাকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসিজি পরীক্ষা করে শাহিনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাহিনার মৃত্যুর খবর জানার পর সিয়াম দ্রুত প্রাইভেটকার চালিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও তিনি চলে যান। পরে হোসেনপুর ইউনিয়নের বড় শালমারা এলাকায় নিজ বাড়ির কাছে পৌঁছালে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সিয়াম মাদকাসক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে শাহিনাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেও তারা দাবি করেছেন।

পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শামা তাবাসসুম জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শাহিনার মৃত্যু হয়েছে। তার গলায় নতুন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

পলাশবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ সরোয়ার আলম খান জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনের সময় নিহতের শরীরে একাধিক পুরোনো আঘাতের চিহ্নের পাশাপাশি গলায় নতুন জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

ঘটনার পর স্বামী সিয়ামকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু, পালানোর সময় জনতার হাতে আটক স্বামী

প্রকাশ : ০১:৫৮:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আখতারুজ্জামান সোহাগ,

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে স্ত্রী শাহিনা আক্তারকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়ামের বিরুদ্ধে। গুরুতর অবস্থায় স্ত্রীকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর জানার পর প্রাইভেটকার চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা সিয়ামকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের বড় শালমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতাল, পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হোসেনপুর ইউনিয়নের মাজহারুল ইসলাম মিতুর ছেলে মোরসেলিম আকাশ সিয়ামের সঙ্গে সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের মৃত শাহাজাদা মিয়ার মেয়ে শাহিনা আক্তারের প্রেমের বিয়ে হয়। তাঁদের দুই শিশু সন্তান রয়েছে। পারিবারিক সূত্রের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় শাহিনাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন সিয়াম।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শাহিনাকে মারধরের পর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পরিবারের অভিযোগ। পরে সিয়াম নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে তাকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসিজি পরীক্ষা করে শাহিনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাহিনার মৃত্যুর খবর জানার পর সিয়াম দ্রুত প্রাইভেটকার চালিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও তিনি চলে যান। পরে হোসেনপুর ইউনিয়নের বড় শালমারা এলাকায় নিজ বাড়ির কাছে পৌঁছালে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সিয়াম মাদকাসক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে শাহিনাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেও তারা দাবি করেছেন।

পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শামা তাবাসসুম জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শাহিনার মৃত্যু হয়েছে। তার গলায় নতুন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

পলাশবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ সরোয়ার আলম খান জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনের সময় নিহতের শরীরে একাধিক পুরোনো আঘাতের চিহ্নের পাশাপাশি গলায় নতুন জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

ঘটনার পর স্বামী সিয়ামকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।