০১:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বন্যায় পানিবন্দি প্রায় ২০ হাজার পরিবার

সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
  • প্রকাশ : ১২:৫৫:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২০
  • / 78

মোঃ শরিফুল ইসলাম,টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলের কালিহাতী, যমুনা, ঝিনাই, নিউ ধলেশ্বরী, পুংলি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার সবকটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ১৩১টি গ্রামের প্রায় বিশ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে, এর মধ্যে ২২৪ টি পরিবার বন্যাজনিত কারণে নদী ভাঙ্গনে সম্পূর্ণভাবে নিঃস্ব হয়ে গেছে। গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নে এক শিশুর প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। বন্যায় ৫২৫ হেক্টর ফসলি জমি ও ৯৪ কি:মি: কাঁচা সড়ক আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝিনাই নদীর কালিহাতি পৌরসভার বৈলানপুর অংশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে পৌর এলাকার লোকালয়ে বন্যার পানি ঢুকে পড়ছে। অপরদিকে গতকাল বুধবার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার জোকারচর পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৭১ সে:মি: উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বলে জানান টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সিরাজুল ইসলাম।
যমুনা, ঝিনাই, নিউ ধলেশ্বরী, পুংলি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকা গোহালিয়াবাড়ী, দুর্গাপুর,সল্লা ও দশকিয়া ইউনিয়ন ছাড়াও বল্লা, পাইকড়া, নাগবাড়ি, নারান্দিয়া, বাংড়া, পারখী, সহদেবপুর, কোকডহরা, বীরবাসিন্দা ইউনিয়ন এবং কালিহাতী ও এলেঙ্গা পৌরসভার অন্তত একশত একত্রিশটি গ্রামে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। এসকল এলাকার পানিবন্দি হাজার হাজার পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় এখন পর্যন্ত কোনও ত্রাণ তৎপরতার খবর পাওয়া যায়নি। পরিবারের অসহায় শিশু,বয়োবৃদ্ধ ও গবাদি পশু বিপাকে পড়েছেন অনেকে। গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের দৈবগাতি গ্রামে গত ১৬ জুলাই এক শিশুর প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন তালুকদার জানান, এবারের বন্যায় তিনশত পঁচানব্বই হেক্টর জমির আমন, বিশ হেক্টর জমির আউস ধান, চল্লিশ হেক্টর জমির সবজি, সাতাঁশি হেক্টর জমির পাট ও বত্রিশ হেক্টর জমির অন্যান্য ফসলসহ মোট ৫২৫ হেক্টর জমির দন্ডায়মান ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আমরা চারা সরবরাহের লক্ষে প্রতিটি ব্লকে তিনটি করে ভাসমান বীজতলা করার নির্দেশনা দিয়েছি। আশা করি কৃষিবান্ধব বর্তমান সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণের ব্যবস্হা করবেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সেহাব উদ্দিন জানান, বন্যা দুর্গতদের মাঝে ইতিমধ্যে গ্রোসিয়াস (জিআর) ক্যাশ রিলিপে এক লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে, বাকি ষাট হাজার টাকা বিতরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।  

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আরা নীপা জানান, বন্যা দুর্গতদের সহায়তায় ৮০ মেট্রিক টন চাল বিতরণের পক্রিয়া শেষের দিকে। 

Please Share This Post in Your Social Media

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বন্যায় পানিবন্দি প্রায় ২০ হাজার পরিবার

প্রকাশ : ১২:৫৫:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২০

মোঃ শরিফুল ইসলাম,টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলের কালিহাতী, যমুনা, ঝিনাই, নিউ ধলেশ্বরী, পুংলি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার সবকটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ১৩১টি গ্রামের প্রায় বিশ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে, এর মধ্যে ২২৪ টি পরিবার বন্যাজনিত কারণে নদী ভাঙ্গনে সম্পূর্ণভাবে নিঃস্ব হয়ে গেছে। গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নে এক শিশুর প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। বন্যায় ৫২৫ হেক্টর ফসলি জমি ও ৯৪ কি:মি: কাঁচা সড়ক আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝিনাই নদীর কালিহাতি পৌরসভার বৈলানপুর অংশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে পৌর এলাকার লোকালয়ে বন্যার পানি ঢুকে পড়ছে। অপরদিকে গতকাল বুধবার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার জোকারচর পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৭১ সে:মি: উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বলে জানান টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সিরাজুল ইসলাম।
যমুনা, ঝিনাই, নিউ ধলেশ্বরী, পুংলি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকা গোহালিয়াবাড়ী, দুর্গাপুর,সল্লা ও দশকিয়া ইউনিয়ন ছাড়াও বল্লা, পাইকড়া, নাগবাড়ি, নারান্দিয়া, বাংড়া, পারখী, সহদেবপুর, কোকডহরা, বীরবাসিন্দা ইউনিয়ন এবং কালিহাতী ও এলেঙ্গা পৌরসভার অন্তত একশত একত্রিশটি গ্রামে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। এসকল এলাকার পানিবন্দি হাজার হাজার পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় এখন পর্যন্ত কোনও ত্রাণ তৎপরতার খবর পাওয়া যায়নি। পরিবারের অসহায় শিশু,বয়োবৃদ্ধ ও গবাদি পশু বিপাকে পড়েছেন অনেকে। গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের দৈবগাতি গ্রামে গত ১৬ জুলাই এক শিশুর প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন তালুকদার জানান, এবারের বন্যায় তিনশত পঁচানব্বই হেক্টর জমির আমন, বিশ হেক্টর জমির আউস ধান, চল্লিশ হেক্টর জমির সবজি, সাতাঁশি হেক্টর জমির পাট ও বত্রিশ হেক্টর জমির অন্যান্য ফসলসহ মোট ৫২৫ হেক্টর জমির দন্ডায়মান ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আমরা চারা সরবরাহের লক্ষে প্রতিটি ব্লকে তিনটি করে ভাসমান বীজতলা করার নির্দেশনা দিয়েছি। আশা করি কৃষিবান্ধব বর্তমান সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণের ব্যবস্হা করবেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সেহাব উদ্দিন জানান, বন্যা দুর্গতদের মাঝে ইতিমধ্যে গ্রোসিয়াস (জিআর) ক্যাশ রিলিপে এক লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে, বাকি ষাট হাজার টাকা বিতরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।  

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আরা নীপা জানান, বন্যা দুর্গতদের সহায়তায় ৮০ মেট্রিক টন চাল বিতরণের পক্রিয়া শেষের দিকে।